ধর্ম, জামাত ও জঙ্গিবাদ

ধর্মের দোহাই দিয়ে জামাত ইসলাম বহুদিন ধরে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে এটা আমাদের ব্যর্থতা । এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না । আর এর জন্যে আমরা সবাই দায়ি। খুনি হাসিনা ১৯৯১সাল থেকে শুরু করে এরপর খালেদা জিয়া ১৯৯৬, ২০০১, ও ২০০৭ সালে জামাতের সাথে রাজনৈতিক জোট গঠন করে আরও জামাতের রাজনীতিকে সক্রিয় করে তোলে । জামাতের উত্থান জন্য আওয়ামী লীগ এবং বি এন পি দুই দলই সমান ভাবে দোষী । ক্ষমতার নেশায় দুই দলই বাংলাদেশের এক অপূরণীয় ক্ষতি করে গেছে।

কলুষিত জামাতের হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ জঙ্গিদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে। এই সেই জামাত যারা কিনা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল , এবং হাজার হাজার মা বোনদের ইজ্জত ছিনিয়ে নিয়েছিল। অথচ এরাই আজ ৩৮% ভোট পায় তাও আবার বাংলাদেশের মাটিতে। এর চেয়ে খারাপ কিছু আর কি হতে পারে?

আমি আমজনতার “তারেকের” কথার সাথে একমত। তিনি একটি টকশোতে কোনো রাগ ডাক না রেখেই জামাত ইসলামি দলকে একটি “ধর্ষক দল” বলে ডেকেছেন এবং আমি এর সাথে পুরোপুরিভাবে একমত। এই ধর্ষকরা আজ বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যাতে করে পরবর্তীতে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীতে পরিচয় করে দিতে পারে। তাঁরা চায় আফগানিস্তান হতে, তাঁরা চায় পাকিস্তানের মত জঙ্গি রাষ্ট্র হতে। কিন্তু আমরা তা হতে দিব না। আর এসব কিছু করার জন্যে তাঁরা ধর্মকে ব্যবহার করে। তাঁরা ধর্মের সুযোগে সাধারন মানুষের মনে জঙ্গিবাদ উস্কে দিচ্ছে যেন বিনা বাঁধায় নিরপরাদ ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষকে হত্যা করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কোনদিনও তা মেনে নিবে না। এরা দেশের সাথে মুনাফেকি করেছে , দেশের মানুষের সাথে মুনাফেকি করেছে । এদের কোন ছাড় দেয়া চলবে না।

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলি যদি দেখেন তাহলেই বুঝতে পারবেন ধর্মের নামে এরা কি করছে। প্রথমত, সাতক্ষীরার এম পি গাজী নজরুল এর শয়তানি পুরা শয়তান বংশকে ছাড়িয়ে গেছে। সাদা পাঞ্জাবী , টুপী পরে এরা ধর্মের দল পরিচয় দিয়ে ১৬ বছরের মেয়ের সাথে বিসমিল্লাহ্‌ বলে যেনা করে। এরপর আবার এদের পক্ষ হয়ে কিছু ধর্মান্ধ সাপোর্টার বলে বিসমিল্লাহ্‌ বলে ধর্ষণ করেছে এতে কোন প্রব্লেম নাই, কারন ধর্ষণের নতুন নাম সেবা তাঁদের কাছে। মানে ধর্মের ট্যাগ থাকলেই, আর দাঁড়ি টুপী থাকলেই ব্যাস সব হালাল হয়ে যায়। ভয় ভীতি দেখিয়ে কিশোরী দের টার্গেট করে তাদেরকে ধর্ষন করছে এই ধর্ম ধর্মব্যবসায়ীরা। কয়েকজন ধরা পড়ছে বাকিরা অন্তরালে বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের জীবন নষ্ট করছে । নাহয় কিভাবে ৭৫ বছরের বৃদ্ধ অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের সাথে এমন নোংরা কাজ করতে পারে এই আধুনিক যুগে এসে ?

দ্বিতীয়ত, মিরপুরের শাহ্‌ আলি মাজারে এরা হামলা করেছে এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে কিন্তু কই কিছুই তো হোল না। প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয় নি। সাধারন মানুষের আহাজারি কেউ শুনে না।

তৃতীয়ত, ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার কি হয়েছে ? কিছুই না । এসব থেকেই বুঝা যায় এই জামাতিরা দেশের সব কিছুর উপর কব্জা করে ফেলেছে। এরা চায় কেউ যেন তাঁদের বিরুদ্ধে কথা না বলুক। মানুষের বাক স্বাধীনতা তাঁরা কেড়ে নিতে চায়। এদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই এরা ধর্মের কথা বলে, ধর্ম অবমাননা মামলা দিয়ে মানুষের উপর নির্যাতন চালায়।

এরকম হাজারো ঘটনা ধামাচাপা হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। আর এসবের মূল কলকাঠি নারছে জামাতের আমির সাদা শয়তানটা শফিকুর রাহমান। জামাতের সবাই ছোট বড় নেতা থেকে শুরু করে সাপোর্টার সবাই এইসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। সবাই এক একটা ধর্ষক, জঙ্গি। এই সাদা শয়তান শফিকুর রাহমানসহ জামাতের সব বড় মাপের নেতাদের বিরুদ্ধে ভাল করে তদন্ত করলে এইরকম আরও হাজারো ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

