সুশাশন-ভিসন ২০৩০

(১) মানবধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষনা বাস্তবায়ন করা হবে।
(২) গনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাষনের জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ( যেমন নির্বাচন কমিশন,পাবলিক সার্ভিস কমিশন,কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল,এটর্নি জেনারেল ইত্যাদি) এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো ( যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন,তথ্য কমিশন,মানবাধিকার কমিশন,আইন কমিশন,বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন ইত্যাদি ) স্বার্থপর ও দলীয়তার কালিমা মুক্ত করে এগুলো দক্ষতা,স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযাগ্যতা পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি ও প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ নেবে বিএনপি।
(৩) বিগত দিনগুলো সংকীর্ন দলীয় স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। এ কারনেই ব্যক্তির বিশ্বাস অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্য বিবেচনার না নিয়ে কেবলমাত্র সততা দক্ষতা মেধা যোগ্যতা দেশ প্রেম বিচার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসন যন্ত্র পুলিশ এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যরারিতা নিশ্চিত করবে বিএনপি।
(৪) প্রশিক্ষন অভিজ্ঞতা সততা মেধার উৎকর্ষ এবং সৃজনশীলতাকে বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে গ্রহন করা হবে।দলীয় ও সকল প্রকার আইনবহির্ভূত হস্তক্ষেপ অবসান ঘটিয়ে বিচার বিভাগ প্রসাশন ও পুলিশ বাহিনীর আইনানুগত কর্তব্য পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে ।
(৫) বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোন আপোষ করবে না. সমাজের সর্বস্তরের দুষ্টক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির রাশ টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
(৬) বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে।
(৭)প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিত নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পাল(ombudsman) এর পদ সৃষ্টি করা হবে।
(৮) বাংলাদেশ আজ নিরাপওাহীন ঝুকিপূর্ন এক জনপদে পরিনত হয়েছে।মার্তৃগর্ভেও শিশুর নিষ্ঠুর অপরাধের থাবা থেকে মুক্ত নয়।বিচারলয় আজ বিরোধী মতের নেতা কর্মীদের দমনে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে বিচার প্রার্থীরা আদালতের সেবা থেকে বন্চিত হচ্ছে। দেশে আশংকাজনকভাবে বিচারহীনতা যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।সে লক্ষ্যে জনপ্রশাসন বিচার ,পুলিশ ও কারাগার এই চার প্রতিষ্ঠান কে সংস্কারের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ, দক্ষ আধুনিক ও যুগপোযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
(৯) বিএনপি মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদায় বিশ্বাসী আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।অবশ্যই আইনের শাসনের নামে কোন প্রকার কালা কানুন শাসন গ্রহনযোগ্য হবে না।বিএনপি সকল প্রকার কালা আইন বাতিল করবে।সকল প্রকার নিষ্ঠুর আচরন থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গুম খুন এবং অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটাবে বিএনপি।
(১০) বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করে জনগনের জন্য ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।অধস্তন আদালতের নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন করা হবে।
(১১) পুলিশ কনস্টবল/ট্রাফিক পুলিশ এবং এএসআই পর্যন্ত নিম্ন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে একটানা ৮ ঘন্টার বেশী দায়িত্ব দেয়া হবে না/দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হবে না।ঝুকিপূর্ন দায়িত্ব পালনে কর্মঘন্টা হারে যুক্তিসংগত ওভার টাইম ভাতা প্রদান করা হবে।এএসআই থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত পুলিশের আবাসন সমস্যা সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
(১২) দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।
(১৩)একটি দক্ষ স্বচ্ছ গতিশীল মেধাবী জবাবদিহিতামুলক যুপগোযোগী ও গনমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে ।মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ সংস্কার করা হবে।মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ,নারী ও প্রান্তিক জাতি গোষ্ঠী কোটা ব্যতিরেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে । সকল পর্যায়ে ই গভার্ন্যান্স চালু করা হবে।জনপ্রশাসন দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে বিদেশে প্রশাষনের ব্যবস্থা করা হবে।
(১৪) প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য বিচারক নিয়োগ দিয়ে মামলার জট কমিয়ে আনা হবে ।
(১৫) এটা সর্বসম্মত স্বীকৃত যে বর্তমানে বিচার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ পদোন্নতি,পদতল এবং কর্ম নির্ধারনের জন্য একমাএ বিবেচ্য নিয়োগ করা হবে ।যোগ্যতা,মেধা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাংবিধানিক আলোক বিচারপতি উর্ধে উঠে জ্ঞান প্রজ্ঞা নীতিবোধ দেশপ্রেম বিচার বোধ ও সুনামের কঠোর মানদন্ডে যাচাই করে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ করা হবে।নিয়োগের জন্য বাচাইকৃত ব্যক্তিদের তথ্য ও সম্পদের বিবরন জনগনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে ।

দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ! ডি জি এফ আই এবং সেনাবাহিনী মুখোমুখি

সবাইকে একটু কষ্ট করে পড়ার জন্য অনুরোধ রইল। সবাই একটু কষ্ট করে পড়েন
এগুলি আপনাদের জানার দরকার
দেশের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ!
বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই (Directorate General Forces Intelligence) এবং সেনাবাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা এএসইউ এভাবে পরষ্পর মুখোমুখি হয়নি। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ তাঁর সেনাভবনের চারপাশে ASU (Army Security Unit) এর দ্বারা নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছেন।
ওদিকে গতকাল ডিজিএফআইয়ের প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুল গিয়েছিলেন ঢাকার নিকটবর্তী সাভার ক্যান্টনমেন্টে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র সাথে দেখা করতে, ASU এবিষয়ে সব খবর নখদর্পনে রেখেছে।
ঢাকা সেনানিবাসের (শক্তিশালী স্বতন্ত্র ব্রিগেড) ৪৬ পদাতিক ব্রিগেডের কমাণ্ডার ব্রিগেডিয়ার মোস্তাফিজকে শীঘ্রই তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পাঠানো হচ্ছে বিদেশে।
ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান এবং হিন্দুস্তানি এজেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মামুন খালেদ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সাথে সাথে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশের সকল জায়গা থেকে ডিজিএফআইয়ের সদস্যদেরকে ক্লোজ করে ঢাকায় তাদের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআইয়ের সংখ্যা এবং শক্তি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
শুধু তাই নয়, ডিজিএফআইয়ের লোকজন ২৪ ঘন্টা তৎপর রয়েছেন এমনভাবে যে, তাদের ডিউটির জায়গায় খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গাড়িতে করে।
অন্যদিকে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত (সম্ভাব্য আগামী সেনাপ্রধান) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজ তিনঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারেক আহমেদ সিদ্দিকীর বাসায়।
জেনারেল (অবঃ) তারেক সিদ্দিকীর বাসার পাশ দিয়ে সেনাবাহিনীর একটা পাখি উড়ে গেলেও তার চাকরি চলে যায়, সেখানে সেনাপ্রধানের অনুমতি ছাড়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজ তিনঘন্টা ধরে কী করলেন?
থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ঢাকা সেনানিবাসে। সরকার টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে বলেছে গুজবে কান না দিতে, আসল সত্য থেকে জনগণকে দূরে রেখেছে।
ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বাকশাল মুজিবের কুলাঙ্গার কন্যা ক্ষমতালোভী হাসিনা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীয়মান হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান মুখোমুখি।
নিয়মানুযায়ী ডিজিএফআই রিপোর্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে এবং এএসইউ রিপোর্ট করে সেনাপ্রধানকে।
নিয়ম ঠিক থাকলে ডিজিএফআই এবং এএসইউ মুখোমুখি হওয়ার অর্থ হচ্ছে সেনাপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী কেউ কাউকে বিশ্বাস করছেন না, আবার সরিয়েও দিতে পারছেন না।
যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণ সচেতন মহলের সকলেই জানেন।
কিছু দিন আগেই সেনাপ্রধানের একটি ফোনালাফ ভাইরাল হয়েছে যাতে সেনাপ্রধান তাঁর এক বন্ধু কর্ণেল (অবঃ) শহীদকে বলেছেন, বাংলাদেশের সকল গুম খুনের সাথে সরকার জড়িত।
মূলত ঐ ঘটনার পর থেকেই জেনারেল আজিজ কে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে। জেনারেল আজিজ সরকারের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ এবং তিনি তাঁর বলয় শক্তিশালী করছেন।
দেখা যাক কী হয়।
বাংলাদেশের মানুষ যেকোন মূল্যে ফ্যাসিবাদের পতন চায়।
দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয় তাহলে তো দাগই ভালো।
গণতন্ত্রের নামে হিটলারের শাসনের চেয়ে সামরিক সরকার অনেক ভালো।
বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়, পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আগত সেনা সমর্থিত নতুন সরকার কে মুক্তিকামী জনতা স্বাগত জানাতেই পারে।
বাকশালের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে আওয়ামী অত্যাচার এবং একনায়কতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরণ করেছিল।
ঠিক একইভাবে আবারও যেকোন দিন, যেকোন সময়ে আরেকবার দেশের মানুষ মিষ্টি বিতরণের অপেক্ষায়__

