ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই একাকী ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এদিন বাড্ডায় আমি এক পরিচিত ভদ্রলোকের বাসায় পলাতক অবস্থায় ছিলাম এরশাদ সরকারের গ্রেফতার এড়ানোর উদ্দেশ্যে। পত্রিকায় জানতে পারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এককভাবে এরশাদ ঘোষিত সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলাম বিধায় এই সিদ্ধান্তের কথা পত্রিকা পড়ে আমি বিষ্মিত হই। তিনি প্রেসিডেন্ট এরশাদের সাথে ব্যক্তিগত আলোচনা করে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তখন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাত-দল আন্দোলনে মাঠে ছিল। বেগম খালেদা জিয়া এই নির্বাচনের প্রতিবাদ করে নির্বাচন বয়কট করেন। উল্লেখ্য, ৮ দলের নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ ও তার সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এই নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এরশাদের নিকট থেকে ৯ কোটি টাকা অর্থ গ্রহণের অভিযোগ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই সংসদ নির্বাচনে আমিও প্রার্থী ছিলাম। বিধায় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আওয়ামী লীগের ফান্ড থেকে আর্থিক সাহায্য দাবী করেছিলাম। শেখ হাসিনা আমার দাবী প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন- আওয়ামী লীগের ফান্ডে কোন টাকা-পয়সা নেই। এ সময় গুলশানে বসবাসকারী ভারতের গুজরাট থেকে আগত বাংলাদেশের নাগরিক শিল্পপতি আজিজ সাত্তার সাহেবের সাথে আমি দেখা করি। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেবের একজন ভক্ত ও সমর্থক ছিলেন। তার কাছে আমি নির্বাচনের জন্য আর্থিক সাহায্য অথবা নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি চেয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, তিনি এরশাদ প্রদত্ত নির্বাচনী অর্থ শেখ হাসিনার কাছে দিয়েছেন। তার পক্ষে কোন সাহায্য করা সম্ভব নয়। একথা শুনে আমার কিছু বুঝতে বাকি রইল না। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এরশাদ শেখ হাসিনার তালিকাভুক্ত প্রদত্ত প্রার্থীদের বিজয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ঐ তালিকায় আমার নাম ছিল না। নির্বাচনে এরশাদ ভোট ডাকাতি করেছিল। ভোট ডাকাতি করে অধিকাংশ আসনে তার দলের প্রার্থীদের জয়ী করে এনেছিলেন। আমার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক ভোট ডাকাতি হয়েছিল। চারটি ইউনিয়নে আমার পক্ষের কোন এজেন্টকে পুলিং সেন্টারে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এর মধ্যে আমি কয়েকটি সেন্টারে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে এরশাদের দলীয় ক্যাডাররা বন্দুক দিয়ে গুলি করে ভোট কেন্দ্র ফাঁকা করে দেয়। জীবনের ভয়ে আমি ও আমার কর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করি।”
“রাজনীতির সেকাল ও একাল”
শেখ আবদুল আজিজ
শেখ মুজিবের মন্ত্রীসভার সদস্য, ১৯৮৬ সালে বাগেরহাট থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
