কেন আমি আওয়ামী লীগের পতন চাই। মিথ্যা উন্নয়ন। ২।

রাষ্ট্র একটা প্রতিষ্ঠান। আমি আপনি রাষ্ট্র না। এই প্রতিষ্ঠানটা রাষ্ট্র। এই প্রতিষ্ঠানটার কোন গড গিভেন প্রফেসি নাই যে একশত কোটি টাকার খরচ, দশ গুন বেশী ১ হাজার কোটি টাকায় করে, সেই টাকা বিদেশে পাচার করার যে চর্চা বিগত ১০ বছরে করা হয়েছে এবং প্রশাসনের সব চেয়ে অযোগ্য লোকদেরএক প্রমোট করে সকল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে তারপরেও এই রাষ্ট্র অটোমেটিক আগাইতে থাকবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের মিথ্যা ডাটার বুজরুকির কথা বললে অনেকে বলেন,আরে ধুর বললেই হইলো নাকি ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক আইএমএফ এই গুলো চেক করে। এতো সোজা না।

যারা এই কথা বলে, তাদের কোন আইডিয়া নাই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আইএমঅফ সরকারের দেয়া ডাটা এনালিসিস করে, তারা ফিল্ড লেভেলে তথ্য সংগ্রহ করে না।

এবং ওরা আরো জানেনা,
ফলস একাউন্টিং দিয়ে এনরন বছরের পর বছর শেয়ার মার্কেটের লক্ষ লক্ষ কনশাস বিনিয়োগকারি আর রেগুলেটরি অথরিটি ডিউপ করছে, যাদেরকে নিজের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করতে হয়।পরে মার্কিন কোম্পানি এনরনের যখন পতন হয়েছে, পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসে পতিত হয়েছে।

আর ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক বা আই এম এফ যদি বলে উন্নয়ন হইতেছে তাহলে হইতেছেই এমন প্রফেসি আপনি দাবী করতে পারবেন না । তাদের লোকাল কর্মকর্তাদের ইন্টেরেসট আছে বাংলাদেশের ডেভেলপমেট স্টোরিকে চলমান দেখানো। এই স্টোরিটা চালু রাখা বিভিন্ন ভাবে তাদের অনেকের নিজস্ব বোনাস এবং ভাতার সাথে সংযুক্ত।এবং এইটা তাদের শেয়ার হল্ডারদেরকে জাস্টিফাই করতে হয় যে তাদের টাকায় উন্নতি হইতেছে।

প্লাস ইকনমিক্স কোন প্রপার সাইন্স না। এইটা সোশ্যাল সাইন্স।

আমি বিগত ৩ মাস মিনিমাম চারটা না খেয়ে মরে যাওয়া বা অভাবে আত্মহত্যার নিউজ পেয়েছি। এর মধ্যে শুধু মাত্র ক্ষণিকার খবরটা কিছুটা ভাইরাল হয়েছে। বাকি গুলো পেপার পত্রিকা গুলো চাপিয়ে গ্যাছে।

আমি অনেক মধ্যবিত্তকে এখন চিনি যারা জাস্ট ঠাট বাট রেখে চললেও, নিম্ন বিত্ত লেভেলে চলে গ্যাছে, সন্তানের লেখা পড়ার খরচ দিতে পারছেনা। এবং সন্তানদের জন্যে কোন চাকুরির সুযোগ নাই। এইটা প্রচুর দেখা যাচ্ছে । এবং এইটা আর লুকান কোন সোশাল ফেনোমেনা না। আরো অনেক পরিষ্কার ইঙ্গিত আছে।

আওয়ামী লীগের হাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন যে, ম্যাক্রো ইকোনমির শতাব্দীর সেরা একটা প্রতারণা সেইটার প্রমান পাবেন এই ছবিতে ।
এই ছবিতে মহাকাশ থেকে রাত্রিকালিন আলো দেখা যাচ্ছে।
এই ছবি গুলো
নাসার ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত “ব্ল্যাক মারবেল ডাটা” থেকে নেয়া হয়েছে যেখানে রাত্রিকালিন আলো ২০১২ এবং ২০১৬ এর একটি তুলনা দেখা যাচ্ছে।

মহাকাশ থেকে দেখা রাত্রি কালীন আলো একটা চমৎকার অল্টারনেটিভ ইন্ডেক্স যা দিয়ে পৃথিবীর কোন অংশের ইনিইকুয়ালিটি ডেভেলপমেনট এবং প্রগ্রেসকে বোঝা যায়।

এম্পায়ারিকাল স্টাডি থেকে দেখে গ্যাছে , রাত্রি কালীন আলো যেখানে দুর্বল সেখানে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, জীবন যাত্রার মান সব কিছুই দুর্বল থাকে।

২০১২ সাল থেকে ২০১৬ ভারতের পশ্চিম বঙ্গ থেকে বাংলাদেশের ম্যাপের অংশে তাকায় দেখেন, মাত্র চার বছরে কি অসাধারন ভাবে আলোকিত হয়েছে ভারতের পশ্চিম বঙ্গ এবং তার কাছের এলাকা।

এবং বাংলাদেশ অংশে দেখেন ২০১২ সালের চার বছরের উন্নয়ন, ব্যাঙ্ক লুট, টাকা পাচারের এই চলন্ত মিথ্যা আমাদেরকে কি অন্ধকার অমাবস্যায় নিক্ষেপ করেছে।

দেখেন, ঢাকার কিছু অংশ বাদে দেশের বাকি অংশ কি ভয়াবহ অন্ধকার।

এমন কি ঢাকাই বা কি এমন আলোকিত?

