বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন নয় মিথ্য ও প্রতারণার রোল মডেল। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের সাথে মিথ্যা কথা বলে, প্রতারণা করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অ্যাব আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও তার দলের নেতারা বলেন আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছি। বিশ্বের কাছে আমরা এখন উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু কিসের উন্নয়ন, কোথায় উন্নয়ন? জনগণের কথা বলার, ভোটের অধিকার নেই আর সকরার বলছে উন্নয়নের রোল মডেল। আসলে উন্নয়ন নয় বাংলাদেশ হচ্ছে মিথ্যা ও প্রতারণার রোল মডেল। তিনি বলেন, দেশের সব অর্থিক খাত ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এসব আমার কথা নয়, সিপিডি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলো শেষ হয়ে গেছে অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে। আর সরকার বলে উন্নয়নেরর জোয়ার বইছে, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আসলে এগুলো সবই জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, বর্তমান ভোটার বিহীন সরকারের অপশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গণ বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আর সে জন্য মানুষেরর কাছে যেতে হবে, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কারণ এ সরকার গোটা দেশের সব শেষ করে দিয়েছে। খালেদা জিয়াকে নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। একটি মানুষ আছেন যাকে কেন্দ্র করে মানুষ এগিয়ে যাওয়া প্রেরণা পায়। আন্দোলন ও ভোটের অধিকার ফিরে পেতে প্রেরণা পায়। বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও পালন করতে দেয়না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যেখানেই প্রোগ্রাম করতে চাই সেখানে বাধা দেয়া হয়। কোথাও জড় হলে বলে এখানে সভা সমাবেশ করা যাবে না, কারণ কি এখানে নাকি নাশকতা হবে। সরকার ও প্রশাসনের কথায় মনে হয় তারা সবাই জ্যোতিষ, আচার্য। তিনি বলেন, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশালে, রাজশাহীতে আমাদের ১ ঘণ্টা আগে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। খুলনা, বরিশালে বলছে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। যখন বলা হলো গোটা শহরে সমাবেশ হবে পারলে গুলি করেন তখন তারা সরে যায়। আসলে যেখানে প্রতিরোধ সেখানে সরে যায়। মনে রাখতে হবে প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। এমনকি মানুষের সব শেষ আশ্রয় বিচারালয় ও তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। আমাদের এখন বলতে বাধা নেই নিম্ন আদালতের বিচারকরা অপেক্ষায় থাকে কখন উপরের মহল থেকে নির্দেশ আসবে তখন রায় ঘোষণা করবে। উচ্চ আদলতের ওপর একটা আস্থা ছিলো, কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলায় জামিনের বিষয়ে তারাও সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে জামিন স্থগিত করলে। এটি সম্পূর্ণ নজির বিহীন। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সব বিরোধী দল একমত হয়েছে বর্তমান সরকারেরে অধীনে সুষ্ঠু হবে না। তখন বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে কোনো দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাহলে আজ কেন আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না? আমাদের সবাইকে আবার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষের গণতান্ত্রিক, নাগরিক ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে যে অরাজক উপরিস্থ তার জন্য ভোটার বিহীন সরকার ব্যবস্থা দায়ী। আর সে জন্য আমরা বার বার বলছি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সে ব্যবস্থা এখনও করার কোনো প্রক্রিয়া আমরা দেখছি না। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের বিষয়ে তিনি বলেন, মিথ্য মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। নজির বিহীন ভাবে তার জামিন আটকে রাখা হয়েছে। তার জামিনও বিলম্বিত করছে। আমাদের দেশে আইনে আছে ৫ বছরেরে কম সাজ। হলে উচ্চ আদালত তাকে জামিন দিতে পারে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বেলায় ত। করা হয়নি। উদ্দেশ্য তার কারাবাস দীর্ঘায়িত করা। তিনি বলেন, যখন বিচারপতি খাইরুল হক সংবিধান কাটা ছেড়া করে একটি বিতর্কিত রায় দিয়েছে তখনই দেশে সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ ওই রায়ের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ভোটার বিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম করে দিয়েছে। ফখরুল বলেন, আবারও একদলীয় শাসন ফিরিয়ে আনার মূল হোতা বিচারপতি খাইরুল হক। তার পরে যারা এসেছেন তারা সবাই এটাকে আবার বহাল করতে কাজ করছেন। এটা একটি ষড়যন্ত্র একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার। প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ড্যাব মহাসচিব এ জেড় এম জাহিদ হোসেন।
‘ভারতবিরোধী’ অবস্থান বদলাচ্ছে বিএনপি?
