সুযোগ্য নেতা

ভদ্রলোক প্রফেশানাল অভিনেতা নন। পাকা আবৃত্তিকার নন। তারপরও কি অবলীলায়, ইফোর্টলেসলি, চমৎকারভাবে কথাগুলো বললেন।
হাত, মুখের অঙ্গভঙ্গিও চমৎকার গ্রেইসফুল। ফেরদৌস, রিয়াজ আর ভাড়াটে মিনিয়নগুলো এত যুগ অভিনয় করে যা শিখেছে ভদ্রলোক ৩ মিনিটে তার চেয়ে বেশি করে দেখালেন। বক্তব্যের ভাষাও উনার মতই মার্জিত, চমৎকার। ভোট দিতে বলেছেন। কোন মার্কায় দিতে হবে সেটা বলেন নি। এর চেয়ে ভালো, ইনক্লুসিভ মেসেজ আর হয় না।

নিরপেক্ষ নির্বাচন

কোন দাবী আদায় ব্যতিরেকেই এই অসম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে পড়ে বিএনপি যে ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনা ঘটিয়েছে, ভোটযুদ্ধে ‘প্রত্যাশিত’ ফল নিয়ে আসার ব্যাপারে কোন সংশয় রাখেনি তাতে।

হাসিনার সমর্থনে ভুয়া জরিপ

“শেখ হাসিনার উপর দেশের ৬৬ ভাগ মানুষের আস্থা আছে” !!!

মানুষের যখন নৈতিকতার বালাই থাকে না তখন আচরণে পাহাড়সমান নির্লজ্জ হইতেও তাদের বাঁধে না। কোটা আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর জনপ্রিয়তার তলানিতে চলে যাওয়া আওয়ামী লীগের দশা হইছে ঠিক এইরকম। এখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করছে নিজেদের মিথ্যাচারে।

আজকে সকালে একটা নিউজ ভাইরাল হলঃ শেখ হাসিনার উপর দেশের ৬৬ ভাগ লোকের আস্থা আছে। প্রথম আলো সহ বড় বড় নিউজে এটা ছাপা হইছে। বাসসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শতকরা ৬৬ ভাগ মানুষ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ৬৪ শতাংশ নাগরিক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে এ কথা বলা হয়। এ বছরের ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মের মধ্যে এই জরিপ পরিচালিত হয়।” আরো বলা হয় এই রেজাল্ট নাকি এ বছরের ৩০ শে আগস্ট পাব্লিশড হয়েছে!

খেয়াল করুন! বলা হয়েছে এ বছর! মানে ২০১৮ সাল। পরপরই গুগল সার্চ দিলাম। IRI Surveys about bangladesh. সেখান থেকে তাদের Bangladesh পেইজে ডিরেক্ট করলো।

পেইজ লিঙ্কঃ https://www.iri.org/country/bangladesh

এই পেইজে ২০১৮ সালে এরকম কোন জরিপের নামগন্ধও নেই! কিন্তু ২০১৭ সালের ৩০ শে আগস্টের একটা রিপোর্ট এখানে দেখাচ্ছে, যেইটার কথা আজকের সবগুলো পেপার “২০১৮”এর বলে চালিয়ে দিচ্ছে !!!! রিপোর্ট লিঙ্কঃ https://www.iri.org/…/new-poll-bangladeshis-optimistic-futu…

তবে আমার মনে হয় না এইসব নিউজ পত্রিকাগুলো ইচ্ছে করে ছাপিয়েছে,তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। বাসসের মতন প্রতিষ্ঠান যখন এরকম সুপ্রিম লেভেলের তথ্য জালিয়াতি করে এবং একই সাথে সরকারী চাপে প্রতিটা পত্রিকা আওয়ামী লীগের অসৎ উদ্দেশ্যের বলি হয়েছে। মাথায় খুব বেশি বুদ্ধি খেলানোর দরকার নেই কেন আওয়ামী লীগ সরকার এই কাজগুলো করছে, উদ্দেশ্য একটাই! নিজেদের অধোঃপতিত ইমেজ আবার ঘষেমেজে সাফসুতরো করা! পুরনো রিপোর্টকে নতুন বলে চালিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ শুধু নিজেদের জাত চেনাচ্ছে! এই মুখে যেন অন্তত আর কোনদিন অন্য দলকে মিথ্যাচার কিংবা গুজবের ট্যাগ না লাগায়! অসততা যে আওয়ামী লীগকে আগাগোড়াই গ্রাস করেছে এটা কেবল তারই প্রমাণ!