এখানেই শেষ নয়, এই যে ৩৮% মানুষ জামাতিদের (মুনাফিকদের) ভোট দিয়ে মাথায় তুলে নিলএরাও মুনাফিকের নামে নিজেদের নাম লিখিয়ে নিয়েছেন। দলের আমির নারী নেতৃত্ব চায় না তাকে আপনারা কি বলে ডাকবেন? আমিতো উনাকে আরও বড় খারাপ নামে ডাকতে চাই। এনিই হলেন জঙ্গির কমান্ডার, মুসলিম লেবাসধারি একজন ধর্ম বিক্রেতা। যে কিনা ধর্মের নাম করে, ইসলামের নাম করে মানুষের দুর্বল জায়াগায় আঘাত করে এদেরকে জঙ্গি বানায় এবং দেশের সাথে মুনাফেকি করায়। সুধু শফিকুর নন যারা এদেরকে ভোট দিছে সবাইকে বয়কট করতে হবে, আইনের আওতায় আনতে হবে। আর তা না হলে দেশে আবার যুদ্ধ হবে, কিন্তু এবার আর কাউকে মাপ করা হবে না।

ধর্মের অপব্যাখ্যা: উগ্রবাদের বিপদ

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে উগ্রবাদ একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়, যা শুধু নিরাপত্তা নয়, সমাজের মূল্যবোধ ও সহাবস্থানের জন্যও হুমকি। কিছু উগ্রবাদী দল ধর্মের অপব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, এমনকি “জান্নাতের টিকিট” বিক্রির মতো ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগাচ্ছে। এই ধরনের প্রতারণা শুধু ধর্মের অপমানই নয়, বরং সরলমনা মানুষদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছে।

এছাড়া, নির্বাচনকে ঘিরেও নানা বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে আসে—কখনো কম ভোটার উপস্থিতি, কখনো অনিয়ম বা প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই ধরনের পরিস্থিতি জনগণের আস্থা দুর্বল করে এবং উগ্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। তবে এসব বিষয় নিয়ে দায়িত্বশীলভাবে কথা বলা এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে মত প্রকাশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উগ্রবাদ কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না; এটি কেবল ধ্বংস, বিভাজন ও ভয় সৃষ্টি করে। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে—ধর্মীয় মূল্যবোধকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে, গুজব ও প্রোপাগান্ডা থেকে দূরে থাকতে হবে, এবং যুক্তিবাদী চিন্তা চর্চা করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ একসাথে কাজ করলে তরুণ প্রজন্মকে এই বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিকতাই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।

উন্নয়নের মরিচিকা

এক লোক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- ভাই আপনে কি সবখানেই অন্ধকার দেখেন, আলো দেখেন না?
আমি বললাম-

“বেয়াদবি নেবেন না।

আলোর দিশা পাইতে হইলে বি-পজেটিভ কিউট কিউট সেলেব্রিটির প্রোফাইলে যাবেন। তাদের সবকিছুই পজেটিভ। এইদেশের লোকেরা কিউট কিউট করে হাগে, বাজারে দ্রব্যমূল্যের গোয়ামারা খেয়ে চোখ মুছে কিউট ভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাকিবের খেলা দেখে…. কি কিউট!

দেশের উন্নয়নের গল্প জানতে হইলে সলোমন শকুন্স বা পেপালক মন্ত্রীর ওয়ালে যাবেন। উনারা আপনাকে বুঝিয়ে দেবেন স্ট্যাটিস্টিক্স অনুযায়ী দেশে কোন সমস্যাই নাই, একটাই সমস্যা হইলো যে- কোন সমস্যারই সমাধান নাই।

খালেদা জিয়া তারেক কত খারাপ ভাবে দেশকে রাখছিলল এইটা জানতে বিটিভিতে যাবেন।

নারীরা আগায়া যাচ্ছে – খাড়ায়া ছেলুট হে মেয়ে পাইলট যিনি ককপিট থেকে বের হয়ে দশ নেপালী আলাদা করে বের করে দিয়ে আবার ককপিটে বসে প্লেনক্র‍্যাশে মারা গেছেন- এমন বীরত্বের গপ্পো শুনতে নারীবাদী লোকের প্রোফাইলে যাবেন।

…আরো আছে। এই যে আপনাদের দাদারা লুঙ্গী পইড়া ক্লাস যাইতো, আপনারা যান পালাজ্জো নাইলে জিন্সে, এই যে আপনাদের উন্নয়ন…. ধুর কি বলি না বলি… এই যে আপনারা আগে মোবাইল চিনতেন না এখন হাতে হাতে মোবাইল এইটা তো এই সরকারেরই উন্নয়ন… এইটা সুন্দর করে বুঝায়া দিবে দালালচ্যানেল।

…আর যদি মনে করেন আপনের জীবনে কেউ নাই, জীবনের কোন মানে নাই, লেখাপড়া বালছাল ভাল্লাগেনা কিচ্ছু করার নাই, পড়ার চাপ এত বেশি কেন, কম নাই ক্যান…. এইসব নিয়া ভাবলে সোজা চলে যাবেন শিক্ষামন্ত্রী (ভবিষ্যত) আইমন স্যাডিকের কাছে। উনি উনার কপি করা আইডিয়ার ১০ মিনিটের শর্ট কোর্সে সব ক্লিয়ার করে দিবেন, এবং তার ইউনির বিপদে ভ্যানিস হয়ে যাবেন। বিপদ কাটলে উনি এসে বলবেন – আপনারা যদি আমার ১০ মিনিটের আন্দোলন কোর্সটি করতেন তাইলে…