সম্প্রতি ভারত সফর করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর। ছবি: সংগৃহীতবিএনপি কি তার ভারতবিরোধী অবস্থান পাল্টাচ্ছে? দলটির কয়েকজন নেতার সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে এ প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে গিয়ে দলের এক নেতা বলে ফেলেছেন, সরকারে থাকার সময় ভারতের সঙ্গে বিএনপির বৈরী আচরণ ‘ভুল ও বোকামিপূর্ণ ছিল’।
বিএনপির তিন নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি দিল্লি গিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ‘প্রকৃত গণতান্ত্রিক আবহ প্রতিষ্ঠায়’ সাহায্য করার আরজি নিয়েই তাঁরা সেখানে যান।
বিএনপির নেতাদের এই সফরের পর দলটির অনেক নেতাই বলছেন, এর মাধ্যমে তাঁদের দল ভারতবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসছে। বিশেষ করে ভারতের গণমাধ্যমে হুমায়ুন কবীরের দেওয়া বক্তব্য ‘ভারতের সঙ্গে বিএনপির বৈরী আচরণ ভুল ও বোকামিপূর্ণ ছিল’ কথাটিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন দলের নেতারা। কেননা হুমায়ুন কবীর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন। আর তারেক রহমানই এখন দলের সবকিছু। ফলে সেখান (তারেক রহমান) থেকে যে ভারত বিষয়ে বিএনপির অবস্থানই দলের অবস্থান হবে, এটাই স্বাভাবিক।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, সম্পর্কটা কখনো একপক্ষীয় হয় না। এটা দুই পক্ষ থেকেই আসতে হয়। বিএনপি ভারতে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিজেপি ও কংগ্রেসের কাছে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছে। যেসব বিষয়ে তাদের উদ্বেগের বিষয় ছিল, সেগুলো দূর করেছে। কিছু আশ্বাসও দিয়েছে। দেশটির থিংকট্যাংক হিসেবে পরিচিত কয়েকটি সংগঠনের কাছেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। বিএনপির ওই নেতা বলেন, তাঁদের মতো ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোও চায় বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনঅবশ্য এই সফর সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, দলের পক্ষ থেকে কেউ ভারতে গেছেন বলে তিনি জানেন না।
তারপরেও নির্বাচনের আগে ভারতে বিএনপির এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক এবং প্রধান দুই দলের তাত্ত্বিকেরা। তাঁরা বলছেন, চলমান বাস্তবতা বুঝে বিএনপি তাদের ভারতবিরোধিতার নীতিতে পরিবর্তন আনছে। বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসছে—এই সফর ও সেখানে গিয়ে তাঁদের কথাবার্তায় তা স্পষ্ট বলেও মনে করেন কেউ। তবে কেউ কেউ আবার মনে করছেন, এ সফর বা নমনীয় আচরণ কেবল নির্বাচনী কৌশল। দলটি এখনো নানা কর্মকাণ্ডে অকারণ ভারতবিরোধিতায় মেতে থাকে।
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুকে বলেছেন, ‘পেছনে না তাকিয়ে আমাদের সামনের দিকে তাকানো উচিত। গত শতকের ৮০ ও ৯০-এর দশকের রাজনীতি এখন বাতিল হয়ে গেছে।’ ৮০ ও ৯০-এর দশকের রাজনীতিটা আসলে কী, তা আরও স্পষ্ট করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে খারাপ সম্পর্ক ছিল, তা ‘ভুল ও বোকামিপূর্ণ’ নীতির ফসল। পত্রিকাটিকে হুমায়ুন কবীর এ-ও বলেছেন, ‘তারেক রহমান চান, আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলি।’
হুমায়ুন কবীরের এ মন্তব্য সম্পর্কে বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘তাঁকে আমি চিনি না। কে কোথায় কী বলল, তার ব্যাখ্যা আমি দেব না।’
দ্য হিন্দু পত্রিকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘বড় প্রতিবেশী ভারতের গঠনমূলক ভূমিকা চায় বিএনপি। কোনো একটি দলকে ভারত সহায়তা করুক, এটাও চায় না।’
উল্লেখ্য, ভারতবিরোধিতা বিএনপির রাজনীতির একটি বড় অনুষঙ্গ। দলটির উদ্ভব, বিকাশ, নির্বাচনী কর্মকাণ্ড, এমনকি নিত্যদিনের রাজনৈতিক বিবৃতিতে এ বিরোধিতার উদাহরণ স্পষ্ট। বিএনপি তার প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগকে ভারতের কাছে নতজানু বলে বরাবরই কোণঠাসা করতে চেয়েছে।
সাম্প্রতিক সফর সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের বিভিন্ন থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদ ও সেখানকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যে সংকট চলছে, সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মতো ভারতও এ দেশে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। একটি ভালো নির্বাচনের জন্য কী প্রয়োজন, সে সম্পর্কে বিএনপির চাওয়াগুলো তাদের জানানো হয়েছে।
