বিভিন্ন অনলাইন পোলে সরকারের বিরুদ্ধে ৮০ % জনমত কেন যাচ্ছে খুব ভাবছিলাম ..যারা কনফিউশনে আছেন তারা এই লিখাটা পড়তে পারেন

১৮৪৫ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের কোন নির্দিষ্ট দিন ছিল না। ডিসেম্বরের প্রথম বুধবারের আগে প্রত্যেকটি স্টেইট নিজের ইচ্ছেমত নির্বাচন অনুষ্ঠান করার ৩৪ দিনের একটি উইণ্ডো পাইত। ঐকালে রেলওয়েল, গাড়ি এবং ভালো রাস্তাঘাটের অভাবে ভ্রমণ ছিল অত্যন্ত দুরহ। ভোটগ্রহন, ভোটের ফলাফল পৌছানো ইত্যাদিতে অনেক সময় লাগত। তাই এই নিয়মেই চলে যেত যুক্তরাষ্ট্রের। ১৮৪৫ এ বর্তমান নিয়মটি এডপ্ট করা হয়, নম্ভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার।

রাস্তাঘাট/ফ্লাইওভার/বিশাল সেতু না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের গনতন্ত্রের ব্যাঘাত ঘটে নাই। ১৭৮৯ থেকে আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে একটি বারের মতও নির্বাচন বাতিল হয় নাই, পেছায় নাই, এমনকি গৃহযুদ্ধের সময়ে ১৮৬২,১৮৬৪ এর নির্বাচন ঠিক ঠাক হইছে। ইউনিয়নের যোদ্ধারা তখন দক্ষিণের কনফেডারেটদের কাছে মাইর খাইতেছে, পালে পালে কলেরাতে মারা যাচ্ছে, তারপরেও ফ্রন্টে থেকেও তারা ভোট দিছে। এই বিপুল বিপদের মাঝেও প্রতিটি সৈনিকের ভোট অনেক ক্ষেত্রে জীবনের ঝুকি নিয়েও ইলেকশন অফিশিয়ালরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্লারেশন অফ ইণ্ডিপেণ্ডেন্স, তাদের কন্সটিটিউশন, তাদের কন্সটিটিউশনাল ডিবেইট, ফ্রেঞ্চদের ডিক্লারেশন অফ রাইটস অফ মেন এণ্ড সিটিজেন এইসবকিছুতেই দেখবেন উন্নয়নের গল্প নাই, রাস্তাঘাটের গল্প তেমন নাই।

ক্লাসিকাল লিবেরেলিজমের প্রথম স্বতঃসিদ্ধ হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিস্বত্ত্বার সম্মান। রাষ্ট্রের ভূমিকা মানুষের নিজের ইচ্ছেকে বাস্তবায়নে বাধা না হয়ে দাঁড়ানো। রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অনেকটাই প্যাসিভ।

ধরে নেয়া হয়, আত্নমর্যাদাসম্পন্ন বুদ্ধিমান মানুষের যদি ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো হ্যারাস না করে, তার ক্ষমতা আছে নিজের ভালো নিজে করে নেয়ার। রাষ্ট্রের এইখানে যেকোন রকম অভিভাবকগিরিকে অস্বীকার করা হয়।

আধুনিক যুগে রাষ্ট্রের ভূমিকাকে আরেকটু বাড়িয়ে ধরা হয়। রাষ্ট্রকে ধরা হয় নাগরিকের জন্য অনেকটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করে দিতে। এইকারনেই শিক্ষায়/স্বাস্থ্যে বিনিয়োগের পেছনে যুক্তি তৈরী হয়। তবে আধুনিক রাষ্ট্রের কেন্দ্রেও সেই ব্যক্তিমানুষ। কোন কিছুর মূল্যেই তার অধিকার হরণ করার সুযোগ নেই। কল্যাণ রাষ্ট্র কিছু কিছু খাতকে পাবলিক ওউনারশীপের আওতায় আনলেও , ব্যক্তি অধিকারকে লঙ্গন করে কখনই নয়। বরং রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অভিভাবক নয়, বরং সুহৃদের মত।