…এত এত কুতুব লোকজন সারাদিন পজেটিভ বাংলাদেশ খুইজা পাইলো আরর আপনে কিনা মিয়া আমার মতো নেগেটিভ ক্যারেক্টারের কাছে হাজির হইছেন পজিটিভ শুনতে?? ?!!! “

29 May

চাকরি নাই- বাজারে সস্তা খাবার নাই- রাস্তাঘাটে জীবনের নিরাপত্তা নাই- আইনশৃংখলা বাহিনীর হয়রানির গ্যারান্টি নাই- অতিউচ্চমূল্য দেয়ার পরও বাসায় ইলেক্ট্রিসিটি/গ্যাস/পানি নাই- রাস্তায় নামলে পরিবহণ নাই- পরিবহণ পাইলেও জ্যামের ঠিক নাই- মেয়েদের ইজ্জত বাঁচাইয়া ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা নাই- মেধাবীদের গ্রহনযোগ্যতা নাই- কোটা ছাড়া ভবিষ্যত নাই- ব্যাংকগুলাতে কোন টাকা নাই- বিদেশে পাসপোর্টের ইজ্জত নাই- অপরাধীদের বিচার নাই …সোনার ছেলে হইলে তো কথাই নাই …

এরমাঝেই একদল লোককে দেখবেন তাঁরা বলতেছে যে – বাংলাদেশ আগায়ে গেছে কেননা তাঁর একটা শ্যাটালাইট হইছে।
দেশ আগায়া গেছে কেননা বাংলাদেশকে ইউনেস্কো সার্টিফিকেট দিছে ।
দেশ আগায়া গেছে কেননা লক্ষ লোক একলগে জাতীয় সংগীত গাইছে।
দেশ আগায়া গেছে কেননা সাফারি পড়া ভদ্রলোক গুলশান ইফতারী খাইছে আর খুশিতে চোখ মুছছে ।
দেশ আগায়া গেছে কেননা ফেসবুকে রাইস চেলেঞ্জ দিয়া এক লোক তিনলক্ষ লোককে ‘উৎসাহ” দিছে।
দেশ আগায়া গেছে কেননা বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা-জার্মানি-ব্রাজিলের জার্সি তৈরী হইছে।
দেশ আগায়া গেছে কেননা দেশে এখন দশমিনিটেই বিজ্ঞানী পয়দা করার ইউটিউব চেনেল আছে।

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় হারামজাদা খুজে বের করতে চাইলে সবার আগে খুঁজে বের করেন সেই লোককে , যে এইসব “নাই আর নাই” দেখার পরও এই দেশে কিছু না কিছু ‘পজেটিভ’ বিষয় খুঁজে পায় , সেই ‘পজেটিভ’ বিষয় মানুষকে গেলাতে চায় , এবং সেই লোককে – যে বালছাল বুঝায়ে মোটিভেশন দেয়ার চেষ্টায় থাকে ।

বিভিন্ন অনলাইন পোলে সরকারের বিরুদ্ধে ৮০ % জনমত কেন যাচ্ছে খুব ভাবছিলাম ..যারা কনফিউশনে আছেন তারা এই লিখাটা পড়তে পারেন

১৮৪৫ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের কোন নির্দিষ্ট দিন ছিল না। ডিসেম্বরের প্রথম বুধবারের আগে প্রত্যেকটি স্টেইট নিজের ইচ্ছেমত নির্বাচন অনুষ্ঠান করার ৩৪ দিনের একটি উইণ্ডো পাইত। ঐকালে রেলওয়েল, গাড়ি এবং ভালো রাস্তাঘাটের অভাবে ভ্রমণ ছিল অত্যন্ত দুরহ। ভোটগ্রহন, ভোটের ফলাফল পৌছানো ইত্যাদিতে অনেক সময় লাগত। তাই এই নিয়মেই চলে যেত যুক্তরাষ্ট্রের। ১৮৪৫ এ বর্তমান নিয়মটি এডপ্ট করা হয়, নম্ভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার।

রাস্তাঘাট/ফ্লাইওভার/বিশাল সেতু না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের গনতন্ত্রের ব্যাঘাত ঘটে নাই। ১৭৮৯ থেকে আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে একটি বারের মতও নির্বাচন বাতিল হয় নাই, পেছায় নাই, এমনকি গৃহযুদ্ধের সময়ে ১৮৬২,১৮৬৪ এর নির্বাচন ঠিক ঠাক হইছে। ইউনিয়নের যোদ্ধারা তখন দক্ষিণের কনফেডারেটদের কাছে মাইর খাইতেছে, পালে পালে কলেরাতে মারা যাচ্ছে, তারপরেও ফ্রন্টে থেকেও তারা ভোট দিছে। এই বিপুল বিপদের মাঝেও প্রতিটি সৈনিকের ভোট অনেক ক্ষেত্রে জীবনের ঝুকি নিয়েও ইলেকশন অফিশিয়ালরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিক্লারেশন অফ ইণ্ডিপেণ্ডেন্স, তাদের কন্সটিটিউশন, তাদের কন্সটিটিউশনাল ডিবেইট, ফ্রেঞ্চদের ডিক্লারেশন অফ রাইটস অফ মেন এণ্ড সিটিজেন এইসবকিছুতেই দেখবেন উন্নয়নের গল্প নাই, রাস্তাঘাটের গল্প তেমন নাই।

