এক দিকে সুচি, অন্য দিকে হাসিনা

আমাদের দেশের মানুষের সব বিষয়ে দায়িত্ব দেখানোর অথবা সব বিষয়ে নাক গলানোর প্রবণতা খুবই বেশী, বিশেষ করে অন্য দেশের বিষয়ে। আজকে ফেসবুক খুলে দেখলেই দেখবেন যে, মায়ানমার দেশের প্রধানমন্ত্রী অং সাং সুচিকে সেদেশের সেনাবাহিনী আটক করেছে। আর এদিকে আমরা যার যার মত করে বিশ্লেষণ করে পোষ্ট করছি কিংবা কমেন্ট করছি।
যাহোক, আসল বিষয়ে আসি। যতটুকু জানা যায় সুচিকে গ্রেফতারের কারণ দেখানো হয়েছে যে,”তাঁর দল গত নির্বাচনে ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছে”। সেদেশের সেনাবাহিনী মনে করেছে যে জনগনের ভোট চুরি করা মহা অন‍্যায়। তাই তাঁরা সেদেশের ক্ষমতাসীনদের আটক করেছে অথবা গ্রেফতার করেছে।
আর এদিকে আমাদের বিচার, বিশ্লেষণের শেষ নেই। কেউ বলছে সুচি লেডি হিটলার। কেউ বলছে যে সেনাবাহিনী দিয়ে রোহিঙ্গাদের উপর গনহত‍্যা চালিয়েছিলো,আজ সেই সেনাবাহিনী তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।
এবার আমাদের কথা বলি। 2008 সাল থেকে আজ পর্যন্ত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যন্ত কোথায় আপনারা ভোট চুরির খবর পাননি? এখনতো আওয়ামী নামক হাসিনা দলীয় লোকজন ভোট চুরি করে না, তারা জোর করে ভোট ডাকাতি করে ছিনতাই করে। কই আপনারাতো এর বিরোধীতা করেন না। আমাদেরও তো অহংকার করার মতো একটি সুগঠিত সেনাবাহিনী আছে। কই তাঁরাতো কিছুই বলে না। সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে বসে থাকে। আর পুলিশের কথাতো বাদই দিলাম। এরাতো বসে আছে আওয়ামী নামক বিষাক্ত জন্তুদের গোলামী করার জন‍্য। গনতন্ত্র নামক একটা শব্দ আছে এরা সেটা মাটিচাপা দিয়ে রেখেছে। জনগন কি,এবং কারা অথবা এদের অধিকার কি কুত্তালীগের লোকেরা এটা জানেই না, বোঝে না, কিংবা বুঝতে দেয় না।
এখন প্রশ্ন হলো এমনটা কেনোই বা হচ্ছে? এর বড়ো একটা কারন হলো অযোগ্য লোকেরা আজ বড় বড় পজিশনে। সরকারি চাকুরী থেকে শুরু করে হাসিনালীগের সব পদে পদে অযোগ্য লোকদের ছড়াছড়ি। হাসিনা এদেরকে সুকৌশলে পজিশনে রেখেছে যেনো এরা হাসিনার অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে। আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ কারন হলো ক্ষমতার লোভ। হাসিনা তাঁর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে যে কাউকেই মেরে ফেলতে কিংবা গুম করতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করে না কিংবা করবে না। এর জন‍্যই সকল ক্ষমতা হাসিনা কেন্দ্রিক। যারা জানেন তাঁরাই বুঝবেন কিভাবে হাসিনা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনেন। এই এককেন্দ্রীক ক্ষমতাই একটি রাষ্ট্রের, একটি দেশের ধ্বংসের জন‍্য যথেষ্ট।
এর প্রমাণও আছে হাজারো যেমন ধরুন, দূর্ণীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনের কোনো প্রয়োগ না হওয়া। আমরা পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক উচ্ছসিত। কেনইবা নয়? পদ্মা সেতু আমাদের অতি প্রয়োজন। কিন্ত একটিবার হিসাবটা মিলিয়ে নিয়েছেন কত টাকা লাগছে এটি তৈরী করতে। প্রতি কিলোমিটারে পাঁচ হাজার কোটি টাকার উপরে লেগেছে। আপনি অন‍্যান‍্য দেশের বড় বড় সেতুর খরচ সম্পর্কে জেনে দেখুন। তারপর আপনি ব‍্যবধানটা বুঝতে পারবেন। আপনি এগুলো বতর্মান সময়ে ইন্টারনেটের কল‍‍্যাণে খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে যেখানে উন্নতমানের হাইওয়ে করতে কিলোমিটার প্রতি ১০ কোটি খরচ হয়। আর আমাদের দেশে একটি মোটামুটি মানের রাস্তা তৈরি করতে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় ১০০ কোটি টাকা। আপনারা রিসার্চ করে দেখুন। তখন সব বুঝতে পারবেন দেশ আজ কোথায়??
আমার আগের লেখাগুলোতে আমি বার বার বলেছিলাম ৩০% কমিশনের কথা। এটা শুধু আওয়ামী নামক বড় বড় রাঘববোয়ালদের কমিশন। এরপর আরো আছে সরকারি চাকুরিওয়ালের কমিশন, এর পরে আছে স্থানীয় পাতিনেতাদের কমিশন। এটা দেশের উন্নয়ন নয়। এটা আওয়ামীলীগ নামক এক বিকৃতমস্তিষ্ক দলের উন্নয়ন। আর গডমাদার হচ্ছে হাসিনা। তিনি সবাইকে দূণীতি করার সনদ দিয়েছেন যাতে করে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কথা না বলে।
পরিশেষে, এক সুচি নিয়ে চিন্তা করার সময় নয়। সুচি সেনাবাহিনী দিয়ে রোহিঙ্গাদের হত‍্যা করে সেদেশ থেকে বের দিয়েছে। অথচ ক্ষমতালোভী হাসিনা তাঁর নিজের দেশের কত মানুষকে গুম করে হত্যা করেছে এই ১৫ বছরে সে হিসেবে মায়ানমারের রোহিঙ্গা গনহত‍্যা একটি সংখ্যা মাত্র। নিজের দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত না করে অন‍্য দেশকে বিচার করা মানায় না। আর নিজের দেশকে পরিশুদ্ধ করতে হাসিনালীগের পতন অনিবার্য। তাই নেমে পরুন মানবতার পথে, দেশকে করুন শুদ্ধ। আর ভেঙ্গে ফেলুন হাসিনালীগের সাম্রাজ্য। ছুড়ে ফেলে দিন বঙ্গোপসাগরে।

নতুন স্বদেশ গড়ার প্রত‍্যয়ে

Leave a comment