সুতরাং আমার দৃষ্টিতে বিষয় খুব সাধারন।

রাস্তঘাট তথা বারোয়ারি উন্নয়নের গল্পের মূল্য আমার কাছে শুন্য যতক্ষণ পর্যন্ত মত/পথের ভিন্নতার রিপ্রেশন চলবে, আনলফুল ডিটেনশন চলবে, ফ্রীডম অফ এক্সপ্রেশনের সুযোগ শুন্য থাকবে, এমনকি সিভিল লিবার্টির মধ্যে একনম্বর যেটি, রাইট টু লাইফ, সেটিরও কোন মূল্য থাকবে না ক্রসফায়ার/গুমের ভীড়ে পরে। ইনডিগনিটির জীবনের মূল্য কনক্রীটের রাস্তাঘাটে হয় না।

নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার ওয়াদা করার পরে সামাজিক চুক্তির ভিত্তিতে রাষ্ট্রের লেজিটিমেসি তৈরী হয়। লেজিটিমেইট রাষ্ট্রের নাগরিকের চলাফেলার, জীবনযাপনের সুবিধার জনে নির্বাহীবিভাগ নানা কাজ করে থাকে। সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেকেণ্ডারী। রাষ্ট্র ক্ষমতার লেজিটিমেসি না থাকলে এইসবকিছুই মূল্যহীন।

আর ইতিহাসের ন্যারেটিভ নিয়া আইডিয়ার জগতে যুদ্ধ চলুক। ইতিহাস আরো সম্মৃদ্ধ হোক। কিন্তু সকল সিভিল এবং পলিটিক্যাল রাইটস কে ঐতিহাসিক ন্যারেটিভের মুখোমুখি দাড় করানোর চেষ্টা মূলত চুড়ান্ত ধরনের বাটপাড়ি।

আর গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে যেই ন্যারেটিভ এখন গিলানো হচ্ছে তার বিপুল অংশই “ডেরিভেটিভ”। নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্যে সেই ইতিহাসের জন্ম হইছিল। সুতরাং সেটি হরণ করার জাস্টিফিকেশন সেই ইতিহাস হইতেই পারে না। যারা এইসব দাবী করতেছে তাদের দাবী না শুনে, নিজে ইতিহাসটুকু পইড়া নেন। এইটা খ্রীষ্টের আগের যুগের ঘটনা না। অধিকাংশ ঘটনার অরিজিন্যাল সোর্স ম্যাটেরিয়ালই পাওয়া যায়। ঘটনার ক্রনলজি এবং ঐ ঘটনাগুলো ঐসময়ে কিভাবে ইন্টারপ্রেট করা হইছিল এইসবেরও দুর্দান্ত কম্পাইলেশন অসংখ্য বইপত্রে আছে। পেটমোটা করার এজেণ্ডা নিয়ে যারা গত দশবছরে আবির্ভূত হয়েছে, আর যাদের পতন হয়েছে, এইসবার কথাবার্তা না শুনলেও, আপনি মোটামুটি ধারনা পেয়েযাবে কেন এবং কিভাবে সবকিছু হয়েছিল।

তাইলে এই সিদ্ধান্তে আপনি নিশ্চিত হইতে পারবেন, আজকে আপনার যেই অধিকারসমূহকে অস্বীকার করা হচ্ছে, সেই অধিকার নিশ্চিত করনের জন্যেই ইতিহাস সংগঠিত হইছিল।

তাইলে শেষ পর্যন্ত মূল বিষয় খুব সাধারন।

কে আপনাকে অধিকার রক্ষার বাস্তবায়ন তো দূরে থাক, প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত লজ্জায় দিতে পারতেছে না।

বাকিটুকু আপনার বিবেচনা।

Leave a comment