ক্লাসিকাল লিবেরেলিজমের প্রথম স্বতঃসিদ্ধ হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিস্বত্ত্বার সম্মান। রাষ্ট্রের ভূমিকা মানুষের নিজের ইচ্ছেকে বাস্তবায়নে বাধা না হয়ে দাঁড়ানো। রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অনেকটাই প্যাসিভ।

ধরে নেয়া হয়, আত্নমর্যাদাসম্পন্ন বুদ্ধিমান মানুষের যদি ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো হ্যারাস না করে, তার ক্ষমতা আছে নিজের ভালো নিজে করে নেয়ার। রাষ্ট্রের এইখানে যেকোন রকম অভিভাবকগিরিকে অস্বীকার করা হয়।

আধুনিক যুগে রাষ্ট্রের ভূমিকাকে আরেকটু বাড়িয়ে ধরা হয়। রাষ্ট্রকে ধরা হয় নাগরিকের জন্য অনেকটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করে দিতে। এইকারনেই শিক্ষায়/স্বাস্থ্যে বিনিয়োগের পেছনে যুক্তি তৈরী হয়। তবে আধুনিক রাষ্ট্রের কেন্দ্রেও সেই ব্যক্তিমানুষ। কোন কিছুর মূল্যেই তার অধিকার হরণ করার সুযোগ নেই। কল্যাণ রাষ্ট্র কিছু কিছু খাতকে পাবলিক ওউনারশীপের আওতায় আনলেও , ব্যক্তি অধিকারকে লঙ্গন করে কখনই নয়। বরং রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অভিভাবক নয়, বরং সুহৃদের মত।

সুতরাং আমার দৃষ্টিতে বিষয় খুব সাধারন।

রাস্তঘাট তথা বারোয়ারি উন্নয়নের গল্পের মূল্য আমার কাছে শুন্য যতক্ষণ পর্যন্ত মত/পথের ভিন্নতার রিপ্রেশন চলবে, আনলফুল ডিটেনশন চলবে, ফ্রীডম অফ এক্সপ্রেশনের সুযোগ শুন্য থাকবে, এমনকি সিভিল লিবার্টির মধ্যে একনম্বর যেটি, রাইট টু লাইফ, সেটিরও কোন মূল্য থাকবে না ক্রসফায়ার/গুমের ভীড়ে পরে। ইনডিগনিটির জীবনের মূল্য কনক্রীটের রাস্তাঘাটে হয় না।

নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার ওয়াদা করার পরে সামাজিক চুক্তির ভিত্তিতে রাষ্ট্রের লেজিটিমেসি তৈরী হয়। লেজিটিমেইট রাষ্ট্রের নাগরিকের চলাফেলার, জীবনযাপনের সুবিধার জনে নির্বাহীবিভাগ নানা কাজ করে থাকে। সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেকেণ্ডারী। রাষ্ট্র ক্ষমতার লেজিটিমেসি না থাকলে এইসবকিছুই মূল্যহীন।

আর ইতিহাসের ন্যারেটিভ নিয়া আইডিয়ার জগতে যুদ্ধ চলুক। ইতিহাস আরো সম্মৃদ্ধ হোক। কিন্তু সকল সিভিল এবং পলিটিক্যাল রাইটস কে ঐতিহাসিক ন্যারেটিভের মুখোমুখি দাড় করানোর চেষ্টা মূলত চুড়ান্ত ধরনের বাটপাড়ি।

আর গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে যেই ন্যারেটিভ এখন গিলানো হচ্ছে তার বিপুল অংশই “ডেরিভেটিভ”। নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্যে সেই ইতিহাসের জন্ম হইছিল। সুতরাং সেটি হরণ করার জাস্টিফিকেশন সেই ইতিহাস হইতেই পারে না। যারা এইসব দাবী করতেছে তাদের দাবী না শুনে, নিজে ইতিহাসটুকু পইড়া নেন। এইটা খ্রীষ্টের আগের যুগের ঘটনা না। অধিকাংশ ঘটনার অরিজিন্যাল সোর্স ম্যাটেরিয়ালই পাওয়া যায়। ঘটনার ক্রনলজি এবং ঐ ঘটনাগুলো ঐসময়ে কিভাবে ইন্টারপ্রেট করা হইছিল এইসবেরও দুর্দান্ত কম্পাইলেশন অসংখ্য বইপত্রে আছে। পেটমোটা করার এজেণ্ডা নিয়ে যারা গত দশবছরে আবির্ভূত হয়েছে, আর যাদের পতন হয়েছে, এইসবার কথাবার্তা না শুনলেও, আপনি মোটামুটি ধারনা পেয়েযাবে কেন এবং কিভাবে সবকিছু হয়েছিল।

তাইলে এই সিদ্ধান্তে আপনি নিশ্চিত হইতে পারবেন, আজকে আপনার যেই অধিকারসমূহকে অস্বীকার করা হচ্ছে, সেই অধিকার নিশ্চিত করনের জন্যেই ইতিহাস সংগঠিত হইছিল।