ছবি ১ঃ প্রথমআলোর রিপোর্টে বাসদের উদ্ধৃতি!
ছবি ২ঃ আইআরআইয়ের সেই রিপোর্টের তারিখ যেটাতেই মূল জালিয়াতি করা হয়েছে!

আওয়ামী লীগের এই ধরনের নোংরা তথ্য জালিয়াতি মিডিয়া না ধরতে পারলেও আপনি ধরিয়ে দিন! কারণ মিথ্যাচারের শিকড় ছোট থাকতেই কেটে দেয়া জরুরি!!

 

সিরিজ জয় টাইগারদের

ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ানোর কথা ছিল না। ব্যাটে বলে দুর্দান্তই ছিল বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে ম্যাচটি ঠিকই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যে উত্তেজনাকে পাশ কাটিয়ে শেষ হাসি হেসেছে টাইগাররাই। ১৮ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১’এ হারিয়ে সিরিজ জিতেছে মাশরাফির দল।

৩০২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে সেভাবে চড়াও হয়ে খেলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মারমুখী ছিলেন ক্রিস গেইল, করেন ৬৬ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় ৭৩ রান। শাই হোপ ৬৪ করলেও খরচ করেন ৯৪টি বল। শেষদিকে রভম্যান পাওয়েলের ৪১ বলে ৭৩ রানেই জয়ের সম্ভাবনা জেগেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

বাংলাদেশের পক্ষে ২টি উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি।

এর আগে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচের শুরুর অর্ধেকটা মন মতোই করতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। রান বন্যার সেন্ট কিটস মাঠে রানের খোঁজে ধুঁকতে হয়নি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে আবারও রান করেছেন তামিম ইকবাল। শেষদিকে ঝড় তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এই দুইয়ের ব্যাটে ভর করেই মূলত বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছে টাইগাররা। প্রায় বছর দুয়েক পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের মিশনে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ৩০১ রানে।

সিরিজে টানা তৃতীয়বারের মতো টসে জেতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথম ম্যাচে করেন আগে ব্যাটিং, দ্বিতীয় ম্যাচে নেন আগে বোলিং। তৃতীয় ম্যাচে এসে আবারও আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক। জানিয়ে দেন ব্যাট করার জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে সেন্ট কিটসের এই উইকেট।

কিন্তু তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়ের উদ্বোধনী জুটিতে মনেই হয়নি উইকেট ব্যাটিং বান্ধব। আগের দুই ম্যাচে বড় রান করতে ব্যর্থ হওয়া বিজয় এই ম্যাচেও আউট হয়েছেন অল্পতেই। ৩১ বলের ইনিংসে রান করতে পেরেছেন মাত্র ১০। উইকেটে একবারের জন্যও স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি তাকে। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় সিরিজে তৃতীয়বারের মতো তামিমকে একা করে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

jagonews24

আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেও। বন্ধু তামিমের সঙ্গে সাকিব আল হাসান আবারও গড়েন ইনিংসের ভীত গড়ে দেয়া জুটি। তামিমের ধীরস্থির ব্যাটিংয়ের সাথে ছিল সাকিবের উইকেটের চারপাশে রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখা ব্যাটিং। চোখের পলকে মাত্র ১৬ ওভার ব্যাট করে এই জুটিতে যোগ হয় ৮১ রান।

টানা তৃতীয় অর্ধসেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সাকিব ফিরে যান টপ এজ হয়ে স্কয়ার লেগে ধরা পড়ে। আউট হওয়ার আগে সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৩ চারের মারে করেন ৩৭ রানে। খেলেন মাত্র ৪৪টি বল। সাকিব ফিরে গেলেও ক্যারিয়ারের ৪৩তম অর্ধশত তুলে নিতে কোন ভুল করেননি তামিম।

অর্ধশত পেরিয়ে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে নতুন করে ইনিংস গড়ার কাজে মন দেন তামিম। কিন্তু দারুণ শুরু করা মুশফিক অদ্ভুত এক শট খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরে যান মাত্র ১২ রান করে। তার ব্যাট থেকেই আসে ইনিংসের প্রথম ছক্কাটি। দলীয় সংগ্রহ দেড়শ পার করিয়েই সাজঘরে ফিরে যান। অন্যপ্রান্তে অবিচল থেকে যান আস্থার আরেক নাম হয়ে ওঠা তামিম।