সহকর্মী হত্যায় ক্যান্টনমেন্টে ভয়াবহ উত্তেজনা

টেকনাফ পুলিশ কর্তৃক মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ কে হত্যার পরে কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত ১০ম পদাতিক ডিভিশনে প্রচন্ড সেনা বিদ্রোহ দেখা দেয়। উল্লেখ্য, নিহত মেজর সিনহা এই ডিভিশনের ব্রিগেড মেজর ছিলেন। ফলে এই ডিভিশনের সেনা অফিসাররা এমনকি সৈনিকরাও এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েন যে, ৪ আগস্ট মঙ্গলবার ৪০/৪৫ জন সেনা অফিসার (মেজর, লে. কর্নেল, কর্নেল) ভারী অস্ত্র এবং যানবাহনে সজ্জিত হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে পড়ার প্রস্ততি নিতে থাকেন, উদ্দেশ্য মেজর সিনহা রাশেদের খুনী দারোগা লিয়াকত, ওসি প্রদীপ, এসপি মাসুদ, এবং আরও যে কয়টা জড়িত, সবগুলোকে তুলে এনে ক্যান্টমেন্টে বন্দী করা। অতঃপর তারা নিজেরাই বিচার করবে।
দ্রুতই এই খবর পৌঁছে যায় ১০ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরীর কানে। তিনি ছুটে এসে অফিসারদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অফিসাররা অনড়। শেষে তিনি ১২ ঘন্টা সময় চেয়ে নেন। এর মধ্যে খবরটি সেনাপ্রধান হয়ে মিডনাইট প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছায়। তিনি মারাত্মক টেনশনে পড়ে যান। সেনাপ্রধান আজিজ এবং আইজিপি বেনজিরকে নির্দেশ দেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কক্সবাজারে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে এবং যা ব্যবস্থা নেয়ার নিতে। পরদিন সকালেই সেনাপ্রধান রামু সেনানিবাসে পৌঁছান, অফিসারদের সাথে কথা বলেন, সর্বোচ্চ বিচারের আশ্বাস সেন, তার ওপর আস্থা রাখতে বলেন। অতঃপর আইজিপিকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান, যৌথ প্রেস কনফারেন্স করেন, মামলা হয়, আসামীরা এরেস্ট/সারেন্ডার হয়, রিমান্ড মঞ্জুর হয়। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্তই থাকে। আইএসপিআর থেকে বলা হয়, পুলিশের নির্মমতার এটাই শেষ ঘটনা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনা-পুলিশ যৌথ টহল হবে।
রামু সেনানিবাসে বিদ্রোহের খবর অন্যান্য ক্যান্টনমেন্টে পৌঁছালে প্রতিটায় সেনা ও অফিসারদের মধ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে প্রতিটি ক্যান্টনমেন্টে দরবার অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ট্রুপরা মেজর সিনহা রাশেদ হত্যার বিচার নিয়ে পয়েন্ট দিতে থাকে। সৈনিক থেকে অফিসার সবার এক কথা- মেজর রাশেদ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক চরম শাস্তি না হলে সেনাবাহিনী নিজেরাই ব্যবস্থা নিবে। প্রতিটি এরিয়া থেকে অফিসার ও জওয়ানদের মনোভাব এবং অবস্থা সেনাপ্রধানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
এখন পরবর্তী ৭দিন দেখার পালা- কী হয়। এরই মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে সিনিয়র মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অবশ্য ফোঁড়ন কেটেছেন, মেজর রাশেদ হত্যাকে পুঁজি করে সরকার পতনের চেষ্টা করছে কেউ কেউ! কিন্তু এ হত্যার উপযুক্ত বিচার না হলে সেনাদের বিচার যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বোধ হয় তারা কেনো, কেউই জানে না!
উল্লেখ্য, কুখ্যাত ইয়াবা সম্রাট বদির সিন্ডিকেটের প্রধান ব্যক্তি হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ইয়াবা সিন্ডিকেটের বিষয়ে বিশদ তদন্ত করলে ওবায়দুল কাদেরের নাম আসবে।

ভাবার্থ – বাঘ পোষ মানা হলেও তার লেজ দিয়ে কখনও কান চুলকাতে যাবেন না।

হায়রে আমার দেশ!