তাইলে শেষ পর্যন্ত মূল বিষয় খুব সাধারন।

কে আপনাকে অধিকার রক্ষার বাস্তবায়ন তো দূরে থাক, প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত লজ্জায় দিতে পারতেছে না।

বাকিটুকু আপনার বিবেচনা।

ফ্যাসিবাদের পতন ঘনিয়ে এসেছে

বিশেষ ভবনের লিখে দেয়া প্রেসক্রিপশনের জুডিশিয়াল ভার্সন হলো “রায়”। একজনের মর্জি মতো বিচারকদের রায় দিতে হয়। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার বইতে বিস্তারিত বলেছেন এই নিয়ে। দেশে যে আইনের শাসন নাই এটা দেশের প্রতিটা জনগন জানে। একের পর এক ফাঁসির দন্ড মওকুফ হয়, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীকে পথে বাসানোর মামলায় সালমান এফ রহমানের মামলা বাতিল হয়, দুর্নীতি প্রমানিত হওয়া মন্ত্রী মায়ার ১৩ বছরের জেল বাতিল হয়। লক্ষীপুরে তাহের পুত্র বিপ্লব জেলে বসে সন্তানের বাবা হয়। দুদকের এখতিয়ার বহির্ভূত মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়। তাই এই আদালতের অনৈতিক রায় নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তৃতীয়বারে সম্পুরক চার্জশিট দেয় অবসর যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা। এই মামলায় মুফতি হান্নানের তিনরকম জবানবন্দি আছে আদালতের নথিতে। তারপরও রায় কি হবে তা জানা। এই রায়ে আলাদা প্রতিক্রিয়া দেখানোর কিছু নাই। বরাবরের মতো সরকারের একটা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড ধরে নিতে হবে। ফ্যাসিবাদের নিশ্চিত পতন হবেই। ন্যায় বিচার অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে । সমস্ত অবিচারের বিচার হবে তখন। তাই এখনকার এই উস্কানিমূলক রায়ে নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সরকারের পাতা ফাঁদ ব্যর্থ করে দিবে বিএনপি। ফ্যাসিবাদের পতন ঘনিয়ে এসেছে। বিজয় জনগনেরই হবে, ইনশাআল্লাহ।

একজন নির্লজ্জ, বেহায়া, জাতীয় মিথ‍্যাবাদীর নাম হাসিনা!!!!

মিথ্যা বলার একটা ধরন আছে। কিন্তু আমাদের দেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় মিথ্যাবাদী হাসিনার মিথ্যাচার যেন সবকিছু থেকে ছাড়িয়ে। মানুষ মিথ্যা বলে সত‍্যকে চাপা দেবার জন‍্য। কিন্তু উনি মিথ্যা বলেন জাতীয় চোরদের রক্ষা করার জন‍্য, কেননা মিথ্যা না বল্লে তিনি নিজেই ফেঁসে যাবেন। সবচেয়ে বড় কথা তিনি তাঁর মিথ্যা বলা নিয়ে এতটুকু চিন্তিত নন কিংবা কোন প্রকার অনুশোচনা তাঁর মধ্যে নেই। আবার ভাবতে কষ্ট হয় যে এ রকম একটা জাতীয় মিথ্যাবাদী এখনো ক্ষমতায় বসে আছে অবৈধভাবে।আমরা এর আগেও এরকম অনেক মিথ্যা কথা শুনেছি তাঁর মুখ থেকে। এমনকি সংসদে দাঁড়িয়ে, বুক ফুলিয়ে তিনি মিথ্যা বলেন। যেমন, সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বল্লেন তিনি নাকি মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছেন। অথচ নিশিরাতের ভোট চুরির কথা বাংলাদেশের কারো অজানা নয়। এমনকি আওয়ামীলীগের লোকজন নিজেরাই বলাবলি করেছে কে কিভাবে রাতের আঁধারে ভোট চুরি করেছিল। আমি এর আগে আমার অনেক লেখালেখিতে বলে এসেছি কীভাবে এরা মেগা প্রজেক্টের নামে ৩০% চুরি করে। এরপর আবার আলাদা কমিশন নেয় কাজ দেবার কথা বলে। এক কথায় বাংলাদেশ এখন চোরদের দখলে এবং এই চোরদের রাণী হচ্ছেন জাতীয় মিথ্যাবাদী হাসিনা। হাসিনা, আওয়ামী নামক এই চোরদের লালন পালন করে যেন সে এই চোরদের সাহায্যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগে থেকেই হাসিনার এই নির্লজ্জ্ মিথ্যাচার সম্পর্কে অবগত। এমনকি তিনি এমন নির্লজ্জ যে মিথ্যা বলার সময় কোনো অনুশোচনা তাঁর মাঝে কাজ করে না। তার একটি জলন্ত প্রমাণ আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে তাঁর মিথ্যাচার। এটা এমন একটি মিথ্যাচার যে শুনলেই মুখভর্তি থুথু দিতে ইচ্ছে করে উনার মুখের উপর। শুধুমাত্র আওয়ামী নামক কিছু চোরদের দোষ চাপা দেবার জন‍্য তাঁর এই নির্লজ্জ মিথ্যাচার। সবচেয়ে বড় কথা এটা তেমন কোনো বড় প্রকল্প ছিলো না। এটা ছিলো তাঁদের জন‍্য যাদের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই ছিল না। যারা কিনা একটা ঘড়ের জন‍্য দিনরাত আল্লাহ্ র কাছে দোয়া করে। অথচ, আওয়ামী নামক কিছু অমানুষিক জানোয়ারদের থাবা থেকে এদের রেহাই হয়নি, বরং আরেক ডাইনি হাসিনা ঐ চোরদের পক্ষ নিয়ে, ওদের মনমত করা মিথ্যায় ভরা প্রতিবেদনের পক্ষে ঐসব অবহেলিত মানুষদের সাথে প্রতারণা করলো। কতবড় জঘন্যতম মন মানষিকতা থাকলে এমন কেউ করতে পারে? কিন্তু হাসিনা পারে, কারণ তিনিই হলেন এই জানোয়ারদের দলপতি। সব চোর, বাটপার তাঁর কথায় সব কাজ করে। হাসিনা না থাকলে এই চোর বাটপারও আর থাকবে না। বাংলাদেশকে আবার বাঁচাতে হলে হাসিনার পতন অনিবার্য। হাসিনার পতন হলেই বাংলাদেশের আকাশে আবার সোনালী সূর্য উঠবে। আর বাংলাদেশের মানুষ সেই দিনের অপেক্ষায়।!!বিঃদ্রঃ এতকিছুর পরেও কিছু মানুষ এই ডাইনি হাসিনার পক্ষে কথা বলবে। তখনই বুঝে নিবেন এরাই সেই চোরের দলের একজন। এখন সময় এসেছে ঐ চোরের দলকে বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলার। সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকুন। এদের ধ্বংস এখন অনিবার্য।