বিএনপির সঙ্গে ভারতের দূরত্ব কমেছে কি না, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির কোনো নেতাই সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তাঁরা বলেছেন, এই সফর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ধারার সূচনা করবে। ভারতের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ বাড়াবে। হঠাৎ ভারতের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর ব্যাপারে বিএনপির আগ্রহের কারণ কী, জানতে চাইলে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভৌগোলিক ও বিশ্বে রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশটিকে এড়িয়ে বাংলাদেশের শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নও কঠিন। তা ছাড়া ঢালাও বিরোধিতা এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলে না। এ ছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যাপারে ভারতের নেতিবাচক অবস্থান রয়েছে। ভবিষ্যৎ দলীয় প্রধানের ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশটির অবস্থান ইতিবাচক হওয়া দরকার। এটিও বিএনপির চিন্তায় রয়েছে।
এযাবৎকালের রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে নিবিড় বাণিজ্য ও কানেকটিভিটির বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। খ্যাতনামা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান তাঁর ‘পলিটিক্যাল পার্টিস ইন বাংলাদেশ’ বইয়ে লিখেছেন, কোনো সুনির্দিষ্ট এবং একক কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিকে পৃথক করা যায় তা হলো, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দলটির ভারতবিরোধী মনোভাব। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটির ভিত্তিমূল ছিল এই বিরোধিতা।
তবে ভারতের গত সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপি ভারত সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ী হওয়ার লক্ষণ টের পেয়ে দেশের বিএনপিমনস্ক সংখ্যালঘুদের একটি দলকে ভারতে পাঠায় বিএনপি। হিন্দু মহাজোট নামের সংগঠনের একটি অংশকে বিএনপি পেছনে থেকে সমর্থন করে। তাদের আমন্ত্রণে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতা এবং বর্তমানে ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায় বাংলাদেশে আসেন। হিন্দু মহাজোটের একাধিক নেতা এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তথাগত রায় হিন্দু মহাজোটের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে নেননি। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি এবং আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে কয়েকজন সংখ্যালঘু নেতা কাজ করেন। এরপরও কয়েকজন বিএনপি নেতা একাধিকবার ভারত সফরে গেছেন। তবে এবারের সফর, তা যদি দলীয় সিদ্ধান্তে না-ও হয়, এরপরও এমন খোলামেলা কথা কোনো বিএনপি নেতা বলেননি। এর কারণ কী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদবিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী বলে পরিচিত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ বলছেন, ‘রাজনীতি কোনো নিশ্চল বিষয় নয়। এটি গতিশীল। বিএনপির একটি রাজনৈতিক অবস্থান ছিল ভারত প্রশ্নে। পরিবর্তিত সময়ে সেটিও পরিবর্তিত হয়েছে। এটি ইতিবাচক লক্ষণ।’ তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভারত প্রশ্নে বিএনপির আগের নীতিকে ভুল বলে চিহ্নিত করা যাবে না। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে একটি অবস্থান মাত্র।
আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যেকোনো কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেছে বিএনপি। বিএনপি মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিকে ‘দাসত্বের চুক্তি’ বলে বারবার সমালোচনা করে এসেছে। ১৯৯৭ সালে এ চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত একে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বলে সমালোচনা করে গেছে বিএনপি। ফারাক্কার পানিবণ্টন চুক্তিকে বিএনপি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বলে সমালোচনা করেছে। ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষর হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বিএনপি। খোদ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন, পার্বত্য চুক্তি হলে ফেনী পর্যন্ত ভারতের অংশ হয়ে যাবে। ক্ষমতায় গেলে ফারাক্কা ও পার্বত্য চুক্তি বাতিলের প্রতিশ্রুতিও দেয় বিএনপি; যদিও তা তারা করেনি।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে দেশ ভারত হয়ে যাবে। এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বক্তৃতায় শুধু নয়, বিভিন্ন সময় রূঢ় আচরণে বিএনপি ভারতের প্রতি তার নেতিবাচক মনোভাব তুলে ধরে। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশে এলে আগে থেকে নির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাতে যাননি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বিএনপির আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল দেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্রের চোরাচালান ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে। রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের (সিইউএফএল) জেটিঘাটে খালাস করার সময় ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি আটক করে টহল পুলিশ। অস্ত্রের চালানটি উলফার জন্য যাচ্ছিল। এ নিয়ে ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দুটি মামলার রায় দেন আদালত। এর মধ্যে একটিতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের ফাঁসির আদেশ দেন।