সাবধানে চলাফেরা করিস বোন ! এই দেশটা জানোয়ারে ভরে গেছে ।
ব্লেড দিয়ে যখন আমার যৌনিপথ বড় করা হচ্ছিল, তখন আমি আল্লাহ কে ডাকছিলাম। (৪ বছরের ধর্ষিতা মেয়েটি) ।
~আমার স্বামী ছেলেকে দরজার সাথে বেধেঁ ওদের সামনে আমায় ধর্ষন করলো। (ধর্ষিত নারী রহিমা)।
~ভালোবাসার মানুষটাকে বিশ্বাস করে তার সাথে ঘুরতে গেছিলাম, সে তার বন্ধুদের নিয়ে গনধর্ষন করলো আমায়।(কলেজের ধর্ষিতা মেয়ে তানিয়া)।
~খুব গরিব ছিলাম তাই মাইনষের বাড়ি কাজ করতাম, একদিন মালিকের বউ বাড়িতে ছিলো না, আমি ঘড় মুছতাছিলাম তখন মালিক আইসা দরজা বন্ধ কইরা আমারে ইচ্ছা মতো ধর্ষন করলো। (ধর্ষিতা কাজের বুয়া আছমা বেগম)।
~নিজের জন্মদাতা পিতা নেশাগ্রস্ত অবস্হায় বাসায় এসে ধর্ষন করলো আমায়। (অভাগী ধর্ষিতা মেয়ে মিতু, ধানমন্ডি)।
~কলেজে যাওয়ার সময় বখাটে ছেলেরা ডিস্টার্ব করে তাই থানায় ডাইরি করতে গেছিলাম আমি আর আমার ছোট ভাই,,, ভাইরে দুকানে যাইতে বইললা, আমাকে পিস্তলের ভয় দেখাইয়া ধর্ষন করলে আমায় কামাল গাও মডেল থানার ওছি। ( ধর্ষিতা মেয়ে টুম্পা)।
~আমায় বিয়ে করার লোভ দেখিয়ে বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষন করলো তারপর আমার গলা কেটে বস্তায় করে নদিতে ফেলে দিলো। (ধর্ষিতো মেয়ে মেঘলা)
~সারাদিন কাজ করে বাসায় ফিরার পথে ছোট ছেলের জন্য বিস্কুট কিনে বাসে উঠছিলাম, যে যার মতো নেমে গেছে, বাস যখন খালি তখন মাঝ রাস্তায় বাস থামিয়ে সেই বাসেই আমায় ধর্ষন করলো বাস চালক। (গার্রমেন্টসের ধর্ষিতা আয়শা)।
~প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে আর আমার মাকে এক বিছানায় ধর্ষন করলো এলাকার বখাটে। (ধর্ষিতা মেয়ে নুসরাত )
~বাবা মার স্বপ্ন ছিলো আমি ডাক্তার হবো, তাই খুব মন দিয়ে পড়াশোনা করতাম কোচিং করতে স্যারের বাসায় গেছিলাম স্যার পাশের রুমে ডেকে নিয়ে আমার হাত পা বেঁধে ধর্ষন করলো। (ধর্ষিতা ছাত্রী)
~সবাই বলতো মেয়েদের পোশাক নাকি ধর্ষনের মূল কারণ তাই ইসলামী বোরকা হাতে পায়ে মুজা পড়তাম, বিশ্বাস করেন আমার চোখগুলা ছাড়া আমার শরীলের কিছুই দেখা যেতো না, তবুও খালি রাস্তায় একা পেয়ে কিছু জানোয়ার আমাকে গনধর্ষন করলো। ( ধর্ষিতা মেয়ে খাদিজা নুর)
~করোনা ভাইরাস এর জন্য,,, ঘড়ে খাদ্য নেই বলে ত্রাণ আনতে গিয়ে ৪ বছরের ধর্ষিত শিশু।
লক্ষ্মীপুরে ক্যান্সারে মৃত স্বামীর লাশ আনতে স্ত্রী গিয়েছিলো ঢাকাতে।
এদিকে বাড়িতে রেখে যাওয়া ৯ম শ্রেণীর কন্যা
হিরা মণিকে দিনের আলোতে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে জানোয়ারের
দল।

আমিলজ্জিত কারণ আমি বাংলাদেশি

করোনায় ৪৬ জন না ভাই,
এ জাতির প্রতিদিন ৪৬ হাজার করে মরা উচিত।
‌সাব্বাস বাংলাদেশ সাব্বাস,,,
আরো এমন হাজারো ধর্ষিতার অভিযোগ লুকিয়ে আছে ধর্ষিতো লাশটির মাঝে। নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটা কি পাপ?
স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, গার্মেন্টস, রাস্তা,, এলাকা এমন কি নিজ বাসায়ও মেয়েরা নিরাপদ নয়।
প্রতিবাদের ভাষা হাড়িয়ে ফেলছি,,, কাকে কি বলবো, এরা মানুষের ক্রন্দন বুঝে না। আজ গানটা ভিষণ মনে পড়ে গেলো……
কতোটুকু অশ্রু গড়ালে হ্নদয় দলে সিক্ত, কতো প্রদিপ শিখা জ্বালালেই জীবন আলোই দিপ্ত।
কতো ব্যাথা বুকে ছাপালেই, তাকে বলি আমি ধৈর্য,

আমার লেখালেখির প্লাটফর্ম পরিবর্তন

প্রিয় পাঠক/ পাঠিকা বৃন্দ ,

আমি অনেক দিন যাবত আমার অনলাইন ব্লগে লেখালেখি করি। বেশীর ভাগ সময়ে আমি রাজনীতি নিয়ে লিখতে পছন্দ করি। আপনাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আমি আরও বেশী লেখালেখি করতে চাই। আর এজন্যই সময় উপযোগী প্লাটফর্মকে আমি বেছে নিতে চাই। আপনারা সবাই অবগত আছেন যে বর্তমান সময়ে ফেসবুক একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষেরা এখন ফেসবুক ব্যবহার করে। আমি আমার মতামত, রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণ এবং মানবধীকার নিয়ে আমার লেখালেখি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌছিয়ে দিতে চাই। আমি চাই আমার দেশের মানুষ তাঁদের মৌলিক অধিকারগুলো ফিরে পাক এবং আওয়ামী নামক শাসকের কবল থেকে সবাই মুক্তি পাক।