গড মাদার হাসিনা আর মাফিয়াদের খপ্পরে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী গডমাদার হাসিনা এবং মাফিয়াদের আপন ভাই সেনাপ্রধান আজিজকে নিয়ে আল জাজিরার ডকুমেন্টারিটি খুবই সময় উপযোগী একটি বার্তা। হাসিনা এইসব মাফিয়াদের সাহায্যেই বিরোধী দলীয় লোকজনদের গুম করে হত্যা করতো। এটা কমবেশি অনেকেই জানেন।
কিন্তু, এত প্রমানসহ ডকুমেন্টারি দেখার পরও আওয়ামী নামক ছাগলের দল বলে বেরাচ্ছে এটা নাকি গুজব। আর সরকার থেকে বলা হচ্ছে এটি নাকি “অপপ্রচার”। কতবড় ছাগলের দল আওয়ামীলীগ এখন বুঝুন সবাই। দুইদিন আগেও আমি মায়ানমারের সুচির কথা লেখার সময় হাসিনার কথা বলেছিলাম কিভাবে তিনি সামরিক বাহিনীর কন্ট্রোল করার ক্ষমতা নিয়েছে শুধুমাত্র তাঁর বিরোধী সবাইকে গুম করে হত্যা করার জন‍্য। সেই সাথে তিনি দুর্নীতি করার লাইসেন্স দিয়েছেন মাফিয়াদেরকে যেন তারা হাসিনার বিরোধীদেরকে হত‍্যা করে হাসিনার ক্ষমতা ঠিক রাখে।
এরপরও কুত্তালীগের ঘেউ ঘেউ থামছেই না বরং গলা ফাটিয়ে বলে বেরাচ্ছে এটা নাকি অপপ্রচার।
যাহোক, হাসিনার দুঃশাসন, দুর্নীতির কথা সারাদিন রাত লিখেও শেষ করা যাবে না। আমার সোনার বাংলাদেশকে বানিয়েছে মাফিয়াদের আড্ডাখানা। সবকিছুর বিচার হবে কড়ায়-গন্ডায়। কোনো ছাড় হবে না এবার।
পরিশেষে, এখনো যারা হাসিনার পক্ষে ঘেউ ঘেউ করছে তাদেরকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার সময় এসেছে। তাই বাংলাদেশের জনগনদের বলছি, এতদিন আমাদের কথা যদি বিশ্বাস না করে থাকেন এবারতো প্রমাণসহ সব দেখলেন, বুঝলেন। এখন আর চুপ করে বসে থাকার সময় নয়। নেমে পরুন রাজপথে আর ভেঙ্গে ফেলুন হাসিনার সাম্রাজ্য, দেশকে করুন পরিশুদ্ধ।