বিএনপি ভারতের সহানুভূতি পেতে আগ্রহী কেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, বাংলাদেশে একটা প্রচলিত ধারণা আছে, নির্বাচনে জিততে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক দরকার। এ জন্য সব দল এই দুই দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, এটা দেখাতে চায়।
অধ্যাপক ইমতিয়াজ মনে করেন, বিএনপির এই সফর এবং সেখানে গিয়ে আন্তরিক কথা বলায় একটি কথা স্পষ্ট—বিএনপি নির্বাচনে আসছে। তিনি মনে করেন, ভারতের কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক আছে। এখন সেখানে ক্ষমতায় বিজেপি এসেছে। কংগ্রেসের সঙ্গে যে পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ছিল, সেই স্তরে আছে, এমনটা না-ও হতে পারে। এখন বিএনপি হয়তো বিজেপিকে বোঝাতে চাইবে যে তারা কংগ্রেস-বৈরী ছিল। বিজেপির সঙ্গে তাদের বৈরিতা নেই।
বিএনপি কি আসলেই ভারতবিরোধী অবস্থান পাল্টাচ্ছে, নাকি সামনে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বলছে? কেননা একেবারে সাম্প্রতিক সময়েও তাদের একাধিক নেতা তাঁদের ভারতবিরোধী চিরাচরিত অবস্থানের আদলেই কথা বলেছেন।
গত ২৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকারি অর্থ ব্যয় করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারতের কাছে আকুতি জানাতে ওই সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গণমাধ্যমের খবরে এটা পরিষ্কার, প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থে ভারতে যাননি, তিনি তিস্তার পানিচুক্তি, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে যাননি। তিনি ভারতে গেছেন ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেনদরবার করার জন্য।’
ভারত সফর শেষ করে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সফর নিয়ে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার বলেছিলেন, ‘আমরা ভারতকে যা দিয়েছি, সেটা ভারত সারা জীবন মনে রাখবে। প্রতিদিনের বোমাবাজি, গুলি; আমরা কিন্তু ওদের শান্তি ফেরত দিয়েছি। এটা তাদের মনে রাখতে হবে। কাজেই আমরা ওগুলোর প্রতিদান চাই না।’
শেখ হাসিনা ‘প্রতিদিনের বোমাবাজি, গুলি’ বলতে মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বন্ধে তাঁর সরকারের সহযোগিতার কথাই উল্লেখ করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা থেকে ধরা হয় আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা অনুপ চেটিয়াকে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর উলফা, টিএনভি, এনএলএফটিসহ একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতে সহিংসতা অনেকটাই কমে এসেছে।
তবে ভারতকে দেওয়া এসব সহযোগিতা নিয়ে শেখ হাসিনার কথারও সমালোচনা করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পরদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই যে বলেছেন ভারতকে অনেক দিয়েছেন। আমরা ভালো করে জানি না। আপনি দয়া করে কী কী ভারতকে দিয়েছেন, তা জনগণের সামনে প্রকাশ করুন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শান্তনু মজুমদার মনে করেন, এবার বিএনপির কয়েকজন নেতা ভারতে গিয়ে যেসব কথা বলেছেন, তা হয়তো নির্বাচনের আগে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়াস। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে এলে বিএনপি ভারত প্রশ্নে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ নমনীয় হয়। আবার তাদের সারা বছরের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন ধরনের চিত্র লক্ষ করেছি।’ এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক শান্তনু বলেন, ‘২০১২ সালের শেষ দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলেছিলেন। পরে অবশ্য তাঁদের কথাবার্তায় পরিবর্তন দেখেছি।’ তিনি মনে করেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন নিয়ে যেকোনো দলের স্থায়ী ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান থাকা দরকার।