কলকাতা এবং তার পার্শবরতি অঞ্ছল দেখেন, তার আলোর বিস্তার কত বিশাল। আর ঢাকার আলোর বিস্তার কি ছোট একটা জায়গায়।

এই ম্যাপ টাতে বাংলাদেশে ভারতের বর্ডারের কোন চিহ্ন নাই।
বিশ্বাস করেন, ২০১৬ সালের ডাটায় আমি জাস্ট আলোর রেখা ধরে টান দিয়ে গ্যাছি- সেই টান- বাংলাদেশ ভারতের বর্ডার হয়ে গ্যাছে -যেখানে বাংলাদেশ হচ্ছে অন্ধকার আর ভারত আলোকিত। অথচ কলকাতা ভারতের কম প্রবৃদ্ধির এলাকা গুলোর মধ্যে একটা ।

দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই দেখলে আলোর ছটায় আপনার চোখ ঝলসে যাবে, বাংলাদেশের সাথে নাইট লাইটের তুলনায়।

কিন্ত ভারত তো ভারত, ওরা এখনো খোলা আকাশে বাথরুম করে শুশু করে, আর বাংলাদেশ হয়ে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর।

এই প্রচণ্ড ছলনা দিয়ে এরা বছরের পর বছর আমাদের এই অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখে। জিডিপি গ্রোথ , পার ক্যাপিটা ইনকাম বাড়ায় যায় আর বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ হয়ে উঠে বিস্ময়।

৪৮ সেকেন্ডে একটা রোগী দেখে ডাক্তার – যার সামর্থ্য আছে দৌড়ায় ইন্ডিয়া কিন্ত হিউম্যান ডেভেলমেন্ট ইন্ডেক্সে চিকিৎসার মানে আমরা সাউথ এশিয়া কেন বিশ্বের বিস্ময় হয়ে যাই। ল্যান্সেটে প্রকাশিত হয় আমাদের বিস্ময়কর স্বাস্থ্যকর উন্নতির কাভার স্টোরি । আবেদ সাহেবের এনজিওর টাকা ফুলে ফুলে উঠে।

এই ছবিটা দেখে, যে কোন নির্বোধের বোঝার কথা এই তথাকথিত জিডিপি গ্রোথের নামে , উন্নয়নের নামে একটা ভন্ডের দল দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করতে গিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন, জিবিকা এবং সম্ভাবনাকে কি অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে। এবং প্রকৃতই উন্নয়ন যে সব রাষ্ট্রের হচ্ছে তারা কিভাবে ধিরে ধিরে এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করছে।

বাংলাদেশের উন্নতির যে তিনটা প্রধান ইন্ডিকেটর সে সম্পর্কে আগেই বলেছি, বাংলাদেশের অর্থনীতি যত খারাপ হবে তত গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন হবে কারন তাতে মজুরি না বাড়ার কারনে গারমেন্টসে সস্তা শ্রমের জোগান চালু থাকবে।

এবং দেশে রেমিটেন্সের পরিমান বাড়া বা কমা কোন উন্নয়ন নির্দেশ করে না কারন দেশের মাত্র ৭% মানুষ রেমিটেন্সের ইম্প্যাক্টে পড়ে।

এবং সরকার এখন যেভাবে ইন্ডাইরেক্ট ট্যাক্স মানুষের কাছ থেকে ডাকাতি করে রাজস্ব আয় বাড়িয়েছে তা কোন মতেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির বৃদ্ধি নির্দেশ করেনা। বরং এই বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন মানে খুব খারাপ প্রভাব ফেলেছে কারন, এই রাজস্ব মুলত লুটের কাছে ব্যবহৃত হয়েছে জনগণের অর্থনৈতিক প্রগতির জন্যে নয়।

সব কিছু ধ্বংস করে আপনি কেয়ামত সে কেয়ামত ঘি খাবেন তা হয় না। এই বুম বাস্ট সাইকেল অর্থনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অনেক দেশেই ঘটছে।

বাংলাদেশ খুব অল্প দিনেই আর একটা এনরন হইতে যাইতেছে।

মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র এতো বড় বিপর্যয় আর আসে নাই।

যারা আপনার ভোট কেড়ে নিতে চাইতেছে, তাদের বিরুদ্ধে দাড়াতে হবে।

যদি দেখেন আপনার ভোট রিগিং হচ্ছে, সেইটা যদি প্রতিরোধ করতে না পারেন তবে অন্তত সেইটা ভিডিও করে আনতে হবে।
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে, এই ভন্ড লুটেরাদের আসল চিত্র।

এইটা আমাদের দেশ।
মাফিয়াদের হাত থেকে আমাদের হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে।
আমার ভোট আমার অধিকার।
কারো অধিকার নাই, সেই টা ছিনিয়ে নেয়ার।

Leave a comment