চতুর্থ উইকেট জুটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে পেয়ে যেন খানিক নির্ভার হন তামিম। খেলতে শুরু করেন হাত খুলে। জোড়া বাউন্ডারিতে পৌঁছে যান ৮০’র ঘরে। জাগিয়ে তোলেন সিরিজে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। পরে নব্বইয়ের ঘরে ঢুকে ৯২ থেকে এক ছক্কায় চলে যান ৯৮ রানে।

বাকি দুই রান নেন সাবধানী ব্যাটিংয়ে এক-এক করে। তুলে নেন ক্যারিয়ারের একাদশ ও চলতি সিরিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। ব্যক্তিগত ১০৩ রানের মাথায় দেবেন্দ্র বিশুর ওভারে মিড উইকেটে ধরা পড়েন তামিম।

তিন ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও এক ফিফটিতে ২৮৭ রান করে তামিম গড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ভেঙে দেন ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই গড়া দীনেশ রামদিনের ২৭৭ রানের রেকর্ড।

তামিম ফিরে যাওয়ার পরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাব্বির-মোসাদ্দেকের আগেই ব্যাট হাতে নেমে যান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের বলা ‘এই উইকেটে ব্যাটিং সহজ হবে’ কথাটার বাস্তব প্রমাণ দিতেই নেমে যান মাশরাফি। ব্যাটিংয়ে নেমে সময় নেননি খুব বেশি।

অপর প্রান্তে নির্ভরতার প্রতীক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকায় নির্ভয়ে খেলতে পারছিলেন মাশরাফি। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের এক ওভারে হাঁকান পরপর তিন বাউন্ডারি। হোল্ডারের পরের ওভারেই লংঅনের উপর দিয়ে মারেন এক ছক্কা। রিয়াদ-মাশরাফির জুটিতে চোখের পলকে ২৫০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ।

পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৪২ বলে ৫৩ রান পায় বাংলাদেশ। ২৫ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কার মারে ৩৬ রান করে ফেরেন মাশরাফি। অপর প্রান্তে বাংলাদেশ দলের ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে অবিচল ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। স্লগ ওভারে ব্যাটিংয়ে আসেন হার্ডহিটার হিসেবে পরিচিত সাব্বির রহমান।

কিন্তু সাব্বিরের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক খেলছিলেন মাহমুদউল্লাহই। এতোক্ষণ ধরে উইকেটে থেকে বিশাল এক ছক্কার মারে রিয়াদ তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৯তম অর্ধশতক। শুরুতে ব্যাটে-বলে এক করতে পারছিলেন না সাব্বির। ৪৯তম ওভারে পরপর দুই বলে দুটি ৪ মেরে পরের বলেই সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

তবে অপরাজিতই থেকে যান মাহমুদউল্লাহ। শেষপর্যন্ত তার দুর্দান্ত ফিফটিতেই ৩০০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষের দশ ওভারে আসে ৯৬ রান। মাত্র ৪৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কার মারে ৬৭ রান করেন রিয়াদ। ৫ বলে এক চারের মারে ১১ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ছয় উইকেটে ৩০১ রানে।

স্বাগতিকদের পক্ষে দুইটি করে উইকেট নেন অ্যাশলে নার্স ও জেসন হোল্ডার।

ওসিই মাহমুদুর রহমানকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন : মির্জা ফখরুল

ওসিই মাহমুদুর রহমানকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুলিশের সহায়তায় কুস্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেছেন, মাহমুদুর রহমান হামলার কথা বুঝতে পেরে কোর্টে অবস্থান নেন। পরে কোর্টের ওসির কথায় তিনি আদালত থেকে বের হয়ে আসেন। কোর্টের ওসি জোর করে মাহমুদুর রহমানকে বের করে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান হামলার পর সেখানে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগও পাননি। কিন্তু সরকারের উচিত ছিল তাকে পুলিশের সহযোগিতায় চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় আসার ব্যবস্থা করে দেয়া। সরকার সেটি করেনি। এ হামলার ঘটনায় ধিক্কার জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি। হামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো দেশের প্রতিটি সেক্টর সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে শুধু মাহমুদুর রহমান নয়, কোনো নাগরিক আদালত বা কোথাও নিরাপদে থাকবে না।
আজ রবিবার সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এসব কথা বলেন। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন এ্যানী, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফখরুল বলেন, মাহমুদুর রহমান হামলার আশঙ্কা বুঝতে পারার পর তিনি আদালতের কাছে নিরাপত্তা চাইলে আদালত থানার ওসিকে ডাকেন। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মাহমুদুর রহমানকে নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে আসেনি। এমনকি উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা চাওয়ার পরও তাকে সহযোগিতা করা হয়নি। মাহমুদুর রহমান আদালতে যাওয়ার পর সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে এলাকা ঘিরে রাখে। মাহমুদুর রহমান কোর্টের ওসির কথায় আদালত থেকে বের হওয়ার পর চারদিক থেকে তার ওপর হামলা করা হয়। ফলে তার মাথা ও গালে আঘাত লাগে, তিনি রক্তাক্ত হন। একজন জনপ্রিয় সম্পাদকের ওপর এভাবে নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় মামলা হয়। ওই মামলায় জামিন পেতে কুষ্টিয়া আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই মামলায় আদালত আজ তাকে জামিন দিয়েছেন।

ঘুরে দাঁড়াবার, রুখে দেবার ইতিহাস

মার খেতে খেতে, ভয় পেতে পেতে যেকোন মুহূর্তেই তাদের ভয় কেটে যাবে। ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ। এইসব হামলা-মামলা তখন বুমেরাং হয়ে যাবে নিশ্চিত।

ভয়কে জয় করার, রুখে দেবার দিনটি হতে পারে ৩০ ডিসেম্বর। ঘুরে দাঁড়াবার, রুখে দেবার ইতিহাস আছে এই জনপদের।

আবার জাতিকে ধোঁকা, “মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবেনা”। সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবে না

হাইকোটের্র রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা তাতে হাইকোটের্র রায় রয়ে গেছে। যেখানে হাইকোটের্র রায়ে আছে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে ওই কোটার বিষয়ে তারা কীভাবে কোটের্র ওই রায় ভায়োলেট করবেন। সেটা তো তারা করতে পারছেন না। এই রায় অবমাননা করে তখন তো তিনি কনডেম্প অব কোটের্ পড়ে যাবেন। এটা তো কেউ করতেই পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে কোটা পূরণ হবে না, কোটার যেটা খালি থাকবে, তা মেধার তালিকা থেকে নিয়োগ হবে। এটা আমরা করে দিয়েছি। গত কয়েক বছর থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।’

ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর ও আক্রমণ করেছে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উচ্ছৃঙ্খলতা কখনো বরদাশত করা যায় না। ভাঙচুরকারীরা ভিসির বাড়ির ক্যামেরার চিপস নিয়ে গেলেও আশপাশে থাকা ক্যামেরা দেখে তাদের একটা একটা করে খুঁজে বের করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আক্রমণ করেছে, তাদের তো ছাড়া হবে না। তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকে স্বীকারও করছে। যত আন্দোলনই হোক না কেন, এদের ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

কোটা আন্দোলনকারীরা কী চায়, তা সঠিকভাবে বলতে পারে না উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, কোটা নিয়ে আন্দোলন। এটা কী আন্দোলন? ঠিক তারা যে কী চায়, বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, সেটা কিন্তু সঠিকভাবে বলতে পারে না।

তিনি বলেন, আজকে আন্দোলন তারা করছে খুব ভালো কথা। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ছেলেপুলে আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া, গাড়িতে আগুন দিয়ে পোড়ানো, বাড়ি ভাঙচুর করা, বেডরুম পযর্ন্ত পৌঁছে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা, স্টিলের আলমারি ভেঙে গয়না, টাকা-পয়সা সব কিছু লুটপাট করেছে। ভিসির পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে থেকে প্রাণ বঁাচিয়েছেন। এটা কি কোনো শিক্ষাথীর্র কাজ? এটা কি কোনো শিক্ষাথীর্ করতে পারে?

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কথায় কথায় তারা বলে ক্লাস করবে না। ক্লাসে তালা দেয়, ক্ষতিগ্রস্ত কারা হবে? আমরা সেশনজট দূর করেছি। এদের কারণে এখন আবারও সেই সেশনজট। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকা খাবার, কোথায় আছে পৃথিবীর। আজ নতুন নতুন হল বানিয়েছি। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিট ভাড়া আর খাবারে বাজারদর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক।’

মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাবে। টেনশনে আমি বঁাচি না। আমি পুলিশকে, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকমীের্দর বলেছি- এই মেয়েদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।

তিনি বলেন, ‘বলেছি, কোটা সংস্কার আমরা করব। আমি তো বলেছি টোটাল কোটা বাদ দিতে। আমরা তো কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটিও করে দিয়েছি। তারা সেটা দেখছে। তাহলে এদের অসুবিধাটা কোথায়?’

এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

বৃহস্পতিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সরকারপ্রধানের প্রতি এই আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

রওশন বলেন, ‘কোটা নিয়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে অনেক বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে। তারা তো আমাদের সন্তান। তারা তো আবদার করবেই। তারা তো চাকরি চাইবে। তাদের চাকরিতে যেমন করে হোক প্রোভাইড করতে হবে। চাকরি দিতে হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সচেতন আছেন চেষ্টা করছেন। মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব তিনি যেন সহানুভ‚তির দৃষ্টি নিয়ে এই বিষয়টি বিবেচনা করেন।’

চলতি অধিবেশনের বাজেট বক্তৃতাতেও প্রধামন্ত্রীর প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতীয় পাটির্র জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন।
সংসদে পাস হওয়া বাজেট প্রসঙ্গে রওশন বলেন, ‘বাজেটে প্রণোদনা নেই। ব্যাংক লুটপাটকারীদের কর কমানো হয়েছে। ব্যাংক খাতে লুটপাট চলছে। মানুষের করের টাকায় দিতে হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ১৬ লাখ মানুষ ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে।’

সংসদে বক্তব্য দিতে উঠলে রওশন সবসময় খাদ্যে ভেজালের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই প্রসঙ্গ বৃহস্পতিবারও তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুযোগ করে তিনি বলেন, ‘যতবারই বলি প্রধানমন্ত্রী হেসে উড়িয়ে দেন। হেসে উড়িয়ে দেয়ার কথা না। ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে গড়বেন? আবহাওয়া পযর্ন্ত দূষিত। নদী ভালো রাখেনি। আবহাওয়ায় সীসা। এগুলো দেখতে হবে।’

রাজধানীতে যানজট নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা ‘সাহস’ করে কথা বলতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী নেতা।
‘প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি চলাচল করলে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। রাস্তায় যানজট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। অন্য রাস্তায় যাওয়ই যায় না। বৃষ্টিতে সব রাস্তা ভাঙা। কেউ বলে না সাহস করে। এখানে যারা আছেন সবাই জানেন। রোডস হাইওয়ে মন্ত্রী আছেন। কিন্তু কারও সাহস নেই বলার। সবাই যানজটে নাকাল থাকে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নদী থেকে বালু তুলছে। আপনি জনগণের নেতা আপনি বের হয়ে দেখতে না পারলে কিভাবে হবে। বের হয়ে দেখেন। আপনাকে রোধ করতে হবে এগুলো। আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছি আমরা। কত ঝুঁকি নিয়ে নিবার্চন করেছি। আপনি জাতির পিতার কন্যা। আমার কাছে ক্ষমতা থাকলে আমি দেখতাম।’

অথর্বছর পরিবতের্নর দাবি করে রওশন বলেন, ‘অথর্বছর পবিতের্নর কথা বলতে চাই। ব্রিটেনে অথর্বছর শুরু হয় এপ্রিল মাসে। যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে হতে পারে। যখন অর্থবছর শুরু হয় তখন বৃষ্টি আসে। কাজ ঠিকমত করতে পারি না। অথর্বছর পরিবতের্নর বিষয়ে সবাই বিবেচনা করবেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনের আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। ছবি: দীপু মালাকার

সংবাদ সম্মেলনের আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের ওপর আজ শনিবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ছাত্রলীগ এ হামলা চালিয়েছে। তাঁদের এক নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রলীগ অজ্ঞাত স্থানে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ছাত্রলীগ বলছে, আন্দোলনকারীদের একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সাধারণ ছাত্ররা তাঁদের প্রতিহত করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আজ বেলা ১১টার সময় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনের আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে মারধর করা হয়।মারধরের একপর্যায়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ছবি: দীপু মালাকার

মারধরের একপর্যায়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের ভাষ্য, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল থেকে পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানকে ছাত্রলীগের কয়েকজন তুলে নিয়ে গেছেন। তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের হামলায় তাঁদের ১২-১৩ জন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, আতাউল্লাহ, আরিফ, মামুন ও জসিমের নাম বলেন তিনি।

