নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এসআই সামছুল প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা হাতিয়ে অভিযোগে বন্দর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এক এস আই সামছুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে জেলা পুলিশ তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযোগ করেন। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, বন্দর ফরাজীকান্দা এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী সাগর মিয়াকে গত সোমবার রাতে বন্দর থেকে এসআই সামছুল আলম গ্রেফতার করেন। পরে পরিবারের কাছে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা নিয়ে মঙ্গলবার ৫৫ পিস ইয়াবা বড়ির মামলা দিয়ে সাগর মিয়াকে আদালতে পাঠান এসআই সামছুল আলম। বুধবার সাগরের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে রাতেই এস আই সামছুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়।

সাগরের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, টাকা না দিলে স্বামীকে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হবে বলে পুলিশ সামছুল আলম বলে। পরে স্বামীর জীবন বাচাঁতে ভয়ে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা দেই। তার পরে ও ইয়াবার মামলা দিয়েছে। তাই বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে লিখিত বাবে জানিয়েছি।

বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি এমদাদুল হক বলেন, সাগরের স্ত্রী শাহনাজ বেগম অভিযোগ এসআই সামছুল আলমকে বুধবার রাতে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।

উলে­খ্য, এসআই সামছুল আলম গত ৮ জুন বন্দর পুলিশ ফাঁড়িতে যোগ দেন। এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। সিদ্ধিরগঞ্জেও তিনি বেপোরোয়া ছিলেন। সেখানে তিনি সাদা পোষাকে কনষ্টেবল সাইদুল ও সোর্স নিয়ে ধাবড়িয়ে বেড়াতেন। অপরাধীদের সাথে সাধারন মানুষকেও হয়রানি করতেন বলে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী অভিযোগ করেছেন।

ভেজাল খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব

শুধু রমজান মাস এলেই বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট, হোটেল মালিক কিংবা ফলের আড়তদাররা খাদ্যে ও ফলে ভেজাল মেশানো শুরু করেন না। তারা শতভাগ লাভের আশায় বছরের পর বছর এসব অখাদ্য বিক্রি করে আসছে। ভোজনরসিক বাঙালিও পরম তৃপ্তি নিয়ে তা খেয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন ডা. তাজবীর আহমেদ-

রমজান মাস এলেই যেন শুরু হয় ভেজালবিরোধী অভিযান। আর এসব অভিযানের পর দোষি রেস্টুরেন্টগুলো জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেই রেহাই পেয়ে যায়। আর সেই সঙ্গে পরবর্তী একবছর ভেজাল খাবার পরিবেশনের এক অলিখিত লাইসেন্সও যেন পায়!

এক্ষেত্রে বিক্রেতাদের দোষ দিয়েই বা কী লাভ? কারণ তারা জানে- এ দেশের মানুষ খাবার কেনে দোকানের বাহারি আলোকসজ্জা, ব্র্যান্ড কিংবা রং-বেরঙের মোড়ক দেখে। চটকদার পরিবেশনার আড়ালে তাই অস্বাস্থ্যকর, নোংরা রান্নাঘরের দুর্গন্ধ নিমিষেই হারিয়ে যায় সুসজ্জিত শোরুমের সুরভিত এয়ার ফ্রেশনারে! অপরিণত ফলগুলোও তাই গাছপাকা হয়ে যায় বিষাক্ত রাসায়নিকের মাত্রাহীন ব্যবহারে! আর আমদানিকৃত ফলে ফর্মালিনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে পত্রিকার প্রতিবেদন তো সবারই জানা।

এ কথাগুলো অবিশ্বাস্য মনে হলে গত একমাসে ভেজালবিরোধী অভিযানে অভিযুক্ত দোকানগুলোর সামনে ইফতারের আগে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় নিজ চোখে দেখে আসতে পারেন। তখন এটাও উপলব্ধি করতে পারবেন যে, ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক জরিমানাকৃত অর্থের পরিমাণ- সেই দোকানগুলোর একদিনের মুনাফার এক দশমাংশ মাত্র!

খুব জানতে ইচ্ছে হয়, ক্রেতাসাধারণ আসলে কতটুকু সচেতন? সব কিছু জেনেশুনে- এই আমরাই কেন বারবার চলে যাই সেসব দোকানগুলোতে? কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে কিনে আনা বিষাক্ত ফল কিংবা ভেজাল খাবার প্রিয়জনের মুখে তুলে দিতে পেরে আমরা হয়তো আনন্দিত হই। কিন্তু একবারও কেন ভাবি না- আমাদের অসচেতনতা এবং প্রতিবাদহীনতাই আমাদের আপনজনদের অপূরণীয় ক্ষতির মূল কারণ?

একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, গত একবছরে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ জাপানে’ খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার খবর যেমন শুনিনি তেমনি কোনো রেস্টুরেন্টে বাসি-পচা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করতেও দেখিনি। খোদ টোকিওতেই অনেক বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট আছে কিন্তু সেই মালিকরাও অধিক মুনাফার আশায় অসুস্থ কোনো প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেননি। আর জাপান সরকারের খাদ্য অধিদফতরের কঠোর আইন ও মনিটরিং ফাঁকি দিয়ে খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার কথা চিন্তাও করা কঠিন। এ আইন মান্য করা জাপানি রেস্টুরেন্টগুলোর জন্য যেমন প্রযোজ্য তেমনি ইতালীয়, মেক্সিকান বা ভারতীয় রেস্টুরেন্টের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

জাপানের কথা শুনে পাঠকগণ ভাবতে পারেন, আইনের সঠিক প্রয়োগই হয়তো ভেজাল খাদ্যের অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সবচেয়ে জরুরি জিনিস হলো- ভোক্তাদের সচেতনতা। সবাই যদি আমরা সরকারের আশায় বসে থাকি, তাহলে এই সমস্যার সমাধান হতে হয়তো কয়েক যুগ লেগে যাবে। আর কালের পরিক্রমায় ভেজাল খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাবে আপনার শরীরেই তখন বাসা বাঁধতে পারে মরণঘাতী ক্যান্সার কিংবা বিকল হতে পারে কিডনি!

জীবন সায়াহ্নে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ না করে; সবাই যদি এখনই একটু সচেতন হই- তাহলে হয়তো আগামী প্রজন্ম নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা পেতে পারে। সচেতনতা দিয়ে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তখন বয়কট করা যেতে পারে ভেজাল বিক্রেতাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তাতেও ভেজাল দেওয়া বন্ধ না হলে- ঐক্যবদ্ধভাবে খুঁজে বের করতে হবে নতুন কোনো উপায়। কিন্তু তাই বলে, নীরবে এই অপরাধ আর কতদিন সহ্য করবো আমরা? দেশব্যাপী ভেজাল খাদ্য পরিবেশনের এই ঘৃণ্য মহোৎসব কি শেষ হওয়ার নয়?

মনে রাখবেন, ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে- তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে’।