নতুন স্বদেশ গড়ার প্রত‍্যয়ে

এক দিকে সুচি, অন্য দিকে হাসিনা

আমাদের দেশের মানুষের সব বিষয়ে দায়িত্ব দেখানোর অথবা সব বিষয়ে নাক গলানোর প্রবণতা খুবই বেশী, বিশেষ করে অন্য দেশের বিষয়ে। আজকে ফেসবুক খুলে দেখলেই দেখবেন যে, মায়ানমার দেশের প্রধানমন্ত্রী অং সাং সুচিকে সেদেশের সেনাবাহিনী আটক করেছে। আর এদিকে আমরা যার যার মত করে বিশ্লেষণ করে পোষ্ট করছি কিংবা কমেন্ট করছি।
যাহোক, আসল বিষয়ে আসি। যতটুকু জানা যায় সুচিকে গ্রেফতারের কারণ দেখানো হয়েছে যে,”তাঁর দল গত নির্বাচনে ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছে”। সেদেশের সেনাবাহিনী মনে করেছে যে জনগনের ভোট চুরি করা মহা অন‍্যায়। তাই তাঁরা সেদেশের ক্ষমতাসীনদের আটক করেছে অথবা গ্রেফতার করেছে।
আর এদিকে আমাদের বিচার, বিশ্লেষণের শেষ নেই। কেউ বলছে সুচি লেডি হিটলার। কেউ বলছে যে সেনাবাহিনী দিয়ে রোহিঙ্গাদের উপর গনহত‍্যা চালিয়েছিলো,আজ সেই সেনাবাহিনী তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।
এবার আমাদের কথা বলি। 2008 সাল থেকে আজ পর্যন্ত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যন্ত কোথায় আপনারা ভোট চুরির খবর পাননি? এখনতো আওয়ামী নামক হাসিনা দলীয় লোকজন ভোট চুরি করে না, তারা জোর করে ভোট ডাকাতি করে ছিনতাই করে। কই আপনারাতো এর বিরোধীতা করেন না। আমাদেরও তো অহংকার করার মতো একটি সুগঠিত সেনাবাহিনী আছে। কই তাঁরাতো কিছুই বলে না। সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে বসে থাকে। আর পুলিশের কথাতো বাদই দিলাম। এরাতো বসে আছে আওয়ামী নামক বিষাক্ত জন্তুদের গোলামী করার জন‍্য। গনতন্ত্র নামক একটা শব্দ আছে এরা সেটা মাটিচাপা দিয়ে রেখেছে। জনগন কি,এবং কারা অথবা এদের অধিকার কি কুত্তালীগের লোকেরা এটা জানেই না, বোঝে না, কিংবা বুঝতে দেয় না।
এখন প্রশ্ন হলো এমনটা কেনোই বা হচ্ছে? এর বড়ো একটা কারন হলো অযোগ্য লোকেরা আজ বড় বড় পজিশনে। সরকারি চাকুরী থেকে শুরু করে হাসিনালীগের সব পদে পদে অযোগ্য লোকদের ছড়াছড়ি। হাসিনা এদেরকে সুকৌশলে পজিশনে রেখেছে যেনো এরা হাসিনার অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে। আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ কারন হলো ক্ষমতার লোভ। হাসিনা তাঁর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে যে কাউকেই মেরে ফেলতে কিংবা গুম করতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করে না কিংবা করবে না। এর জন‍্যই সকল ক্ষমতা হাসিনা কেন্দ্রিক। যারা জানেন তাঁরাই বুঝবেন কিভাবে হাসিনা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনেন। এই এককেন্দ্রীক ক্ষমতাই একটি রাষ্ট্রের, একটি দেশের ধ্বংসের জন‍্য যথেষ্ট।
এর প্রমাণও আছে হাজারো যেমন ধরুন, দূর্ণীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনের কোনো প্রয়োগ না হওয়া। আমরা পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক উচ্ছসিত। কেনইবা নয়? পদ্মা সেতু আমাদের অতি প্রয়োজন। কিন্ত একটিবার হিসাবটা মিলিয়ে নিয়েছেন কত টাকা লাগছে এটি তৈরী করতে। প্রতি কিলোমিটারে পাঁচ হাজার কোটি টাকার উপরে লেগেছে। আপনি অন‍্যান‍্য দেশের বড় বড় সেতুর খরচ সম্পর্কে জেনে দেখুন। তারপর আপনি ব‍্যবধানটা বুঝতে পারবেন। আপনি এগুলো বতর্মান সময়ে ইন্টারনেটের কল‍‍্যাণে খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে যেখানে উন্নতমানের হাইওয়ে করতে কিলোমিটার প্রতি ১০ কোটি খরচ হয়। আর আমাদের দেশে একটি মোটামুটি মানের রাস্তা তৈরি করতে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় ১০০ কোটি টাকা। আপনারা রিসার্চ করে দেখুন। তখন সব বুঝতে পারবেন দেশ আজ কোথায়??
আমার আগের লেখাগুলোতে আমি বার বার বলেছিলাম ৩০% কমিশনের কথা। এটা শুধু আওয়ামী নামক বড় বড় রাঘববোয়ালদের কমিশন। এরপর আরো আছে সরকারি চাকুরিওয়ালের কমিশন, এর পরে আছে স্থানীয় পাতিনেতাদের কমিশন। এটা দেশের উন্নয়ন নয়। এটা আওয়ামীলীগ নামক এক বিকৃতমস্তিষ্ক দলের উন্নয়ন। আর গডমাদার হচ্ছে হাসিনা। তিনি সবাইকে দূণীতি করার সনদ দিয়েছেন যাতে করে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কথা না বলে।
পরিশেষে, এক সুচি নিয়ে চিন্তা করার সময় নয়। সুচি সেনাবাহিনী দিয়ে রোহিঙ্গাদের হত‍্যা করে সেদেশ থেকে বের দিয়েছে। অথচ ক্ষমতালোভী হাসিনা তাঁর নিজের দেশের কত মানুষকে গুম করে হত্যা করেছে এই ১৫ বছরে সে হিসেবে মায়ানমারের রোহিঙ্গা গনহত‍্যা একটি সংখ্যা মাত্র। নিজের দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত না করে অন‍্য দেশকে বিচার করা মানায় না। আর নিজের দেশকে পরিশুদ্ধ করতে হাসিনালীগের পতন অনিবার্য। তাই নেমে পরুন মানবতার পথে, দেশকে করুন শুদ্ধ। আর ভেঙ্গে ফেলুন হাসিনালীগের সাম্রাজ্য। ছুড়ে ফেলে দিন বঙ্গোপসাগরে।