এর আগে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর পিস্তল ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়। আমরা তাদের কাছে এটা প্রত্যাশা করিনি।’ রাশেদ খান ওই সময় আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পরে জানানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উপস্থিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় আন্দোলনকারীদের পাঁচ-ছয়জনকে মারধর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, দুপুর ১২টার কিছু পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের মোহাম্মদ আরশ উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘ধর ধর’ বলে তাঁকে মারতে থাকেন। এ সময় তিনি জ্ঞান হারান। পরে তাঁকে রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা। ছবি: দীপু মালাকার

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। তবে মোটরসাইকেলটি কার, তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপসম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, ‘কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট ঘোষণার পর যাঁরা আন্দোলনে ছিলেন, তাঁরা পড়ার টেবিলে ফিরে গেছেন। কিন্তু একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের সাধারণ ছাত্ররা প্রতিহত করেছেন। আমরা প্রথমে ছাত্র, পরে ছাত্রলীগ। এ ঘটনা ছাত্রলীগ ঘটায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাঁদের প্রতিহত করেছেন।’

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের ঘোষণার আড়াই মাসেও কোটা সংস্কারের কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এ নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আজ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল।

কুষ্টিয়ায় ছাত্রদল ও বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মী আটক

অভিযান চালানো বাড়িটি
অভিযান চালানো বাড়িটি

কুষ্টিয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৯ জুন) রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম বাড়িটিতে অভিযান চালায়।

অভিযানে নবগঠিত কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মিথুন, সাধারণ সম্পাদক এসআর শিপন, যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাব্বী, রফিকুল ইসলাম প্রশান্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রাসেলসহ অন্তত ৩০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ ছিল ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর বাড়িতে বিএনপির একদল নেতাকর্মী বিস্ফোরক দ্রব্যসহ নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই সংবাদের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত নেতারাসহ ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর সঙ্গে তার বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নেতা-কর্মীদের আটক করে।

গত ০৫ জুন বাংলাদেশ জাতীয়াতাবাদী ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকরামুল হাসান ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন।

৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি হলে দেশ নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলায় পড়বে : বি. ওয়ার্কার্স পার্টি

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য জননেতা কমরেড আবু হাসান টিপু বলেছেন, ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি হলে দেশ নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলায় পড়বে। জনগণ ৫জানুয়ািরর নির্বাচনের পূনরাবৃত্তি দেখতে চায়না। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই কায়দায় হলে দেশ এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলায় নিপতিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৪তম পুনর্গঠন বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা অফিসে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

১৪তম পুনর্গঠন বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সভাতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি পলিট ব্যুরোর সদস্য জননেতা কমরেড আবু হাসান টিপু বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনক হলও সত্য, যে আওয়ামী লীগ একসময় ভাত ও ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন করেছে আজ তারাই জনগণের ভাত ও ভোটাধিকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, আবু হাসান টিপু বলেন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যূনতম গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে বিদায় দিয়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে তারা সাধারণ নিয়মে পরিণত করেছে। মাদক বিরোধী বর্তমান অভিযানের লক্ষ্য মাদক নির্মুল নয়; লক্ষ্যটা রাজনৈতিক। আর তা হচ্ছে গণআতংক তৈরী করে নিজেদের পক্ষে আগামী নির্বাচনের জমিন তৈরী করা।

সভাপতি হিসাবে বক্তৃতাকালে শ্রমিকনেতা মাহমুদ হোসেন বলেন, সরকারের বেপরোয়া তৎপরতায় দেশের মানুষের জানমাল আজ গুরুতর হুমকির মুখে। সরকার মুখে উন্নয়নে কথা বললেও বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন নেই। তিনি অনতিবিলম্বে দমন-পীড়নের পথ পরিহার করে অবাধ নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির দাবী করে বলেন সময় এখনো একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। নির্বাচন কমিশনের সংলাপে বিপ্লবী ওয়র্কার্স পার্টি উত্থাপিত ২৩ দফা বাস্তবায়ন করুন।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি শ্রমিকনেতা মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- শহিদুল আলম নাননু, রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম হাবিবুর রহমান আঙ্গুর, নাজমুল হাসান নাননু, আইউব আলী, রোকসানা বেগম, মোক্তার হোসেন ও মুক্তা বেগম প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