(১) মানবধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষনা বাস্তবায়ন করা হবে।
(২) গনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাষনের জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ( যেমন নির্বাচন কমিশন,পাবলিক সার্ভিস কমিশন,কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল,এটর্নি জেনারেল ইত্যাদি) এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো ( যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন,তথ্য কমিশন,মানবাধিকার কমিশন,আইন কমিশন,বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন ইত্যাদি ) স্বার্থপর ও দলীয়তার কালিমা মুক্ত করে এগুলো দক্ষতা,স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযাগ্যতা পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি ও প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ নেবে বিএনপি।
(৩) বিগত দিনগুলো সংকীর্ন দলীয় স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। এ কারনেই ব্যক্তির বিশ্বাস অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্য বিবেচনার না নিয়ে কেবলমাত্র সততা দক্ষতা মেধা যোগ্যতা দেশ প্রেম বিচার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসন যন্ত্র পুলিশ এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যরারিতা নিশ্চিত করবে বিএনপি।
(৪) প্রশিক্ষন অভিজ্ঞতা সততা মেধার উৎকর্ষ এবং সৃজনশীলতাকে বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে গ্রহন করা হবে।দলীয় ও সকল প্রকার আইনবহির্ভূত হস্তক্ষেপ অবসান ঘটিয়ে বিচার বিভাগ প্রসাশন ও পুলিশ বাহিনীর আইনানুগত কর্তব্য পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে ।
(৫) বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোন আপোষ করবে না. সমাজের সর্বস্তরের দুষ্টক্ষতের মত ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির রাশ টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
(৬) বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে।
(৭)প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিত নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পাল(ombudsman) এর পদ সৃষ্টি করা হবে।
(৮) বাংলাদেশ আজ নিরাপওাহীন ঝুকিপূর্ন এক জনপদে পরিনত হয়েছে।মার্তৃগর্ভেও শিশুর নিষ্ঠুর অপরাধের থাবা থেকে মুক্ত নয়।বিচারলয় আজ বিরোধী মতের নেতা কর্মীদের দমনে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে বিচার প্রার্থীরা আদালতের সেবা থেকে বন্চিত হচ্ছে। দেশে আশংকাজনকভাবে বিচারহীনতা যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।সে লক্ষ্যে জনপ্রশাসন বিচার ,পুলিশ ও কারাগার এই চার প্রতিষ্ঠান কে সংস্কারের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ, দক্ষ আধুনিক ও যুগপোযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
(৯) বিএনপি মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদায় বিশ্বাসী আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।অবশ্যই আইনের শাসনের নামে কোন প্রকার কালা কানুন শাসন গ্রহনযোগ্য হবে না।বিএনপি সকল প্রকার কালা আইন বাতিল করবে।সকল প্রকার নিষ্ঠুর আচরন থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গুম খুন এবং অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটাবে বিএনপি।
(১০) বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করে জনগনের জন্য ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।অধস্তন আদালতের নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন করা হবে।
(১১) পুলিশ কনস্টবল/ট্রাফিক পুলিশ এবং এএসআই পর্যন্ত নিম্ন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে একটানা ৮ ঘন্টার বেশী দায়িত্ব দেয়া হবে না/দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হবে না।ঝুকিপূর্ন দায়িত্ব পালনে কর্মঘন্টা হারে যুক্তিসংগত ওভার টাইম ভাতা প্রদান করা হবে।এএসআই থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত পুলিশের আবাসন সমস্যা সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
(১২) দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।
(১৩)একটি দক্ষ স্বচ্ছ গতিশীল মেধাবী জবাবদিহিতামুলক যুপগোযোগী ও গনমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে ।মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ সংস্কার করা হবে।মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ,নারী ও প্রান্তিক জাতি গোষ্ঠী কোটা ব্যতিরেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে । সকল পর্যায়ে ই গভার্ন্যান্স চালু করা হবে।জনপ্রশাসন দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে বিদেশে প্রশাষনের ব্যবস্থা করা হবে।
(১৪) প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য বিচারক নিয়োগ দিয়ে মামলার জট কমিয়ে আনা হবে ।
(১৫) এটা সর্বসম্মত স্বীকৃত যে বর্তমানে বিচার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ পদোন্নতি,পদতল এবং কর্ম নির্ধারনের জন্য একমাএ বিবেচ্য নিয়োগ করা হবে ।যোগ্যতা,মেধা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাংবিধানিক আলোক বিচারপতি উর্ধে উঠে জ্ঞান প্রজ্ঞা নীতিবোধ দেশপ্রেম বিচার বোধ ও সুনামের কঠোর মানদন্ডে যাচাই করে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ করা হবে।নিয়োগের জন্য বাচাইকৃত ব্যক্তিদের তথ্য ও সম্পদের বিবরন জনগনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে ।