নতুন স্বদেশ গড়ার প্রত‍্যয়ে

সুশাশন-ভিসন ২০৩০

(১) মানবধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষনা বাস্তবায়ন করা হবে।
(২) গনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাষনের জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ( যেমন নির্বাচন কমিশন,পাবলিক সার্ভিস কমিশন,কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল,এটর্নি জেনারেল ইত্যাদি) এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো ( যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন,তথ্য কমিশন,মানবাধিকার কমিশন,আইন কমিশন,বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন ইত্যাদি ) স্বার্থপর ও দলীয়তার কালিমা মুক্ত করে এগুলো দক্ষতা,স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযাগ্যতা পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি ও প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ নেবে বিএনপি।
(৩) বিগত দিনগুলো সংকীর্ন দলীয় স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। এ কারনেই ব্যক্তির বিশ্বাস অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্য বিবেচনার না নিয়ে কেবলমাত্র সততা দক্ষতা মেধা যোগ্যতা দেশ প্রেম বিচার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসন যন্ত্র পুলিশ এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যরারিতা নিশ্চিত করবে বিএনপি।
(৪) প্রশিক্ষন অভিজ্ঞতা সততা মেধার উৎকর্ষ এবং সৃজনশীলতাকে বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে গ্রহন করা হবে।দলীয় ও সকল প্রকার আইনবহির্ভূত হস্তক্ষেপ অবসান ঘটিয়ে বিচার বিভাগ প্রসাশন ও পুলিশ বাহিনীর আইনানুগত কর্তব্য পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে ।
(৫) বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোন আপোষ করবে না. সমাজের সর্বস্তরের দুষ্টক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির রাশ টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
(৬) বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে।
(৭)প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিত নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পাল(ombudsman) এর পদ সৃষ্টি করা হবে।
(৮) বাংলাদেশ আজ নিরাপওাহীন ঝুকিপূর্ন এক জনপদে পরিনত হয়েছে।মার্তৃগর্ভেও শিশুর নিষ্ঠুর অপরাধের থাবা থেকে মুক্ত নয়।বিচারলয় আজ বিরোধী মতের নেতা কর্মীদের দমনে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে বিচার প্রার্থীরা আদালতের সেবা থেকে বন্চিত হচ্ছে। দেশে আশংকাজনকভাবে বিচারহীনতা যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।সে লক্ষ্যে জনপ্রশাসন বিচার ,পুলিশ ও কারাগার এই চার প্রতিষ্ঠান কে সংস্কারের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ, দক্ষ আধুনিক ও যুগপোযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
(৯) বিএনপি মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদায় বিশ্বাসী আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।অবশ্যই আইনের শাসনের নামে কোন প্রকার কালা কানুন শাসন গ্রহনযোগ্য হবে না।বিএনপি সকল প্রকার কালা আইন বাতিল করবে।সকল প্রকার নিষ্ঠুর আচরন থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গুম খুন এবং অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটাবে বিএনপি।
(১০) বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করে জনগনের জন্য ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।অধস্তন আদালতের নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন করা হবে।
(১১) পুলিশ কনস্টবল/ট্রাফিক পুলিশ এবং এএসআই পর্যন্ত নিম্ন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে একটানা ৮ ঘন্টার বেশী দায়িত্ব দেয়া হবে না/দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হবে না।ঝুকিপূর্ন দায়িত্ব পালনে কর্মঘন্টা হারে যুক্তিসংগত ওভার টাইম ভাতা প্রদান করা হবে।এএসআই থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত পুলিশের আবাসন সমস্যা সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
(১২) দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।
(১৩)একটি দক্ষ স্বচ্ছ গতিশীল মেধাবী জবাবদিহিতামুলক যুপগোযোগী ও গনমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে ।মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ সংস্কার করা হবে।মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ,নারী ও প্রান্তিক জাতি গোষ্ঠী কোটা ব্যতিরেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে । সকল পর্যায়ে ই গভার্ন্যান্স চালু করা হবে।জনপ্রশাসন দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে বিদেশে প্রশাষনের ব্যবস্থা করা হবে।
(১৪) প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য বিচারক নিয়োগ দিয়ে মামলার জট কমিয়ে আনা হবে ।
(১৫) এটা সর্বসম্মত স্বীকৃত যে বর্তমানে বিচার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ পদোন্নতি,পদতল এবং কর্ম নির্ধারনের জন্য একমাএ বিবেচ্য নিয়োগ করা হবে ।যোগ্যতা,মেধা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাংবিধানিক আলোক বিচারপতি উর্ধে উঠে জ্ঞান প্রজ্ঞা নীতিবোধ দেশপ্রেম বিচার বোধ ও সুনামের কঠোর মানদন্ডে যাচাই করে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ করা হবে।নিয়োগের জন্য বাচাইকৃত ব্যক্তিদের তথ্য ও সম্পদের বিবরন জনগনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে ।