স্বাধীন বাংলাদেশ আমার

কোঠা আন্দোলনের সাপোর্ট এ ছিলাম সেই ২০১৮ সাল থেকে এবং এই ২০২৪ সালে এসেও পরামর্শ এবং সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি মনেপ্রাণে। আজ আমার দেশ আওয়ামী নামক জানোয়ারদের থেকে মুক্ত। আজ আমরা বিজয় উল্লাস করবো। বিজয় আমাদের পক্ষেই ছিলো।

কিন্তু গত কয়েকদিন যাবত আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ পরিবর্তন হতে থাকে যেটা আমাকে অনেক ভাবিয়ে তুলেছে। আমি সব সময় অন্যায়ের বিরূদ্ধে কথা বলি এবং আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তা আমি করে যাবো । এটাই আমার নীতি। আমি এই নীতিতেই বিশ্বাসী।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব প্রতিষ্ঠান এ আগুন দেয়া হয়েছে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি ।ঘটনা কে ঘটিয়েছে এটা বড় কথা নয় যদি অন্য কেউ করে থাকে সেও শাস্তি প্রাপ্য ।কিন্তু যদি ছাত্ররা সত্যিই জড়িত থাকে তাহলে তাদেরকেও শাস্তি পেতে হবে ।এটা কোন রাজনৈতিকসহিংস আন্দোলন নয় ।আমি আওমীলীগের পতন বরাবরই চেয়েছি কিন্তু আমার দেশের এক ইঞ্চি ক্ষতি সাধন করে নয় ।হাসপাতাল ,মেট্রোরেল ,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ,ধর্মীয় উপাসনালয় ,সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ভাংচুর আগুন দিয়ে ধংসাত্মক কার্যকলাপ আমি কোনো ভাবেই সমর্থন করি না ।এটা আমার নীতির বাহিরে ।আমাকে অবশ্যই ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে ।
আমার কলম সব সময় অন্যায়ের বিরূদ্ধে তড়িৎ গতিতে চলে ।আজকের পর থেকে কোনো প্রকার সহিংস আচরন যেন ছাত্রদের বা সাধারন জনগণের পক্ষ থেকে না হয় ।এটাকে তোমরা অনুরোধ ভাবতে পারো আবার আদেশ ও ভাবতে পারো ।যা হবার তা হয়েছে এর বাইরে যেনো দেশের বিন্দুমাত্র ক্ষতিসাধন না হয় ।যদি হয় আমি তোমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিবো ।

মনে রেখো,তোমাদের যখন আন্দোলন বা কোটা নিয়ে ধারণা ছিলো না ২০১৭-২০১৮ সাল তখন থেকেই আমি সক্রিয় ভাবে কোটা সংস্কারের পক্ষ নিয়ে আমি আন্দোলন করেছি ।

অতএব আমাকে সঠিক এবং বেঠিক কেউ হুমকি ধামকির মাধ্যমে শেখাতে এসো না । তাহলে এর জবাব ও কঠিন হবে ।

নতুন স্বদেশ গড়ার প্রত্যয়ে

(BILINGUAL)

চুয়াডাঙ্গায় সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেলের গাড়িতে বোমা হামলাকারী গুলিবিদ্ধ যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে; তার নাম খালিদুজ্জামান টিটু, সে সরকারী দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একজন কর্মী।

রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কের দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে পুলিসের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশ।

ঠিক তিনদিন আগে, নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়ার জন্য এই বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যার চক্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি আভাস দেন বিরোধী দল এই হামলাগুলো পরিচালনা করতে পারে।

আওয়ামী লীগের গুণ্ডাদের পুলিসের আস্কারা দেয়া, পুলিসের সামনে হামলা করলেও তাদের গ্রেপ্তার না করা, তাদের পুলিসের সাথে থেকেই বিরোধীদের উপরে হামলা পরিচালনা করার অসংখ্য প্রমাণ আমরা দেখেছি। তাই ছাত্রলীগের বা আওয়ামী লীগের পুলিসের উপরে আক্রোশ থাকার কোন কারণ নেই।

আমাদের এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারন আছে পুলিসের উপরে ছাত্রলীগ পরিচালিত আক্রমণ বিরোধী দলের উপরে দায় চাপিয়ে দেয়ার একটা ষড়যন্ত্র। আমি নিশ্চিত টিটু ধরা না পড়লে এই আক্রমণের দায় জামাত বিএনপির উপরে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হতো।

অবশ্য এখন হয়তো প্রমাণ করার চেষ্টা করা হবে ধৃত যুবক পুলিশের উপরে হামলায় আদৌ যুক্তই ছিলো না।

আশা করি এই ঘটনা থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বুঝতে পারবেন বাংলাদেশে আসলে কী ঘটছে, সরকার কিভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কেন আমি আওয়ামী লীগের পতন চাই। মিথ্যা উন্নয়ন। ২।

রাষ্ট্র একটা প্রতিষ্ঠান। আমি আপনি রাষ্ট্র না। এই প্রতিষ্ঠানটা রাষ্ট্র। এই প্রতিষ্ঠানটার কোন গড গিভেন প্রফেসি নাই যে একশত কোটি টাকার খরচ, দশ গুন বেশী ১ হাজার কোটি টাকায় করে, সেই টাকা বিদেশে পাচার করার যে চর্চা বিগত ১০ বছরে করা হয়েছে এবং প্রশাসনের সব চেয়ে অযোগ্য লোকদেরএক প্রমোট করে সকল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে তারপরেও এই রাষ্ট্র অটোমেটিক আগাইতে থাকবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের মিথ্যা ডাটার বুজরুকির কথা বললে অনেকে বলেন,আরে ধুর বললেই হইলো নাকি ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক আইএমএফ এই গুলো চেক করে। এতো সোজা না।