আর এজন্যই আমি খুবই কম লেখালেখি করবো আমার এই ব্লগে। আজকের পর থেকে আমি আমার ফেসবুক পেজ এ নিয়মিত লেখালেখি করবো। আপনাদের সবার প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা আমার ফেসবুক এ ফলো করুন।

আমার ফেসবুক পেজ এর নাম ঃ Md Sabbir Hossain

link: https://www.facebook.com/mdsabbirhossain.bangladesh

সিরিজ জয় টাইগারদের

ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ানোর কথা ছিল না। ব্যাটে বলে দুর্দান্তই ছিল বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে ম্যাচটি ঠিকই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যে উত্তেজনাকে পাশ কাটিয়ে শেষ হাসি হেসেছে টাইগাররাই। ১৮ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১’এ হারিয়ে সিরিজ জিতেছে মাশরাফির দল।

৩০২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে সেভাবে চড়াও হয়ে খেলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মারমুখী ছিলেন ক্রিস গেইল, করেন ৬৬ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় ৭৩ রান। শাই হোপ ৬৪ করলেও খরচ করেন ৯৪টি বল। শেষদিকে রভম্যান পাওয়েলের ৪১ বলে ৭৩ রানেই জয়ের সম্ভাবনা জেগেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

বাংলাদেশের পক্ষে ২টি উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি।

এর আগে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচের শুরুর অর্ধেকটা মন মতোই করতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। রান বন্যার সেন্ট কিটস মাঠে রানের খোঁজে ধুঁকতে হয়নি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে আবারও রান করেছেন তামিম ইকবাল। শেষদিকে ঝড় তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এই দুইয়ের ব্যাটে ভর করেই মূলত বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছে টাইগাররা। প্রায় বছর দুয়েক পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের মিশনে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ৩০১ রানে।

সিরিজে টানা তৃতীয়বারের মতো টসে জেতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথম ম্যাচে করেন আগে ব্যাটিং, দ্বিতীয় ম্যাচে নেন আগে বোলিং। তৃতীয় ম্যাচে এসে আবারও আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক। জানিয়ে দেন ব্যাট করার জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে সেন্ট কিটসের এই উইকেট।

কিন্তু তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়ের উদ্বোধনী জুটিতে মনেই হয়নি উইকেট ব্যাটিং বান্ধব। আগের দুই ম্যাচে বড় রান করতে ব্যর্থ হওয়া বিজয় এই ম্যাচেও আউট হয়েছেন অল্পতেই। ৩১ বলের ইনিংসে রান করতে পেরেছেন মাত্র ১০। উইকেটে একবারের জন্যও স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি তাকে। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় সিরিজে তৃতীয়বারের মতো তামিমকে একা করে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

jagonews24

আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেও। বন্ধু তামিমের সঙ্গে সাকিব আল হাসান আবারও গড়েন ইনিংসের ভীত গড়ে দেয়া জুটি। তামিমের ধীরস্থির ব্যাটিংয়ের সাথে ছিল সাকিবের উইকেটের চারপাশে রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখা ব্যাটিং। চোখের পলকে মাত্র ১৬ ওভার ব্যাট করে এই জুটিতে যোগ হয় ৮১ রান।

টানা তৃতীয় অর্ধসেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সাকিব ফিরে যান টপ এজ হয়ে স্কয়ার লেগে ধরা পড়ে। আউট হওয়ার আগে সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৩ চারের মারে করেন ৩৭ রানে। খেলেন মাত্র ৪৪টি বল। সাকিব ফিরে গেলেও ক্যারিয়ারের ৪৩তম অর্ধশত তুলে নিতে কোন ভুল করেননি তামিম।

অর্ধশত পেরিয়ে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে নতুন করে ইনিংস গড়ার কাজে মন দেন তামিম। কিন্তু দারুণ শুরু করা মুশফিক অদ্ভুত এক শট খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরে যান মাত্র ১২ রান করে। তার ব্যাট থেকেই আসে ইনিংসের প্রথম ছক্কাটি। দলীয় সংগ্রহ দেড়শ পার করিয়েই সাজঘরে ফিরে যান। অন্যপ্রান্তে অবিচল থেকে যান আস্থার আরেক নাম হয়ে ওঠা তামিম।

চতুর্থ উইকেট জুটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে পেয়ে যেন খানিক নির্ভার হন তামিম। খেলতে শুরু করেন হাত খুলে। জোড়া বাউন্ডারিতে পৌঁছে যান ৮০’র ঘরে। জাগিয়ে তোলেন সিরিজে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। পরে নব্বইয়ের ঘরে ঢুকে ৯২ থেকে এক ছক্কায় চলে যান ৯৮ রানে।

বাকি দুই রান নেন সাবধানী ব্যাটিংয়ে এক-এক করে। তুলে নেন ক্যারিয়ারের একাদশ ও চলতি সিরিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। ব্যক্তিগত ১০৩ রানের মাথায় দেবেন্দ্র বিশুর ওভারে মিড উইকেটে ধরা পড়েন তামিম।

তিন ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও এক ফিফটিতে ২৮৭ রান করে তামিম গড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ভেঙে দেন ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই গড়া দীনেশ রামদিনের ২৭৭ রানের রেকর্ড।

তামিম ফিরে যাওয়ার পরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাব্বির-মোসাদ্দেকের আগেই ব্যাট হাতে নেমে যান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের বলা ‘এই উইকেটে ব্যাটিং সহজ হবে’ কথাটার বাস্তব প্রমাণ দিতেই নেমে যান মাশরাফি। ব্যাটিংয়ে নেমে সময় নেননি খুব বেশি।

অপর প্রান্তে নির্ভরতার প্রতীক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকায় নির্ভয়ে খেলতে পারছিলেন মাশরাফি। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের এক ওভারে হাঁকান পরপর তিন বাউন্ডারি। হোল্ডারের পরের ওভারেই লংঅনের উপর দিয়ে মারেন এক ছক্কা। রিয়াদ-মাশরাফির জুটিতে চোখের পলকে ২৫০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ।

পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৪২ বলে ৫৩ রান পায় বাংলাদেশ। ২৫ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কার মারে ৩৬ রান করে ফেরেন মাশরাফি। অপর প্রান্তে বাংলাদেশ দলের ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে অবিচল ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। স্লগ ওভারে ব্যাটিংয়ে আসেন হার্ডহিটার হিসেবে পরিচিত সাব্বির রহমান।

কিন্তু সাব্বিরের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক খেলছিলেন মাহমুদউল্লাহই। এতোক্ষণ ধরে উইকেটে থেকে বিশাল এক ছক্কার মারে রিয়াদ তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৯তম অর্ধশতক। শুরুতে ব্যাটে-বলে এক করতে পারছিলেন না সাব্বির। ৪৯তম ওভারে পরপর দুই বলে দুটি ৪ মেরে পরের বলেই সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

তবে অপরাজিতই থেকে যান মাহমুদউল্লাহ। শেষপর্যন্ত তার দুর্দান্ত ফিফটিতেই ৩০০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষের দশ ওভারে আসে ৯৬ রান। মাত্র ৪৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কার মারে ৬৭ রান করেন রিয়াদ। ৫ বলে এক চারের মারে ১১ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ছয় উইকেটে ৩০১ রানে।

স্বাগতিকদের পক্ষে দুইটি করে উইকেট নেন অ্যাশলে নার্স ও জেসন হোল্ডার।

ওসিই মাহমুদুর রহমানকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন : মির্জা ফখরুল

ওসিই মাহমুদুর রহমানকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুলিশের সহায়তায় কুস্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, মাহমুদুর রহমান হামলার কথা বুঝতে পেরে কোর্টে অবস্থান নেন। পরে কোর্টের ওসির কথায় তিনি আদালত থেকে বের হয়ে আসেন। কোর্টের ওসি জোর করে মাহমুদুর রহমানকে বের করে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান হামলার পর সেখানে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগও পাননি। কিন্তু সরকারের উচিত ছিল তাকে পুলিশের সহযোগিতায় চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় আসার ব্যবস্থা করে দেয়া। সরকার সেটি করেনি। এ হামলার ঘটনায় ধিক্কার জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি। হামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো দেশের প্রতিটি সেক্টর সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে শুধু মাহমুদুর রহমান নয়, কোনো নাগরিক আদালত বা কোথাও নিরাপদে থাকবে না।
আজ রবিবার সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এসব কথা বলেন। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন এ্যানী, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফখরুল বলেন, মাহমুদুর রহমান হামলার আশঙ্কা বুঝতে পারার পর তিনি আদালতের কাছে নিরাপত্তা চাইলে আদালত থানার ওসিকে ডাকেন। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মাহমুদুর রহমানকে নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে আসেনি। এমনকি উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা চাওয়ার পরও তাকে সহযোগিতা করা হয়নি। মাহমুদুর রহমান আদালতে যাওয়ার পর সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে এলাকা ঘিরে রাখে। মাহমুদুর রহমান কোর্টের ওসির কথায় আদালত থেকে বের হওয়ার পর চারদিক থেকে তার ওপর হামলা করা হয়। ফলে তার মাথা ও গালে আঘাত লাগে, তিনি রক্তাক্ত হন। একজন জনপ্রিয় সম্পাদকের ওপর এভাবে নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় মামলা হয়। ওই মামলায় জামিন পেতে কুষ্টিয়া আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই মামলায় আদালত আজ তাকে জামিন দিয়েছেন।

