প্রাতিষ্ঠানিক খুনী র‍্যাব

র‌্যাব এখন খুনি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে খুন-গুমে জড়িয়ে পড়েছে। টাকার বিনিময়ে র‌্যাব গুম-খুনের কাজ করছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন।নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের সাথে জড়িত র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে বিএনপির এমন আশঙ্কাই প্রমাণিত হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের সাথে মতবিনিময় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, র‌্যাবের এরূপ কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বেশ কিছুদিন যাবৎ র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি করে আসছেন। র‌্যাবর প্রয়োজন নেই বলেও দাবি করছেন বেগম জিয়া। র‌্যাব বিলুপ্ত করে একটি ইফেকটিভ প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্যও তিনি সরকারের প্রতি দাবি করেন।

তার দাবি যে যৌক্তিক আজ তা প্রমাণিত হয়েছে।ঢাকা থেকে জিয়াউর রহমানের মাজার স্থানান্তর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, যেহেতু এ বিষয়টি নিয়ে আমরা অফিসিয়ালভাবে কোনো তথ্য পাইনি, তাই এ ব্যাপারে মন্তব্য করাটা আমি সমীচীন মনে করি না। এ সময় তার সাথে ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তী, রমেশ দত্ত, দীপেন দেওয়ান, দেবাশীষ রায়, সুশীল বড়ুয়া প্রমুখ।

খুনী র‍্যাব আর সহযোগী আওয়ামীলীগ

লন্ডন সময় বেলা ১১টা। অফিসে কাজের ফাঁকে অনলাইন পত্রিকায় প্রিয় মাতৃভূমির আপডেট খবর পড়ছিলাম। শীর্ষনিউজ অনলাইনটি খুলতেই নজরে এলো প্রথম চারটি সংবাদই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সংক্রান্ত। এর তিনটিই হলো পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত। নিহত ১, আহত অনেক। গোলাগুলি, বাড়িতে হামলা, হাসপাতালে ভর্তির তথ্য জানা গেল। ঘটনা তিনটি কুমিল্লা, সোনারগাঁও এবং শরীয়তপুরে।

নিজ দলের সহকর্মীদের গুলিতে নারায়নগঞ্জে জীবন হারালো যুবলীগ কর্মী জামাল। একজন নিপিড়িত সাংবাদিক হিসেবে মরহুম জামালের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে জামালের হাতে এর আগে কারো জীবন সংহার হয়েছে কি-না, আমার জানা নেই; তবে জীবনের বিদায়বেলা তিনি নিপিড়নের শিকার হয়েছেন, এমনকি তার সবচেয়ে মূল্যবান জীবনটিও কেড়ে নেয়া হলো। ইসলামের দৃষ্টিতে তিনি শহীন কি-না, সেটা নিয়ে আমি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছি না। কেননা জামালের সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নেই, তার পূর্ব কর্মকান্ড সম্পর্কেও আমি তেমন জানি না। কোনো ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি রাজনীতি করে থাকলে, এই সংঘর্ষে অংশ নেয়ার পেছনে ভাল কোনো উদ্দেশ্য থাকলে তিনি শাহাদতের মর্যাদা পেতেও পারেন। যেহেতু এসব সম্পর্কে আমার জানা নেই, সেহেতু একজন মানবের হত্যার শিকার হওয়া, এই যুবকের জীবন কেড়ে নিয়ে একটি পরিবারকে শোকে ভাসানো কিংবা একজন মায়ের বুক খালি করার জন্য যারা দায়ী, তাদের পাপের শাস্তি চাওয়ায় আমার কোনো দোষ হবে বলে আমি মনে করি না।

সবকিছু মিলিয়ে যুবলীগ কর্মী জামাল মৃত্যুকালে আওয়ামী জাহিলিয়াতের অস্ত্র-সন্ত্রাসের শিকার হলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে হাজার হাজার বিরোধী নেতাকর্মীরা যেমনটি হয়েছেন, হচ্ছেন। বিশেষ করে গত সাত বছরে সহস্রাধিক ব্যক্তি আওয়ামী অস্ত্রধারী ক্যাডার এবং সরকারি বাহিনীতে যোগ দেয়া ক্যাডারদের গুলিতে জীবন দিয়েছেন। আমি জামালের মা/স্ত্রীর আকুতির প্রতি সহমর্মিতা জানাই।

আওয়ামী খুনী ক্যাডারদের মায়েদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, আপনারা কান পেতে শুনুন আমার ভাই সুমনের মা, স্ত্রী ও সন্তানের আর্তনাত। ক’দিন আগেও জাতীয় প্রেসক্লাবে এসে মিডিয়ার সামনে এসে বিলাপ করে গেছেন সম্প্রতি গুম-খুনের শিকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মা, স্ত্রী ও শিশু সন্তানেরা। মাসুম বাচ্চার আর্তনাত সহ্য করা যায় না। সেদিন গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা মো. জহিরের মা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার সন্তানের খোঁজ এখনও পাইনি। তার বাবা মৃতপ্রায়। আমরা ছেলের সন্ধান চাই। এমনিতেই সন্তানের খোঁজ পাইনি তার ওপর প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ বাসায় গিয়ে টাকা চায়। আমরা আর কান্না করতে পারব না। সরকারকে বলব আমাদের সন্তানদের ফেরত দিন। রাজধানীর ৭৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ হাসান সোহেলের স্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকি কবে সোহেল ফিরে আসবে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, আমার স্বামীকে ফেরত দিন। গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা পারভেজের চার বছরের শিশুকন্যা হৃদি বলে, শেখ হাসিনা আন্টি, আপনি আমার পাপাকে ছেড়ে দিন। আমরা আপনার জন্য দোয়া করব।
প্লিজ পাপাকে ছেড়ে দিন। আমি স্কুলে যাব, চকলেট খাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা চঞ্চলের পাঁচ বছরের ছেলে আহাদ আলী বলে, শেখ হাসিনা আন্টি, আপনি আমার পাপাকে ছেড়ে দিন। পাপাকে ছাড়া আমার কিছু ভালো লাগে না। মা-দাদা পাপার জন্য সব সময় কাঁদে। তেজগাঁওয়ের গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মারুফা ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে আমার ভাই নিখোঁজ হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে ফিরে তাকান। গুম হওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা বাঁচতে চায়।

এরকম হাজার হাজার পরিবারে এখন কান্নার রোল চলছে। এ কান্না বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। যারা গুম-খুনে জড়িত, তাদের মা, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি আমার আবেদন- আপনারা রুখে দাড়ান। পুলিশ, র্যাব, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী আপনাদেরও জীবন আছে। আপনি যদি গুম হয়ে যান, যুবলীগ কর্মী জামালের মতো নিহত হন, এই খুন-খারাবি করে আপনার কি লাভ?

গুম-খুনে অংশ নেয়া পুলিশ, র্যাব, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের মা-স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি আবেদন জানােবা, আপনারা ওদের সামলান। যারা এসব বাহিনী ও সংগঠনে জড়িত, তাদের লাগাম টেনে ধরুন। নইলে একে একে ওরা পারস্পরিক নিজেদেরকেই হত্যা করবে। যা আপনারা নারায়ানগঞ্জে সাত মার্ডারে দেখেছেন। দেশজুড়ে দেখছেন। এরপর বাতাস ঘুরে গেলে আরো ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হলে আপনাদের চোখের পানি কে মুছবে? এসব ভাবুন। প্রিয় মা, আপনার লাগামহীন সন্তানকে; প্রিয় বোন, আপনার খুনী স্বামীকে; প্রিয় সোনামনি, তোমার সন্ত্রাসী বাবাকে ভাল পথে থাকতে বলো। ভাল পথে ফিরতে বলো। শান্তির পথ পরিবারকেও শান্তি দেবে। অনেক ক্ষমতা ও টাকা-পয়সা তোমাদের সুন্দর বাড়ি, গাড়ি, বাসা, পোশাক ও খাবার দেবে, কিন্তু পরিবারে শান্তি দেবে না। যা তোমরা এখন প্রতিদিনই উপভোগ করছো। অশান্তির নিড় হয়ে উঠছে প্রতিটি খুনী র্যাব-পুলিশ সদস্যের পরিবার। যুবলীগ-ছাত্রলীগের মধ্যে গুম-খুনে অংশ নেয়া কর্মীদের পরিবার।

শুধু ক্ষমতা ও অবৈধ পথে উপার্জন আর ভোগে শান্তি নেই; প্রকৃত শান্তির পথ খুঁজুন। সবাই মিলে একটি শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিন। যাদেরকে হত্যা করেছেন, তাদের কাছে ক্ষমা চান। এই জনপদে রক্ত ঝরানো বন্ধ করতে হবে। রক্তাক্ত জনপদ হয়ে উঠুক পারস্পরিক ভালবাসায় সিক্ত ফুলের বাগান। শান্তির নিড় হয়ে উঠুক প্রতিটি পরিবার। হিংসা-প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ কারো জন্যই শুভ নয়। আপনাদের সকলের প্রতিটি মুহূর্ত শুভ হোক, এই প্রত্যাশায়।

 

গ্রেনেড হামলা নিয়ে কিছু কথা

হামলার মূল আসামী মুফতি হান্নানকে ২০০৫ সালে বিএনপি সরকার গ্রেফতার করে। তারপর সে তার প্রতিটি জবানবন্দিতেই বলেছে- “দুইদিন আগেই (১৯ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু এভিনিউকে টার্গেট করে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।”

প্রশ্ন হচ্ছে:
১. আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যেখানে সমাবেশ শুরুর ২ঘণ্টা আগেও জানতো না সমাবেশ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হবে, সেখানে মুফতি হান্নান কিভাবে দুইদিন আগেই জানতে পেরেছিল, সমাবেশ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে?

২. কার সিদ্ধান্তে সমাবেশস্থল মুক্তাঙ্গন থেকে সরিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নেয়া হয়েছিল?

৩. মুফতি হান্নানকে এই তথ্যটি কে সরবরাহ করেছিল?

২১ আগস্টের মর্মান্তিক গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত মামলায় কিভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিএনপি এবং তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে তার বিস্তারিত জানতে পড়ুন:
https://www.scribd.com/…/TRAVESTY-OF-JUSTICE-IN-BANGLADESH-…

 

ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেষ নিয়ে কিছু কথা

ঘটা করে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা হয় ১৭ই মে। সনটা ছিল ১৯৮১। ক্ষমতায় ছিলেন জিয়াউর রহমান, তিনি তাকে দেশে ফিরিয়ে আসতে সহযোগিতা করেন এবং ধানমন্ডির বাড়িটি যে অবস্থায় ছিল ঐ অবস্থায় বুঝিয়ে দেয়া হয়। অথচ আজ অভিযোগ করলেন জিয়া তাদের দুই বোনকে দেশে আসতে দেয়নি।

শেখ মুজিব এর হত্যাকারী কর্নেল ফারুক, কর্নেল বজলুল হুদাকে এমপি বানিয়েছিলো এরশাদ, ১৯৮৮ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে। অথচ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে খুনিদের এমপি বানানোর অভিযোগ করলেন। সম্পুর্ন মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে খালেদা জিয়াকেও মুজিব হত্যায় দায়ী করলেন। এত নগ্নভাবে, মোটা দাগে মিথ্যা বলা যায়?

যতই মিথ্যার প্রচার হোক, মিথ্যার ধ্বংস অনিবার্য।

উলঙ্গ রাজা

‘উলঙ্গ রাজা’ নামে সদ্য প্রয়াত কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর একটা কবিতা আছে। অনেকেই পড়েছেন নিশ্চয়। তবুও যদি কেউ এখনো না পড়ে থাকেন, তাদের জন্য দিলাম।

“সবাই দেখছে যে, রাজা উলঙ্গ, তবুও
সবাই হাততালি দিচ্ছে।
সবাই চেঁচিয়ে বলছে; শাবাশ, শাবাশ!
কারও মনে সংস্কার, কারও ভয়;
কেউ-বা নিজের বুদ্ধি অন্য মানুষের কাছে বন্ধক দিয়েছে;
কেউ-বা পরান্নভোজী, কেউ
কৃপাপ্রার্থী, উমেদার, প্রবঞ্চক;
কেউ ভাবছে, রাজবস্ত্র সত্যিই অতীব সূক্ষ্ম , চোখে
পড়ছে না যদিও, তবু আছে,
অন্তত থাকাটা কিছু অসম্ভব নয়।

গল্পটা সবাই জানে।
কিন্তু সেই গল্পের ভিতরে
শুধুই প্রশস্তিবাক্য-উচ্চারক কিছু
আপাদমস্তক ভিতু, ফন্দিবাজ অথবা নির্বোধ
স্তাবক ছিল না।
একটি শিশুও ছিল।
সত্যবাদী, সরল, সাহসী একটি শিশু।

নেমেছে গল্পের রাজা বাস্তবের প্রকাশ্য রাস্তায়।
আবার হাততালি উঠছে মুহুর্মুহু;
জমে উঠছে
স্তাবকবৃন্দের ভিড়।
কিন্তু সেই শিশুটিকে আমি
ভিড়ের ভিতরে আজ কোথাও দেখছি না।

শিশুটি কোথায় গেল? কেউ কি কোথাও তাকে কোনো
পাহাড়ের গোপন গুহায়
লুকিয়ে রেখেছে?
নাকি সে পাথর-ঘাস-মাটি নিয়ে খেলতে খেলতে
ঘুমিয়ে পড়েছে
কোনো দূর
নির্জন নদীর ধারে, কিংবা কোনো প্রান্তরের গাছের ছায়ায়?
যাও, তাকে যেমন করেই হোক
খুঁজে আনো।
সে এসে একবার এই উলঙ্গ রাজার সামনে
নির্ভয়ে দাঁড়াক।
সে এসে একবার এই হাততালির ঊর্ধ্বে গলা তুলে
জিজ্ঞাসা করুক:
রাজা, তোর কাপড় কোথায়?”

আমাদের দেশের ভুয়া সরকার হচ্ছে সেই “উলঙ্গ রাজা”। নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ করে সিন্দাবাদের ভূতের মতো জাতির পিঠে চেপে বসা এই শক্তির কব্জা থেকে আপনার প্রিয় স্বদেশকে যদি বাঁচাতে চান, তবে নির্ভয়ে আপনার অধিকার কেড়ে নেয়া স্বৈরশাসকের সামনে এসে দাঁড়ান। এখন নির্ভয়ে সত্য বলার সময়। আজকে জাতি সেই শিশুটিকে খুঁজছে যে বিধাতার মতো নির্ভয়।