যারা এই কথা বলে, তাদের কোন আইডিয়া নাই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আইএমঅফ সরকারের দেয়া ডাটা এনালিসিস করে, তারা ফিল্ড লেভেলে তথ্য সংগ্রহ করে না।

এবং ওরা আরো জানেনা,
ফলস একাউন্টিং দিয়ে এনরন বছরের পর বছর শেয়ার মার্কেটের লক্ষ লক্ষ কনশাস বিনিয়োগকারি আর রেগুলেটরি অথরিটি ডিউপ করছে, যাদেরকে নিজের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করতে হয়।পরে মার্কিন কোম্পানি এনরনের যখন পতন হয়েছে, পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসে পতিত হয়েছে।

আর ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক বা আই এম এফ যদি বলে উন্নয়ন হইতেছে তাহলে হইতেছেই এমন প্রফেসি আপনি দাবী করতে পারবেন না । তাদের লোকাল কর্মকর্তাদের ইন্টেরেসট আছে বাংলাদেশের ডেভেলপমেট স্টোরিকে চলমান দেখানো। এই স্টোরিটা চালু রাখা বিভিন্ন ভাবে তাদের অনেকের নিজস্ব বোনাস এবং ভাতার সাথে সংযুক্ত।এবং এইটা তাদের শেয়ার হল্ডারদেরকে জাস্টিফাই করতে হয় যে তাদের টাকায় উন্নতি হইতেছে।

প্লাস ইকনমিক্স কোন প্রপার সাইন্স না। এইটা সোশ্যাল সাইন্স।

আমি বিগত ৩ মাস মিনিমাম চারটা না খেয়ে মরে যাওয়া বা অভাবে আত্মহত্যার নিউজ পেয়েছি। এর মধ্যে শুধু মাত্র ক্ষণিকার খবরটা কিছুটা ভাইরাল হয়েছে। বাকি গুলো পেপার পত্রিকা গুলো চাপিয়ে গ্যাছে।

আমি অনেক মধ্যবিত্তকে এখন চিনি যারা জাস্ট ঠাট বাট রেখে চললেও, নিম্ন বিত্ত লেভেলে চলে গ্যাছে, সন্তানের লেখা পড়ার খরচ দিতে পারছেনা। এবং সন্তানদের জন্যে কোন চাকুরির সুযোগ নাই। এইটা প্রচুর দেখা যাচ্ছে । এবং এইটা আর লুকান কোন সোশাল ফেনোমেনা না। আরো অনেক পরিষ্কার ইঙ্গিত আছে।

আওয়ামী লীগের হাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন যে, ম্যাক্রো ইকোনমির শতাব্দীর সেরা একটা প্রতারণা সেইটার প্রমান পাবেন এই ছবিতে ।
এই ছবিতে মহাকাশ থেকে রাত্রিকালিন আলো দেখা যাচ্ছে।
এই ছবি গুলো
নাসার ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত “ব্ল্যাক মারবেল ডাটা” থেকে নেয়া হয়েছে যেখানে রাত্রিকালিন আলো ২০১২ এবং ২০১৬ এর একটি তুলনা দেখা যাচ্ছে।

মহাকাশ থেকে দেখা রাত্রি কালীন আলো একটা চমৎকার অল্টারনেটিভ ইন্ডেক্স যা দিয়ে পৃথিবীর কোন অংশের ইনিইকুয়ালিটি ডেভেলপমেনট এবং প্রগ্রেসকে বোঝা যায়।

এম্পায়ারিকাল স্টাডি থেকে দেখে গ্যাছে , রাত্রি কালীন আলো যেখানে দুর্বল সেখানে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, জীবন যাত্রার মান সব কিছুই দুর্বল থাকে।

২০১২ সাল থেকে ২০১৬ ভারতের পশ্চিম বঙ্গ থেকে বাংলাদেশের ম্যাপের অংশে তাকায় দেখেন, মাত্র চার বছরে কি অসাধারন ভাবে আলোকিত হয়েছে ভারতের পশ্চিম বঙ্গ এবং তার কাছের এলাকা।

এবং বাংলাদেশ অংশে দেখেন ২০১২ সালের চার বছরের উন্নয়ন, ব্যাঙ্ক লুট, টাকা পাচারের এই চলন্ত মিথ্যা আমাদেরকে কি অন্ধকার অমাবস্যায় নিক্ষেপ করেছে।

দেখেন, ঢাকার কিছু অংশ বাদে দেশের বাকি অংশ কি ভয়াবহ অন্ধকার।

এমন কি ঢাকাই বা কি এমন আলোকিত?