আবার জাতিকে ধোঁকা, “মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবেনা”। সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবে না

হাইকোটের্র রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা তাতে হাইকোটের্র রায় রয়ে গেছে। যেখানে হাইকোটের্র রায়ে আছে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে ওই কোটার বিষয়ে তারা কীভাবে কোটের্র ওই রায় ভায়োলেট করবেন। সেটা তো তারা করতে পারছেন না। এই রায় অবমাননা করে তখন তো তিনি কনডেম্প অব কোটের্ পড়ে যাবেন। এটা তো কেউ করতেই পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে কোটা পূরণ হবে না, কোটার যেটা খালি থাকবে, তা মেধার তালিকা থেকে নিয়োগ হবে। এটা আমরা করে দিয়েছি। গত কয়েক বছর থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।’

ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর ও আক্রমণ করেছে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উচ্ছৃঙ্খলতা কখনো বরদাশত করা যায় না। ভাঙচুরকারীরা ভিসির বাড়ির ক্যামেরার চিপস নিয়ে গেলেও আশপাশে থাকা ক্যামেরা দেখে তাদের একটা একটা করে খুঁজে বের করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আক্রমণ করেছে, তাদের তো ছাড়া হবে না। তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকে স্বীকারও করছে। যত আন্দোলনই হোক না কেন, এদের ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

কোটা আন্দোলনকারীরা কী চায়, তা সঠিকভাবে বলতে পারে না উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, কোটা নিয়ে আন্দোলন। এটা কী আন্দোলন? ঠিক তারা যে কী চায়, বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, সেটা কিন্তু সঠিকভাবে বলতে পারে না।

তিনি বলেন, আজকে আন্দোলন তারা করছে খুব ভালো কথা। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ছেলেপুলে আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া, গাড়িতে আগুন দিয়ে পোড়ানো, বাড়ি ভাঙচুর করা, বেডরুম পযর্ন্ত পৌঁছে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা, স্টিলের আলমারি ভেঙে গয়না, টাকা-পয়সা সব কিছু লুটপাট করেছে। ভিসির পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে থেকে প্রাণ বঁাচিয়েছেন। এটা কি কোনো শিক্ষাথীর্র কাজ? এটা কি কোনো শিক্ষাথীর্ করতে পারে?

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কথায় কথায় তারা বলে ক্লাস করবে না। ক্লাসে তালা দেয়, ক্ষতিগ্রস্ত কারা হবে? আমরা সেশনজট দূর করেছি। এদের কারণে এখন আবারও সেই সেশনজট। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকা খাবার, কোথায় আছে পৃথিবীর। আজ নতুন নতুন হল বানিয়েছি। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিট ভাড়া আর খাবারে বাজারদর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক।’

মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাবে। টেনশনে আমি বঁাচি না। আমি পুলিশকে, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকমীের্দর বলেছি- এই মেয়েদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।

তিনি বলেন, ‘বলেছি, কোটা সংস্কার আমরা করব। আমি তো বলেছি টোটাল কোটা বাদ দিতে। আমরা তো কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটিও করে দিয়েছি। তারা সেটা দেখছে। তাহলে এদের অসুবিধাটা কোথায়?’

এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

বৃহস্পতিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সরকারপ্রধানের প্রতি এই আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

রওশন বলেন, ‘কোটা নিয়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে অনেক বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে। তারা তো আমাদের সন্তান। তারা তো আবদার করবেই। তারা তো চাকরি চাইবে। তাদের চাকরিতে যেমন করে হোক প্রোভাইড করতে হবে। চাকরি দিতে হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সচেতন আছেন চেষ্টা করছেন। মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব তিনি যেন সহানুভ‚তির দৃষ্টি নিয়ে এই বিষয়টি বিবেচনা করেন।’

চলতি অধিবেশনের বাজেট বক্তৃতাতেও প্রধামন্ত্রীর প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতীয় পাটির্র জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন।
সংসদে পাস হওয়া বাজেট প্রসঙ্গে রওশন বলেন, ‘বাজেটে প্রণোদনা নেই। ব্যাংক লুটপাটকারীদের কর কমানো হয়েছে। ব্যাংক খাতে লুটপাট চলছে। মানুষের করের টাকায় দিতে হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ১৬ লাখ মানুষ ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে।’

