তাঁরা আর সুপ্রভাতে ফিরবেন কিনা আমাদের জানা নেই। তাঁদের কে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে দেশের আইন শৃংখলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে। এটি হতে পারে এন এস আই, এটি হতে পারে ডি জি এফ আই, এটি হতে পারে র্যাব, হতে পারে ডিবি, হতে পারে সরকারী অন্য কোনো “গেস্টাপো” বাহিনী। আমরা জানিনা। আমাদের জানবার রাস্তাও নেই।
তবে আমরা এইটুকু বুঝি যে দেশে এক নতুন আলবদর নেমেছে। ১৯৭১ সালে যেমন আলবদর, আল-শামস, রাজাকার রা উঠিয়ে নিয়ে যেতো আমাদের বুদ্ধিজীবিদের, রাজনীতিবিদ্দের, ঠিক তেমন। আমরা আইনের শাষনের কথা বলি কিন্তু এই খোদ আইন শৃংখলা বাহিনীর এরা আইনের ধার ধারে না। আপনাকে যে কোন সময় উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারে ঘর থেকে, রাস্তা থেকে। আপনি কিংবা আপনার পরিবার কেউ কোনদিন জানতে পারবেন না আপনাদের অপরাধের কথা কিংবা কেন আপনাকে এইভাবে চোখ বেঁধে খুনী গুন্ডারা উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
যদি কারো বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে দেশে কি আইন নেই? তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যেতে পারত, আদালতে সুরাহা করা যেতে পারত। কিন্তু সেগুলো করা হয়নি। কারন এই আলবদর বাহিনীর সেই ক্ষমতা নেই। তাঁদের আছে উঠিয়ে নেবার ক্ষমতা। আমাদের টাকায় এদের অস্ত্র কিনে দেয়া হয়েছে আর সেই টাকা দিয়ে আমাদেরকে ওরা ভয় দেখায়। আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আমাদেরকে নির্যাতন করে।
মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের তো কথা ছিলোনা নতুন করে আলবদর দেখবার কিংবা আল শামস দেখবার!! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ঠিক ৪৬ বছর পর আমরা চক্রাকারে সেই আগের সময়েই ফিরে গেলাম। আমাদের সন্তান এখন রাস্তায় নিরাপদ না, আমাদের বাবারা রাস্তায় নিরাপদ না, আমাদের চাচারা রাস্তায় নিরাপদ না, আমাদের মায়েরা, আমাদের বোনেরা, আমাদের বন্ধুরা কেউ নিরাপদ না।
আমরা এক ভয়ানক সময়ে বেঁচে আছি। আমরা বেঁচে আছি এক দুঃসহ যন্ত্রণার মুহুর্তে। আমাদেরকে পদ্মা সেতুর উন্নয়নের গল্প বলা হয়, আমাদেরকে মেট্রো রেলের গল্প বলা হয়। আমাদেরকে চার লেইনের রাস্তার গল্প বলা হয়, নতুন নতুন এয়ারপোর্ট, কালভার্টের গল্প বলা হয়, আমাদের জন্য আমদানী করা হয় ইসলামী ব্যাংকের নির্বোধ সোফিয়াকে। আমাদের চোখের সামনে বড় বড় লারেলাপ্পা খেলার আয়োজন হয় আর সেই আয়োজনের পেছন দিয়ে আমাদের ভাইদের, বাবাদের, চাচাদের খুন করা হয়, গুম করা হয়।
আমরা কি তবে এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে, এই ভূখন্ডে জন্ম নিয়ে পাপ করে ফেলেছি?