বিএনপির কয়েক নেতার ভারত সফরে গিয়ে মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি সত্য কথা বলে, এমন প্রমাণ কমই আছে। আমার ধারণা, তাদের নেতারা যে কথা ভারতে বলেছেন, তা তাঁদের দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তের নয়।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতারা যদি এমন বলেই থাকেন যে তাঁদের অতীত ভারত-নীতি ভুল ছিল, তাহলে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে তারা এত দিন যে নিছক প্রচারণা চালিয়েছেন, তা প্রমাণিত হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খানবিএনপির এ সফর দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামে কি না, তা নিয়ে ফারুক খানের সন্দেহ সঠিক বলেই মনে হলো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফের কথায়। দলীয় নীতিনির্ধারণী সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির নেতাদের এই সফর না হলেও এটা যে নেহাত কারও ব্যক্তি উদ্যোগের সফর, তা মনে করেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বরং সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতারা যে কথাগুলো বলেছেন, তাকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং আঞ্চলিক রাজনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তাঁরা। অধ্যাপক ইমতিয়াজ উদ্দিন মনে করেন, দুটি বড় দেশের মধ্যে চীন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একধরনের মতৈক্য আছে। এবার ভারত প্রশ্নে তা এলে বরং ভালো।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর মনে করেন, বিএনপি হয়তো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির চলমান প্রবণতা বুঝতে পেরেছে। তাই ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নত করার প্রয়াস নিয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল সব সময় তাদের একই অবস্থান ধরে রাখবে—এটা বাস্তবতাও নয় বলে তিনি মনে করেন। দেশীয় রাজনীতি শুধু নয়, আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা ইতিবাচক।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান তাঁর ‘পলিটিক্যাল পার্টিস ইন বাংলাদেশ’ বইয়ে লিখেছেন, ‘ভারতবিরোধিতা বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে সব সময় মূল বিষয় থেকেছে।’ একটা সমর্থক বা ভোটার শ্রেণি এত দিন ভারতবিরোধী চেতনার ধারক বলে বিএনপিকে বিশ্বাস করত বা সে জন্যই তারা বিএনপিকে ভোট দিত। এখন বিএনপির ভারত প্রশ্নে অবস্থানের পরিবর্তন তাদের কি বিএনপিবিমুখ করবে? অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, ‘বিএনপি তাদের সমর্থকদের পরিবর্তিত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সমর্থ হবে।’
মাদকবিরোধী অভিযানে চলছে পুলিশের ‘তালিকাবাণিজ্য’
‘ব্যাংক ডাকাতদের’ শাস্তি চায় এফবিসিসিআই
- একশ্রেণির লোক ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকের টাকা তছরুপ করেছেন
- স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে
- জনগণের আমানত যেন তছরুপ না হয়, সুদের হার না বাড়ে
- দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাব
ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হওয়াকে ব্যাংক ডাকাতি বলে অভিহিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘একশ্রেণির লোক আছেন, যাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকের টাকা তছরুপ করেছেন, ব্যাংকের টাকা ডাকাতি করেছেন। আমরা তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাঁরা ব্যবসা করতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সহায়ক ভূমিকা দেখতে চাই।’
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের পর্যালোচনা তুলে ধরতে গিয়ে সংগঠনটির সভাপতি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের বাজেট পর্যালোচনা তুলে ধরে এফবিসিসিআই।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সংগঠনটির পক্ষে ব্যাংকে অনিয়মের জন্য তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। মুষ্টিমেয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে ব্যাংকিং খাতে একধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, যা আমাদের নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাব করছি, যাতে করে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বজায় থাকে।’
প্রশ্নোত্তর পর্বেও ব্যাংক নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন শফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক ডুবতে বসেছে। এর জন্য দায়ীদের অনেকেই এখন বিচারাধীন আছেন। বিচারাধীন বিষয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক একীভূত, অধিগ্রহণ—কী করলে ভালো হবে, এগুলোর সব তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে আছে। তারা সুনির্দিষ্টভাবে এগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, সেটি আমাদের দাবি।’