সংসদে বক্তব্য দিতে উঠলে রওশন সবসময় খাদ্যে ভেজালের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই প্রসঙ্গ বৃহস্পতিবারও তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুযোগ করে তিনি বলেন, ‘যতবারই বলি প্রধানমন্ত্রী হেসে উড়িয়ে দেন। হেসে উড়িয়ে দেয়ার কথা না। ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে গড়বেন? আবহাওয়া পযর্ন্ত দূষিত। নদী ভালো রাখেনি। আবহাওয়ায় সীসা। এগুলো দেখতে হবে।’

রাজধানীতে যানজট নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা ‘সাহস’ করে কথা বলতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী নেতা।
‘প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি চলাচল করলে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। রাস্তায় যানজট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। অন্য রাস্তায় যাওয়ই যায় না। বৃষ্টিতে সব রাস্তা ভাঙা। কেউ বলে না সাহস করে। এখানে যারা আছেন সবাই জানেন। রোডস হাইওয়ে মন্ত্রী আছেন। কিন্তু কারও সাহস নেই বলার। সবাই যানজটে নাকাল থাকে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নদী থেকে বালু তুলছে। আপনি জনগণের নেতা আপনি বের হয়ে দেখতে না পারলে কিভাবে হবে। বের হয়ে দেখেন। আপনাকে রোধ করতে হবে এগুলো। আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছি আমরা। কত ঝুঁকি নিয়ে নিবার্চন করেছি। আপনি জাতির পিতার কন্যা। আমার কাছে ক্ষমতা থাকলে আমি দেখতাম।’

অথর্বছর পরিবতের্নর দাবি করে রওশন বলেন, ‘অথর্বছর পবিতের্নর কথা বলতে চাই। ব্রিটেনে অথর্বছর শুরু হয় এপ্রিল মাসে। যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে হতে পারে। যখন অর্থবছর শুরু হয় তখন বৃষ্টি আসে। কাজ ঠিকমত করতে পারি না। অথর্বছর পরিবতের্নর বিষয়ে সবাই বিবেচনা করবেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনের আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। ছবি: দীপু মালাকার

সংবাদ সম্মেলনের আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের ওপর আজ শনিবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ছাত্রলীগ এ হামলা চালিয়েছে। তাঁদের এক নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রলীগ অজ্ঞাত স্থানে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ছাত্রলীগ বলছে, আন্দোলনকারীদের একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সাধারণ ছাত্ররা তাঁদের প্রতিহত করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আজ বেলা ১১টার সময় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনের আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে মারধর করা হয়।মারধরের একপর্যায়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ছবি: দীপু মালাকার

মারধরের একপর্যায়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের ভাষ্য, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল থেকে পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানকে ছাত্রলীগের কয়েকজন তুলে নিয়ে গেছেন। তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের হামলায় তাঁদের ১২-১৩ জন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, আতাউল্লাহ, আরিফ, মামুন ও জসিমের নাম বলেন তিনি।

এর আগে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর পিস্তল ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়। আমরা তাদের কাছে এটা প্রত্যাশা করিনি।’ রাশেদ খান ওই সময় আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পরে জানানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উপস্থিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় আন্দোলনকারীদের পাঁচ-ছয়জনকে মারধর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, দুপুর ১২টার কিছু পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের মোহাম্মদ আরশ উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘ধর ধর’ বলে তাঁকে মারতে থাকেন। এ সময় তিনি জ্ঞান হারান। পরে তাঁকে রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা। ছবি: দীপু মালাকার

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। তবে মোটরসাইকেলটি কার, তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপসম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, ‘কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট ঘোষণার পর যাঁরা আন্দোলনে ছিলেন, তাঁরা পড়ার টেবিলে ফিরে গেছেন। কিন্তু একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের সাধারণ ছাত্ররা প্রতিহত করেছেন। আমরা প্রথমে ছাত্র, পরে ছাত্রলীগ। এ ঘটনা ছাত্রলীগ ঘটায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাঁদের প্রতিহত করেছেন।’

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের ঘোষণার আড়াই মাসেও কোটা সংস্কারের কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এ নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আজ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল।

কুষ্টিয়ায় ছাত্রদল ও বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মী আটক

অভিযান চালানো বাড়িটি
অভিযান চালানো বাড়িটি

কুষ্টিয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৯ জুন) রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম বাড়িটিতে অভিযান চালায়।

অভিযানে নবগঠিত কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মিথুন, সাধারণ সম্পাদক এসআর শিপন, যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাব্বী, রফিকুল ইসলাম প্রশান্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রাসেলসহ অন্তত ৩০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ ছিল ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর বাড়িতে বিএনপির একদল নেতাকর্মী বিস্ফোরক দ্রব্যসহ নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই সংবাদের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত নেতারাসহ ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর সঙ্গে তার বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নেতা-কর্মীদের আটক করে।

গত ০৫ জুন বাংলাদেশ জাতীয়াতাবাদী ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকরামুল হাসান ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন।