সমস্ত পৃথিবীর মানুষ একমত এরকম বিষয় অনেক কম। এর মধ্যে একটি হচ্ছে শিশুদের নিরাপত্তা। আপনি যতই খারাপ হোন না কেন, যতই অমানবিক জীবনযাপন করেন না কেন আশা করা হয় শিশুদের প্রতি মানবিক থাকবেন। বিশ্বব্যাপী জাহাজডুবি বা এরকম দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও সবার আগে শিশুদের উদ্ধার বা তাদের জীবনকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়ার নিয়মও আছে। এমনকী যেসব মানবগোষ্ঠী সভ্যতার আশীর্বাদ বা অভিশাপ থেকে দূরে, জঙ্গলে বসবাস করে তারাও শিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল। এখন একটি আজব দেশের কথা বলব যা এখানে ব্যতিক্রম।
নারায়ণগঞ্জের রাফিউর রাব্বিকে অনেকেই চেনেন। তাঁর মাত্র ১৭ বছরের ছেলে ত্বকীকে নির্মমভাবে হত্যা করে শামীম ওসমানের লোকেরা। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি বর্বর শামীম ওসমানকে দায়ী করে বারবার বিচার চেয়েছেন রাফিউর রাব্বি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় নি, শামীম ওসমানকে গ্রেফতারও করা হয়নি। বরং এ ঘটনার পর সবাই যখন ধিক্কার দিচ্ছে তখন সংসদে দাঁড়িয়ে ওসমান পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। এছাড়া তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে। (লিংক কমেন্টে)
অথচ এই শেখ হাসিনার একটি ভাই শিশু শেখ রাসেলকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর পরিবারের এতগুলো সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল। আমরা আশা করতে পারতাম যেকোনো হত্যাকাণ্ডের প্রতি তিনি স্পর্শকাতর থাকবেন। কিন্তু কোথায় কী!
আওয়ামী লীগের কর্মীরা স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে মুখে ফেনা তুলেন। শিশুহত্যাকে যেখানে সমর্থন দেয়া হয় সেখানে কোন ধরণের স্বাধীনতা বিদ্যমান থাকে?
শামীম ওসমানকে বর্জন করতে পারবেন কি এই নির্বাচনে?