কলকাতা এবং তার পার্শবরতি অঞ্ছল দেখেন, তার আলোর বিস্তার কত বিশাল। আর ঢাকার আলোর বিস্তার কি ছোট একটা জায়গায়।

এই ম্যাপ টাতে বাংলাদেশে ভারতের বর্ডারের কোন চিহ্ন নাই।
বিশ্বাস করেন, ২০১৬ সালের ডাটায় আমি জাস্ট আলোর রেখা ধরে টান দিয়ে গ্যাছি- সেই টান- বাংলাদেশ ভারতের বর্ডার হয়ে গ্যাছে -যেখানে বাংলাদেশ হচ্ছে অন্ধকার আর ভারত আলোকিত। অথচ কলকাতা ভারতের কম প্রবৃদ্ধির এলাকা গুলোর মধ্যে একটা ।

দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই দেখলে আলোর ছটায় আপনার চোখ ঝলসে যাবে, বাংলাদেশের সাথে নাইট লাইটের তুলনায়।

কিন্ত ভারত তো ভারত, ওরা এখনো খোলা আকাশে বাথরুম করে শুশু করে, আর বাংলাদেশ হয়ে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর।

এই প্রচণ্ড ছলনা দিয়ে এরা বছরের পর বছর আমাদের এই অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখে। জিডিপি গ্রোথ , পার ক্যাপিটা ইনকাম বাড়ায় যায় আর বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ হয়ে উঠে বিস্ময়।

৪৮ সেকেন্ডে একটা রোগী দেখে ডাক্তার – যার সামর্থ্য আছে দৌড়ায় ইন্ডিয়া কিন্ত হিউম্যান ডেভেলমেন্ট ইন্ডেক্সে চিকিৎসার মানে আমরা সাউথ এশিয়া কেন বিশ্বের বিস্ময় হয়ে যাই। ল্যান্সেটে প্রকাশিত হয় আমাদের বিস্ময়কর স্বাস্থ্যকর উন্নতির কাভার স্টোরি । আবেদ সাহেবের এনজিওর টাকা ফুলে ফুলে উঠে।

এই ছবিটা দেখে, যে কোন নির্বোধের বোঝার কথা এই তথাকথিত জিডিপি গ্রোথের নামে , উন্নয়নের নামে একটা ভন্ডের দল দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করতে গিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন, জিবিকা এবং সম্ভাবনাকে কি অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে। এবং প্রকৃতই উন্নয়ন যে সব রাষ্ট্রের হচ্ছে তারা কিভাবে ধিরে ধিরে এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করছে।

বাংলাদেশের উন্নতির যে তিনটা প্রধান ইন্ডিকেটর সে সম্পর্কে আগেই বলেছি, বাংলাদেশের অর্থনীতি যত খারাপ হবে তত গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন হবে কারন তাতে মজুরি না বাড়ার কারনে গারমেন্টসে সস্তা শ্রমের জোগান চালু থাকবে।

এবং দেশে রেমিটেন্সের পরিমান বাড়া বা কমা কোন উন্নয়ন নির্দেশ করে না কারন দেশের মাত্র ৭% মানুষ রেমিটেন্সের ইম্প্যাক্টে পড়ে।

এবং সরকার এখন যেভাবে ইন্ডাইরেক্ট ট্যাক্স মানুষের কাছ থেকে ডাকাতি করে রাজস্ব আয় বাড়িয়েছে তা কোন মতেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির বৃদ্ধি নির্দেশ করেনা। বরং এই বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন মানে খুব খারাপ প্রভাব ফেলেছে কারন, এই রাজস্ব মুলত লুটের কাছে ব্যবহৃত হয়েছে জনগণের অর্থনৈতিক প্রগতির জন্যে নয়।

সব কিছু ধ্বংস করে আপনি কেয়ামত সে কেয়ামত ঘি খাবেন তা হয় না। এই বুম বাস্ট সাইকেল অর্থনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অনেক দেশেই ঘটছে।

বাংলাদেশ খুব অল্প দিনেই আর একটা এনরন হইতে যাইতেছে।

মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র এতো বড় বিপর্যয় আর আসে নাই।

যারা আপনার ভোট কেড়ে নিতে চাইতেছে, তাদের বিরুদ্ধে দাড়াতে হবে।

যদি দেখেন আপনার ভোট রিগিং হচ্ছে, সেইটা যদি প্রতিরোধ করতে না পারেন তবে অন্তত সেইটা ভিডিও করে আনতে হবে।
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে, এই ভন্ড লুটেরাদের আসল চিত্র।

এইটা আমাদের দেশ।
মাফিয়াদের হাত থেকে আমাদের হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে।
আমার ভোট আমার অধিকার।
কারো অধিকার নাই, সেই টা ছিনিয়ে নেয়ার।

উন্নয়নের মরিচিকা

এক লোক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- ভাই আপনে কি সবখানেই অন্ধকার দেখেন, আলো দেখেন না?
আমি বললাম-

“বেয়াদবি নেবেন না।

আলোর দিশা পাইতে হইলে বি-পজেটিভ কিউট কিউট সেলেব্রিটির প্রোফাইলে যাবেন। তাদের সবকিছুই পজেটিভ। এইদেশের লোকেরা কিউট কিউট করে হাগে, বাজারে দ্রব্যমূল্যের গোয়ামারা খেয়ে চোখ মুছে কিউট ভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাকিবের খেলা দেখে…. কি কিউট!

দেশের উন্নয়নের গল্প জানতে হইলে সলোমন শকুন্স বা পেপালক মন্ত্রীর ওয়ালে যাবেন। উনারা আপনাকে বুঝিয়ে দেবেন স্ট্যাটিস্টিক্স অনুযায়ী দেশে কোন সমস্যাই নাই, একটাই সমস্যা হইলো যে- কোন সমস্যারই সমাধান নাই।

খালেদা জিয়া তারেক কত খারাপ ভাবে দেশকে রাখছিলল এইটা জানতে বিটিভিতে যাবেন।

নারীরা আগায়া যাচ্ছে – খাড়ায়া ছেলুট হে মেয়ে পাইলট যিনি ককপিট থেকে বের হয়ে দশ নেপালী আলাদা করে বের করে দিয়ে আবার ককপিটে বসে প্লেনক্র‍্যাশে মারা গেছেন- এমন বীরত্বের গপ্পো শুনতে নারীবাদী লোকের প্রোফাইলে যাবেন।