ব্যাংকিং কমিশন গঠন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর পিছু হটার বিষয়ে জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ‘সেটা অর্থমন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। তবে দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা চাই এ ক্ষেত্রে আরও উন্নতি হোক। অনেক সাবেক মন্ত্রী, অনেক সাংসদকেও কিন্তু আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এটি আশাব্যঞ্জক। আমরা চাইব তাঁদের কারণে জনগণের আমানত যেন তছরুপ না হয়, যেন সুদের হার না বাড়ে, যেন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগ নেবে।’
সার্বিক বাজেট নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের মূল্যায়ন হলো, এই বাজেটে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী ইত্যাদি খাতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় সুবিধাভোগীদের সংখ্যা এবং মাসিক ভাতার হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগব্যবস্থাসহ অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তা নিঃসন্দেহে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান-প্রক্রিয়া গতিশীল করবে বলে উল্লেখ করেছে এফবিসিসিআই।
অবশ্য বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার ব্যাংক খাত থেকে বাড়তি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করে এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে তারা বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহির মধ্যে আনার তাগিদ দিয়েছে।
বাজেট ব্যবসাবান্ধব কি না—জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ব্যবসায়ীদের বেশ কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়বে। তবে সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিলে বাজেটে বিশেষ কোনো হেরফের হবে না। বাজেটে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা বেসরকারি খাত অর্জন করতে পারবে কি না—জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, বিনিয়োগের সক্ষমতা বেসরকারি খাতের আছে। এর জন্য পরিবেশ তৈরি করা দরকার। পুঁজিবাজারে অনুকূল পরিবেশ না থাকলে, সুদের হার বেশি হলে তাহলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবেন না।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সক্ষমতা বাড়ানো, উৎপাদনশীল খাতে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো, পোশাক খাতের করপোরেট কর আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া, করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা করা, হয়রানি রোধে কর কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছা ক্ষমতা কমানোসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। তাঁরা স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া ও কিছু শিল্প খাতে উপকরণের কর কমানোয় সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ঢাকা মহানগরে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পগুলো সমাপ্ত হওয়ার আগে অ্যাপসভিত্তিক পরিবহনের রাইড শেয়ারিং সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ না করার সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান যানজটে দ্রুত যাতায়াতের জন্য এ ধরনের সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহসভাপতি মো. মুনতাকিম আশরাফ এবং সংগঠনের পরিচালকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চোট্টা হাসিনার চোট্টা পোলা সজীব ওয়াজেদ জয় আমেরিকায় অপরাধ করে পুলিশ হেফাজতে। অতীত কি মুছে ফেলা যায়?








পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় নুসরাত শাহী ওরফে কিংজল নামে এক চিহ্নিত মাদকসেবী ও একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে ধরার ৩৬ ঘণ্টা পর আর্থিক সুবিধা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. গোলাম ছরোয়ারের বিরুদ্ধে। গত ২৭ মে রাত ১০টার দিকে উপজেলা শহর থেকে কিংজলকে ধরে এনে মঠবাড়িয়া থানায় রাখা হয়। পরে আদালতে হাজির না করে গত ২৯ মে সকাল ১০টায় কিংজলকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি গোলাম ছরোয়ার।রৌমারীর শৈলমারীতে চরের গ্রামের মো. আবু বক্করের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম হায়দারকে মাদকের মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় টাকা নিয়েছেন রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম। এ বিষয়ে ওসির বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেছেন হায়দার। এই ওসির বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা পরিচালনা, মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা, মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ লিখিত আকারে গত ১৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বরাবর পাঠিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