…আরো আছে। এই যে আপনাদের দাদারা লুঙ্গী পইড়া ক্লাস যাইতো, আপনারা যান পালাজ্জো নাইলে জিন্সে, এই যে আপনাদের উন্নয়ন…. ধুর কি বলি না বলি… এই যে আপনারা আগে মোবাইল চিনতেন না এখন হাতে হাতে মোবাইল এইটা তো এই সরকারেরই উন্নয়ন… এইটা সুন্দর করে বুঝায়া দিবে দালালচ্যানেল।

…আর যদি মনে করেন আপনের জীবনে কেউ নাই, জীবনের কোন মানে নাই, লেখাপড়া বালছাল ভাল্লাগেনা কিচ্ছু করার নাই, পড়ার চাপ এত বেশি কেন, কম নাই ক্যান…. এইসব নিয়া ভাবলে সোজা চলে যাবেন শিক্ষামন্ত্রী (ভবিষ্যত) আইমন স্যাডিকের কাছে। উনি উনার কপি করা আইডিয়ার ১০ মিনিটের শর্ট কোর্সে সব ক্লিয়ার করে দিবেন, এবং তার ইউনির বিপদে ভ্যানিস হয়ে যাবেন। বিপদ কাটলে উনি এসে বলবেন – আপনারা যদি আমার ১০ মিনিটের আন্দোলন কোর্সটি করতেন তাইলে…

…এত এত কুতুব লোকজন সারাদিন পজেটিভ বাংলাদেশ খুইজা পাইলো আরর আপনে কিনা মিয়া আমার মতো নেগেটিভ ক্যারেক্টারের কাছে হাজির হইছেন পজিটিভ শুনতে?? ?!!! “

বিভিন্ন অনলাইন পোলে সরকারের বিরুদ্ধে ৮০ % জনমত কেন যাচ্ছে খুব ভাবছিলাম ..যারা কনফিউশনে আছেন তারা এই লিখাটা পড়তে পারেন

১৮৪৫ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের কোন নির্দিষ্ট দিন ছিল না। ডিসেম্বরের প্রথম বুধবারের আগে প্রত্যেকটি স্টেইট নিজের ইচ্ছেমত নির্বাচন অনুষ্ঠান করার ৩৪ দিনের একটি উইণ্ডো পাইত। ঐকালে রেলওয়েল, গাড়ি এবং ভালো রাস্তাঘাটের অভাবে ভ্রমণ ছিল অত্যন্ত দুরহ। ভোটগ্রহন, ভোটের ফলাফল পৌছানো ইত্যাদিতে অনেক সময় লাগত। তাই এই নিয়মেই চলে যেত যুক্তরাষ্ট্রের। ১৮৪৫ এ বর্তমান নিয়মটি এডপ্ট করা হয়, নম্ভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার।

রাস্তাঘাট/ফ্লাইওভার/বিশাল সেতু না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের গনতন্ত্রের ব্যাঘাত ঘটে নাই। ১৭৮৯ থেকে আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে একটি বারের মতও নির্বাচন বাতিল হয় নাই, পেছায় নাই, এমনকি গৃহযুদ্ধের সময়ে ১৮৬২,১৮৬৪ এর নির্বাচন ঠিক ঠাক হইছে। ইউনিয়নের যোদ্ধারা তখন দক্ষিণের কনফেডারেটদের কাছে মাইর খাইতেছে, পালে পালে কলেরাতে মারা যাচ্ছে, তারপরেও ফ্রন্টে থেকেও তারা ভোট দিছে। এই বিপুল বিপদের মাঝেও প্রতিটি সৈনিকের ভোট অনেক ক্ষেত্রে জীবনের ঝুকি নিয়েও ইলেকশন অফিশিয়ালরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্লারেশন অফ ইণ্ডিপেণ্ডেন্স, তাদের কন্সটিটিউশন, তাদের কন্সটিটিউশনাল ডিবেইট, ফ্রেঞ্চদের ডিক্লারেশন অফ রাইটস অফ মেন এণ্ড সিটিজেন এইসবকিছুতেই দেখবেন উন্নয়নের গল্প নাই, রাস্তাঘাটের গল্প তেমন নাই।

ক্লাসিকাল লিবেরেলিজমের প্রথম স্বতঃসিদ্ধ হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিস্বত্ত্বার সম্মান। রাষ্ট্রের ভূমিকা মানুষের নিজের ইচ্ছেকে বাস্তবায়নে বাধা না হয়ে দাঁড়ানো। রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অনেকটাই প্যাসিভ।

ধরে নেয়া হয়, আত্নমর্যাদাসম্পন্ন বুদ্ধিমান মানুষের যদি ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো হ্যারাস না করে, তার ক্ষমতা আছে নিজের ভালো নিজে করে নেয়ার। রাষ্ট্রের এইখানে যেকোন রকম অভিভাবকগিরিকে অস্বীকার করা হয়।

আধুনিক যুগে রাষ্ট্রের ভূমিকাকে আরেকটু বাড়িয়ে ধরা হয়। রাষ্ট্রকে ধরা হয় নাগরিকের জন্য অনেকটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করে দিতে। এইকারনেই শিক্ষায়/স্বাস্থ্যে বিনিয়োগের পেছনে যুক্তি তৈরী হয়। তবে আধুনিক রাষ্ট্রের কেন্দ্রেও সেই ব্যক্তিমানুষ। কোন কিছুর মূল্যেই তার অধিকার হরণ করার সুযোগ নেই। কল্যাণ রাষ্ট্র কিছু কিছু খাতকে পাবলিক ওউনারশীপের আওতায় আনলেও , ব্যক্তি অধিকারকে লঙ্গন করে কখনই নয়। বরং রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অভিভাবক নয়, বরং সুহৃদের মত।

সুতরাং আমার দৃষ্টিতে বিষয় খুব সাধারন।

রাস্তঘাট তথা বারোয়ারি উন্নয়নের গল্পের মূল্য আমার কাছে শুন্য যতক্ষণ পর্যন্ত মত/পথের ভিন্নতার রিপ্রেশন চলবে, আনলফুল ডিটেনশন চলবে, ফ্রীডম অফ এক্সপ্রেশনের সুযোগ শুন্য থাকবে, এমনকি সিভিল লিবার্টির মধ্যে একনম্বর যেটি, রাইট টু লাইফ, সেটিরও কোন মূল্য থাকবে না ক্রসফায়ার/গুমের ভীড়ে পরে। ইনডিগনিটির জীবনের মূল্য কনক্রীটের রাস্তাঘাটে হয় না।

নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার ওয়াদা করার পরে সামাজিক চুক্তির ভিত্তিতে রাষ্ট্রের লেজিটিমেসি তৈরী হয়। লেজিটিমেইট রাষ্ট্রের নাগরিকের চলাফেলার, জীবনযাপনের সুবিধার জনে নির্বাহীবিভাগ নানা কাজ করে থাকে। সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেকেণ্ডারী। রাষ্ট্র ক্ষমতার লেজিটিমেসি না থাকলে এইসবকিছুই মূল্যহীন।

আর ইতিহাসের ন্যারেটিভ নিয়া আইডিয়ার জগতে যুদ্ধ চলুক। ইতিহাস আরো সম্মৃদ্ধ হোক। কিন্তু সকল সিভিল এবং পলিটিক্যাল রাইটস কে ঐতিহাসিক ন্যারেটিভের মুখোমুখি দাড় করানোর চেষ্টা মূলত চুড়ান্ত ধরনের বাটপাড়ি।

আর গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে যেই ন্যারেটিভ এখন গিলানো হচ্ছে তার বিপুল অংশই “ডেরিভেটিভ”। নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্যে সেই ইতিহাসের জন্ম হইছিল। সুতরাং সেটি হরণ করার জাস্টিফিকেশন সেই ইতিহাস হইতেই পারে না। যারা এইসব দাবী করতেছে তাদের দাবী না শুনে, নিজে ইতিহাসটুকু পইড়া নেন। এইটা খ্রীষ্টের আগের যুগের ঘটনা না। অধিকাংশ ঘটনার অরিজিন্যাল সোর্স ম্যাটেরিয়ালই পাওয়া যায়। ঘটনার ক্রনলজি এবং ঐ ঘটনাগুলো ঐসময়ে কিভাবে ইন্টারপ্রেট করা হইছিল এইসবেরও দুর্দান্ত কম্পাইলেশন অসংখ্য বইপত্রে আছে। পেটমোটা করার এজেণ্ডা নিয়ে যারা গত দশবছরে আবির্ভূত হয়েছে, আর যাদের পতন হয়েছে, এইসবার কথাবার্তা না শুনলেও, আপনি মোটামুটি ধারনা পেয়েযাবে কেন এবং কিভাবে সবকিছু হয়েছিল।

তাইলে এই সিদ্ধান্তে আপনি নিশ্চিত হইতে পারবেন, আজকে আপনার যেই অধিকারসমূহকে অস্বীকার করা হচ্ছে, সেই অধিকার নিশ্চিত করনের জন্যেই ইতিহাস সংগঠিত হইছিল।

তাইলে শেষ পর্যন্ত মূল বিষয় খুব সাধারন।

কে আপনাকে অধিকার রক্ষার বাস্তবায়ন তো দূরে থাক, প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত লজ্জায় দিতে পারতেছে না।

বাকিটুকু আপনার বিবেচনা।

সুযোগ্য নেতা

ভদ্রলোক প্রফেশানাল অভিনেতা নন। পাকা আবৃত্তিকার নন। তারপরও কি অবলীলায়, ইফোর্টলেসলি, চমৎকারভাবে কথাগুলো বললেন।
হাত, মুখের অঙ্গভঙ্গিও চমৎকার গ্রেইসফুল। ফেরদৌস, রিয়াজ আর ভাড়াটে মিনিয়নগুলো এত যুগ অভিনয় করে যা শিখেছে ভদ্রলোক ৩ মিনিটে তার চেয়ে বেশি করে দেখালেন। বক্তব্যের ভাষাও উনার মতই মার্জিত, চমৎকার। ভোট দিতে বলেছেন। কোন মার্কায় দিতে হবে সেটা বলেন নি। এর চেয়ে ভালো, ইনক্লুসিভ মেসেজ আর হয় না।

সিরিজ জয় টাইগারদের

ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ানোর কথা ছিল না। ব্যাটে বলে দুর্দান্তই ছিল বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে ম্যাচটি ঠিকই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যে উত্তেজনাকে পাশ কাটিয়ে শেষ হাসি হেসেছে টাইগাররাই। ১৮ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১’এ হারিয়ে সিরিজ জিতেছে মাশরাফির দল।

৩০২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে সেভাবে চড়াও হয়ে খেলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মারমুখী ছিলেন ক্রিস গেইল, করেন ৬৬ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় ৭৩ রান। শাই হোপ ৬৪ করলেও খরচ করেন ৯৪টি বল। শেষদিকে রভম্যান পাওয়েলের ৪১ বলে ৭৩ রানেই জয়ের সম্ভাবনা জেগেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

বাংলাদেশের পক্ষে ২টি উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি।

এর আগে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচের শুরুর অর্ধেকটা মন মতোই করতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। রান বন্যার সেন্ট কিটস মাঠে রানের খোঁজে ধুঁকতে হয়নি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে আবারও রান করেছেন তামিম ইকবাল। শেষদিকে ঝড় তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এই দুইয়ের ব্যাটে ভর করেই মূলত বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছে টাইগাররা। প্রায় বছর দুয়েক পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের মিশনে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ৩০১ রানে।

সিরিজে টানা তৃতীয়বারের মতো টসে জেতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথম ম্যাচে করেন আগে ব্যাটিং, দ্বিতীয় ম্যাচে নেন আগে বোলিং। তৃতীয় ম্যাচে এসে আবারও আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক। জানিয়ে দেন ব্যাট করার জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে সেন্ট কিটসের এই উইকেট।

কিন্তু তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়ের উদ্বোধনী জুটিতে মনেই হয়নি উইকেট ব্যাটিং বান্ধব। আগের দুই ম্যাচে বড় রান করতে ব্যর্থ হওয়া বিজয় এই ম্যাচেও আউট হয়েছেন অল্পতেই। ৩১ বলের ইনিংসে রান করতে পেরেছেন মাত্র ১০। উইকেটে একবারের জন্যও স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি তাকে। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় সিরিজে তৃতীয়বারের মতো তামিমকে একা করে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

jagonews24

আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেও। বন্ধু তামিমের সঙ্গে সাকিব আল হাসান আবারও গড়েন ইনিংসের ভীত গড়ে দেয়া জুটি। তামিমের ধীরস্থির ব্যাটিংয়ের সাথে ছিল সাকিবের উইকেটের চারপাশে রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখা ব্যাটিং। চোখের পলকে মাত্র ১৬ ওভার ব্যাট করে এই জুটিতে যোগ হয় ৮১ রান।

টানা তৃতীয় অর্ধসেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সাকিব ফিরে যান টপ এজ হয়ে স্কয়ার লেগে ধরা পড়ে। আউট হওয়ার আগে সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৩ চারের মারে করেন ৩৭ রানে। খেলেন মাত্র ৪৪টি বল। সাকিব ফিরে গেলেও ক্যারিয়ারের ৪৩তম অর্ধশত তুলে নিতে কোন ভুল করেননি তামিম।

অর্ধশত পেরিয়ে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে নতুন করে ইনিংস গড়ার কাজে মন দেন তামিম। কিন্তু দারুণ শুরু করা মুশফিক অদ্ভুত এক শট খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরে যান মাত্র ১২ রান করে। তার ব্যাট থেকেই আসে ইনিংসের প্রথম ছক্কাটি। দলীয় সংগ্রহ দেড়শ পার করিয়েই সাজঘরে ফিরে যান। অন্যপ্রান্তে অবিচল থেকে যান আস্থার আরেক নাম হয়ে ওঠা তামিম।

চতুর্থ উইকেট জুটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে পেয়ে যেন খানিক নির্ভার হন তামিম। খেলতে শুরু করেন হাত খুলে। জোড়া বাউন্ডারিতে পৌঁছে যান ৮০’র ঘরে। জাগিয়ে তোলেন সিরিজে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। পরে নব্বইয়ের ঘরে ঢুকে ৯২ থেকে এক ছক্কায় চলে যান ৯৮ রানে।

বাকি দুই রান নেন সাবধানী ব্যাটিংয়ে এক-এক করে। তুলে নেন ক্যারিয়ারের একাদশ ও চলতি সিরিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। ব্যক্তিগত ১০৩ রানের মাথায় দেবেন্দ্র বিশুর ওভারে মিড উইকেটে ধরা পড়েন তামিম।

তিন ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও এক ফিফটিতে ২৮৭ রান করে তামিম গড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ভেঙে দেন ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই গড়া দীনেশ রামদিনের ২৭৭ রানের রেকর্ড।

তামিম ফিরে যাওয়ার পরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাব্বির-মোসাদ্দেকের আগেই ব্যাট হাতে নেমে যান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের বলা ‘এই উইকেটে ব্যাটিং সহজ হবে’ কথাটার বাস্তব প্রমাণ দিতেই নেমে যান মাশরাফি। ব্যাটিংয়ে নেমে সময় নেননি খুব বেশি।

অপর প্রান্তে নির্ভরতার প্রতীক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকায় নির্ভয়ে খেলতে পারছিলেন মাশরাফি। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের এক ওভারে হাঁকান পরপর তিন বাউন্ডারি। হোল্ডারের পরের ওভারেই লংঅনের উপর দিয়ে মারেন এক ছক্কা। রিয়াদ-মাশরাফির জুটিতে চোখের পলকে ২৫০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ।

পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৪২ বলে ৫৩ রান পায় বাংলাদেশ। ২৫ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কার মারে ৩৬ রান করে ফেরেন মাশরাফি। অপর প্রান্তে বাংলাদেশ দলের ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে অবিচল ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। স্লগ ওভারে ব্যাটিংয়ে আসেন হার্ডহিটার হিসেবে পরিচিত সাব্বির রহমান।

কিন্তু সাব্বিরের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক খেলছিলেন মাহমুদউল্লাহই। এতোক্ষণ ধরে উইকেটে থেকে বিশাল এক ছক্কার মারে রিয়াদ তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৯তম অর্ধশতক। শুরুতে ব্যাটে-বলে এক করতে পারছিলেন না সাব্বির। ৪৯তম ওভারে পরপর দুই বলে দুটি ৪ মেরে পরের বলেই সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

তবে অপরাজিতই থেকে যান মাহমুদউল্লাহ। শেষপর্যন্ত তার দুর্দান্ত ফিফটিতেই ৩০০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষের দশ ওভারে আসে ৯৬ রান। মাত্র ৪৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কার মারে ৬৭ রান করেন রিয়াদ। ৫ বলে এক চারের মারে ১১ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ছয় উইকেটে ৩০১ রানে।

স্বাগতিকদের পক্ষে দুইটি করে উইকেট নেন অ্যাশলে নার্স ও জেসন হোল্ডার।

ঘুরে দাঁড়াবার, রুখে দেবার ইতিহাস

মার খেতে খেতে, ভয় পেতে পেতে যেকোন মুহূর্তেই তাদের ভয় কেটে যাবে। ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ। এইসব হামলা-মামলা তখন বুমেরাং হয়ে যাবে নিশ্চিত।

ভয়কে জয় করার, রুখে দেবার দিনটি হতে পারে ৩০ ডিসেম্বর। ঘুরে দাঁড়াবার, রুখে দেবার ইতিহাস আছে এই জনপদের।

আবার জাতিকে ধোঁকা, “মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবেনা”। সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবে না

হাইকোটের্র রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা তাতে হাইকোটের্র রায় রয়ে গেছে। যেখানে হাইকোটের্র রায়ে আছে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে ওই কোটার বিষয়ে তারা কীভাবে কোটের্র ওই রায় ভায়োলেট করবেন। সেটা তো তারা করতে পারছেন না। এই রায় অবমাননা করে তখন তো তিনি কনডেম্প অব কোটের্ পড়ে যাবেন। এটা তো কেউ করতেই পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে কোটা পূরণ হবে না, কোটার যেটা খালি থাকবে, তা মেধার তালিকা থেকে নিয়োগ হবে। এটা আমরা করে দিয়েছি। গত কয়েক বছর থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।’

ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর ও আক্রমণ করেছে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উচ্ছৃঙ্খলতা কখনো বরদাশত করা যায় না। ভাঙচুরকারীরা ভিসির বাড়ির ক্যামেরার চিপস নিয়ে গেলেও আশপাশে থাকা ক্যামেরা দেখে তাদের একটা একটা করে খুঁজে বের করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আক্রমণ করেছে, তাদের তো ছাড়া হবে না। তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকে স্বীকারও করছে। যত আন্দোলনই হোক না কেন, এদের ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

কোটা আন্দোলনকারীরা কী চায়, তা সঠিকভাবে বলতে পারে না উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, কোটা নিয়ে আন্দোলন। এটা কী আন্দোলন? ঠিক তারা যে কী চায়, বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, সেটা কিন্তু সঠিকভাবে বলতে পারে না।

তিনি বলেন, আজকে আন্দোলন তারা করছে খুব ভালো কথা। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ছেলেপুলে আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া, গাড়িতে আগুন দিয়ে পোড়ানো, বাড়ি ভাঙচুর করা, বেডরুম পযর্ন্ত পৌঁছে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা, স্টিলের আলমারি ভেঙে গয়না, টাকা-পয়সা সব কিছু লুটপাট করেছে। ভিসির পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে থেকে প্রাণ বঁাচিয়েছেন। এটা কি কোনো শিক্ষাথীর্র কাজ? এটা কি কোনো শিক্ষাথীর্ করতে পারে?

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কথায় কথায় তারা বলে ক্লাস করবে না। ক্লাসে তালা দেয়, ক্ষতিগ্রস্ত কারা হবে? আমরা সেশনজট দূর করেছি। এদের কারণে এখন আবারও সেই সেশনজট। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকা খাবার, কোথায় আছে পৃথিবীর। আজ নতুন নতুন হল বানিয়েছি। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিট ভাড়া আর খাবারে বাজারদর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক।’

মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাবে। টেনশনে আমি বঁাচি না। আমি পুলিশকে, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকমীের্দর বলেছি- এই মেয়েদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।

তিনি বলেন, ‘বলেছি, কোটা সংস্কার আমরা করব। আমি তো বলেছি টোটাল কোটা বাদ দিতে। আমরা তো কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটিও করে দিয়েছি। তারা সেটা দেখছে। তাহলে এদের অসুবিধাটা কোথায়?’

এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

বৃহস্পতিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সরকারপ্রধানের প্রতি এই আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

রওশন বলেন, ‘কোটা নিয়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে অনেক বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে। তারা তো আমাদের সন্তান। তারা তো আবদার করবেই। তারা তো চাকরি চাইবে। তাদের চাকরিতে যেমন করে হোক প্রোভাইড করতে হবে। চাকরি দিতে হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সচেতন আছেন চেষ্টা করছেন। মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব তিনি যেন সহানুভ‚তির দৃষ্টি নিয়ে এই বিষয়টি বিবেচনা করেন।’

চলতি অধিবেশনের বাজেট বক্তৃতাতেও প্রধামন্ত্রীর প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতীয় পাটির্র জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন।
সংসদে পাস হওয়া বাজেট প্রসঙ্গে রওশন বলেন, ‘বাজেটে প্রণোদনা নেই। ব্যাংক লুটপাটকারীদের কর কমানো হয়েছে। ব্যাংক খাতে লুটপাট চলছে। মানুষের করের টাকায় দিতে হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ১৬ লাখ মানুষ ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে।’

সংসদে বক্তব্য দিতে উঠলে রওশন সবসময় খাদ্যে ভেজালের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই প্রসঙ্গ বৃহস্পতিবারও তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুযোগ করে তিনি বলেন, ‘যতবারই বলি প্রধানমন্ত্রী হেসে উড়িয়ে দেন। হেসে উড়িয়ে দেয়ার কথা না। ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে গড়বেন? আবহাওয়া পযর্ন্ত দূষিত। নদী ভালো রাখেনি। আবহাওয়ায় সীসা। এগুলো দেখতে হবে।’

রাজধানীতে যানজট নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা ‘সাহস’ করে কথা বলতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী নেতা।
‘প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি চলাচল করলে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। রাস্তায় যানজট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। অন্য রাস্তায় যাওয়ই যায় না। বৃষ্টিতে সব রাস্তা ভাঙা। কেউ বলে না সাহস করে। এখানে যারা আছেন সবাই জানেন। রোডস হাইওয়ে মন্ত্রী আছেন। কিন্তু কারও সাহস নেই বলার। সবাই যানজটে নাকাল থাকে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নদী থেকে বালু তুলছে। আপনি জনগণের নেতা আপনি বের হয়ে দেখতে না পারলে কিভাবে হবে। বের হয়ে দেখেন। আপনাকে রোধ করতে হবে এগুলো। আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছি আমরা। কত ঝুঁকি নিয়ে নিবার্চন করেছি। আপনি জাতির পিতার কন্যা। আমার কাছে ক্ষমতা থাকলে আমি দেখতাম।’

অথর্বছর পরিবতের্নর দাবি করে রওশন বলেন, ‘অথর্বছর পবিতের্নর কথা বলতে চাই। ব্রিটেনে অথর্বছর শুরু হয় এপ্রিল মাসে। যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে হতে পারে। যখন অর্থবছর শুরু হয় তখন বৃষ্টি আসে। কাজ ঠিকমত করতে পারি না। অথর্বছর পরিবতের্নর বিষয়ে সবাই বিবেচনা করবেন।

ভারতের প্রতি কেবলই কৃতজ্ঞতার সুর হাসিনার গলায়, কৌশলে এড়ালেন তিস্তা প্রসঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শান্তিনিকেতনে বহু প্রতিক্ষীত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করলেন নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৫ মে) উদ্বোধন অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এদিন হাসিনার বক্তব্যজুড়ে ছিল দু’দেশের যৌথ ঐতিহ্য ও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নানা অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা। মুজিবকন্যা এদিন বলেন, ২০১০ সালে ভারত সফরে এসে শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ ব্যাপারে কথা বলেছিলেন তিনি। ভবন নির্মাণের ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রায় ৮ বছরের মাথায় আজ বাস্তবায়িত হল দুই বাংলার স্বপ্ন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন হল গুরুদেবের আশ্রমে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রত্যেকটি কথায় উঠে এসেছে ভারতের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসার কথা।

ছিটমহল বিনিময়, সীমান্ত চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে হাসিনা বলেন, ‘‘মুজিব-ইন্দিরার চুক্তির পর বাংলাদেশে আগেই স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে আইন পাশ হয়ে গেলেও ভারতে সেটা হয়নি। ভারতে দীর্ঘদিন পরে ভারতের সংসদে ‘৭১ সালের মতো দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে সব সংসদ সদস্য মিলে এক হয়ে বিলটি পাশ করে দিল। স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হল।’’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশ যেভাবে ছিটমহল বিনিময় করেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হাসিনা।   হাসিনা বলেন, ‘‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের বড় বন্ধু। ভারতের অবদান আমরা ভুলব না। যে কোনও সমস্যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমাধান করতে পারব। আমাদের উন্নয়নে ভারত সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’’

বক্তব্য রাখার মাঝেই ১৯৭৫ সালের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। কীভাবে সেসময় তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চলেছিল, কীভাবে তাঁর আত্মীয়রা প্রাণ হাতে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন, সেসময় কীভাবে ভারত পাশে দাঁড়িয়েছিল, তারই স্মৃতিচারণা করেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘সেইসময় ভারত যদি আমাদের পাশে না দাঁড়াত, তবে জানি না আমাদের কী হত। সেসময় ভারতের স্নেহছায়া যদি না পেতাম, যদি আমাদের জীবন অন্যদিকে মোড় নিত।’

এদিন রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও উঠে আসে হাসিনার কথায়। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা তাদের তাড়াতে পারিনি। এক্ষেত্রেও আমরা ভারতকে পাশে পেয়েছি।’

বাংলাদেশ ভবনে যে দুই দেশের ভাষা, বাংলা ভাষার চর্চা হবে, তা নিয়ে গবেষণা হবে, এদিনের বক্তৃতায় সেকথাই বারবার বলেছেন শেখ হাসিনা। ‘ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক-এ কথায় বলে নিজের বক্তব্য শেষ করেন হাসিনা।

এদিনের অনুষ্ঠানে কথার বলার মাঝে, একবার তিস্তা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি শেখ হাসিনা। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি এখনও রূপায়িত হয়নি। এই নিয়ে কি অনুষ্ঠানের বাইরে মোদী-হাসিনা আলোচনা হবে না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

এরপরই বক্তৃতা রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তিনিও। সব পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের পাশে থাকার আরও একবার আশ্বাস দেন মোদী।

/সাউথ এশিয়ান মনিটর